ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ অাপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৭:৩৪

প্রিন্ট

পিন্টুর বাসা থেকে ২১ আগস্ট হামলার গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়

অনলাইন ডেস্ক

বিএনপি নেতা ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর সরকারি বাসভবন থেকে ২১ আগস্ট হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেডগুলো সরবরাহ করা হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট সকালে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সীসহ অন্য জঙ্গিরা পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন থেকে ১৫টি আর্জেস গ্রেনেড ও ২০ হাজার টাকা গ্রহণ করে। পরে ওইদিন জঙ্গি আহসানউল্লাহ কাজলের রাজধানীর মেরুল বাড্ডার বাসা থেকে প্রস্তুতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সিনিয়র এডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আজ দশম দিনের মতো যুক্ততর্ক শুনানিতে মামলার অন্যতম আসামী মাওলানা মঈনউদ্দিন ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির আলোকে এ তথ্য তুলে করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক পেশ আজ অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম কাল ১৫ নভেম্বর বুধবার পর্যন্ত মূলতবি করা হয়েছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে এ মামলার বিচার চলছে। 

যুক্ততর্কে সৈয়দ রেজাউর রহমান আজ মামলার অন্যতম আসামী মাওলানা মঈনউদ্দিন ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ’র জবানবন্দী তুলে ধরেন। 
মুফতি হান্নানের জবানবন্দি সমর্থনে রাষ্ট্রপক্ষে ১২জন সাক্ষি ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তারা হলেন-গোলাম রাব্বানী, মো.তারেক আযম, মো. সাদেক হোসেন, মো. মকবুল হোসেন, আবু হেনা মো. ইউসুফ, মেজর জেনারেল (অব.) সাদেক হাসান রুমি, লে. কমন্ডার মিজানুর রহমান (এক্স), মেজর (অব.) মো. আতিকুর রহমান, নাহিদ লায়লা কাকন (মামলার আসামী পাকিস্তানী জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই তৈয়বার সংগঠক মাজেদ ভাটের স্ত্রী), মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ, মো. আব্দুল আজিজ সরকার ও মেজর (অব.) সৈয়দ মনিরুল ইসলাম। 

তাদের দেয়া জবানবন্দি যুক্তিতর্কে গতকাল ও আজ উপস্থাপন সম্পন্ন করেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি। এসব জবানবন্দিতে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ঘটনার ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে। এছাড়া জঙ্গি মুফতি হান্নানসহ অন্য জঙ্গিদের সিলেটের বিভিন্ন স্থানে, সিপিবির সমাবেশ, উদীচীর সমাবেশে হামলার তথ্য উঠে এসেছে। ২১ আগস্ট হামলা বাস্তবায়নে বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িতদের তথ্য উঠে এসেছে। 

মুফতি হান্নানসহ ১২ আসামী এ মামলায় ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি পেশ করেছে। এর মধ্যে মুফতি হান্নান ও মাওলানা মঈনউদ্দিন ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ’র জবানবন্দী রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তিতর্কে উপস্থাপন করেছে।
সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে মোট ৫১১ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) সিআইডির জ্যেষ্ঠ বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল কাহার আকন্দসহ ২২৫ জনের সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামীপক্ষেও ২০ জন সাফাই সাক্ষ্য দিয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এসব সাক্ষ্য জেরা করেছে। আসামীপক্ষের কোন কোন সাক্ষ্যকে জেরায় তাদের বিরুদ্ধে গিয়েছে বলে দাবি করেন সৈয়দ রেজাউর রহমান। ২১ আগস্টের ওই নৃশংস হামলায় পৃথক দুটি মামলায় মোট আসামী ৫২ জন। 

মামলার আসামী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপি নেতা সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২৩ জন কারাগারে রয়েছে। এ মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী, লে.কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক এবং মামলার সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা- সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদসহ মোট ৮ জন জামিনে রয়েছে। তারেক রহমান, বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মেজর জেনারেল (এলপিআর) এটিএম আমিন, লে.কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দারসহ ১৮ জন এখনো পলাতক। এছাড়া ৩ জন আসামী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুফতি হান্নান ও শরীফ সাইদুল আলম বিপুলের অন্য মামলায় মৃত্যুদন্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পলাতক আসামীদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী রয়েছেন। 

প্রধান কোঁসুলিকে যুক্তিতর্ক পেশে আরো সহায়তা করছেন আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল, আকরাম উদ্দিন শ্যামল, ফারহানা রেজা, মো. আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত ও আশরাফ হোসেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল সোবহান তরফদারসহ অন্যান্যরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ২৩ অক্টোবর থেকে রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু হয়েছে। 

বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের এক সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। ওই নৃশংস হামলায় ২৪ জন নিহত ও নেতকর্মী-আইনজীবী-সাংবাদিকসহ পাঁচ শতাধিক লোক আহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের পতœী আইভি রহমান। 

তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের প্রথম সারির অন্যান্য নেতা এই গ্রেনেড হামলা থেকে বেঁচে যান। এতে অল্পের জন্য শেখ হাসিনা প্রাণে বেঁচে গেলেও গ্রেনেডের প্রচন্ড শব্দে তার শ্রবণশক্তিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত