ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ২৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৫০

প্রিন্ট

মাহবুবুল হক শাকিল : জীবন যার কবিতা, মৃত্যুও

অনলাইন ডেস্ক

ছাত্ররাজনীতির জনপ্রিয় মুখ মাহবুবুল হক শাকিলের বাড়ি ময়মনসিংহ। শহরের বাঘমারা এলাকায় তার বেড়ে ওঠা। জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর, টাঙ্গাইলে নানার বাড়িতে ।

ছোটবেলা থেকেই রাজনীতির সাথে পরিচয়। শৈশবেই আইনজীবী বাবা মো. জহিরুল হককে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখেছেন। সৈয়দ নজরুল ইসলামের প্রিয় শিষ্যদের একজন জহিরুল হক এখন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। শাকিলের একমাত্র সহোদর নাইমুল হক বাবু পেশায় সাংবাদিক।

শাকিলের মা স্কুল শিক্ষক নুরুন নাহার খান সন্তানের মননশীলতা গড়ে তোলার ব্যাপারে ছিলেন যত্নশীল। তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নজরদারিতে বেড়ে ওঠা শাকিলের ব্যক্তিত্বে তাই এসময়ের রাজনীতিকদের মধ্যে বিরলতম গুণ শিল্পরসিকতা যুক্ত হয়েছিলো। যা তাঁকে কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী মহলের ‘শেষ ভরসায়’ পরিণত করেছিলো। কবিতা তিনি ছোটবেলা থেকেই লিখতেন। কিন্তু সেসব লালন করতেন গোপনে। রাজনীতির কবিতাই তাকে টেনেছে আশৈশব। আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হলেও স্কুল জীবন তাকে টেনেছিল প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনে। রাজনীতির হাতেখড়ি ছাত্র ইউনিয়নে।

ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের মেধাবী ছাত্র মাহবুবুল হক শাকিল ১৯৮৪ সালে এসএসসি পাস করেন। আনন্দ মোহন কলেজে ভর্তি হবার পর যোগ দেন বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগে। তখন থেকে রাজনীতিই তার ধ্যান জ্ঞান। ১৯৮৬ সালে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯০ সালে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ১৯৯১ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করেন।

বাবার তাড়নায় একসময় এলএলবি পরীক্ষায়ও বসতে হয় তাকে। পাসও করেছিলেন। যদিও কখনো আইন ব্যবসায় নামেননি।

মায়ের সাথে মাহবুবুল হক শাকিল। -ফাইল ছবি

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল সেই সময়ে মাহবুবুল হক শাকিল খুব দ্রুতই নেতৃত্বগুণে ছাত্রলীগের প্রথমসারির নেতাদের চোখে পড়েন। একে একে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সদস্য, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ছিল তার নিবিড় যোগাযোগ ও সম্পর্ক।

২০০০ সালে আইনজীবী নিলুফার আনজুম পপির সাথে তাঁর বিয়ে হয়। শাকিল-পপি দম্পতির একমাত্র সন্তান জাকিয়া রুবাবা মৌপি এখন এইচএসসি শিক্ষার্থী। ২০০২ সালে আওয়ামী লীগের গবেষণা সেল সিআরআই-এর শুরুর যাত্রা থেকে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জড়িত ছিলেন শাকিল।

ছাত্ররাজনীতি করার সময় থেকেই বক্তৃতা-বিবৃতি ও প্রেস রিলিজ তৈরির কাজ নিজ উদ্যোগেই করতেন। ছাত্ররাজনীতি শেষ করে দলীয় নেত্রীর পক্ষে নানাবিধ লেখালেখির কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ২০০১-২০০৬ সালের বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার প্রেস সহকারীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরে মাহবুবুল হক শাকিলকে উপ-প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ দেন এবং পরবর্তীতে যুগ্ম-সচিবের মর্যাদায় বিশেষ সহকারী (মিডিয়া) হিসেবে নিয়োগ দেন।

শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে পুনরায় সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরে মাহবুবুল হক শাকিলকে অতিরিক্ত সচিবের মর্যাদায় বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিষ্ঠা ও বিশ্বাসের সাথে তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।

শিল্পরসে জারিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাহবুবুল হক শাকিলের রয়েছে তিনটি কাব্যগ্রন্থ- খেরোখাতার পাতা থেকে (২০১৫, অন্বেষা প্রকাশন), মন খারাপের গাড়ি (২০১৬, অন্বেষা প্রকাশন) এবং জলে প্রুজি ধাতব মুদ্রা (২০১৭, অন্বেষা প্রকাশন)।

২০১৬ সালে পাঞ্জেরী বুক শপ-পিবিএস থেকে বের হয় শাকিলের কবিতা আবৃত্তির সিডি ‘রাতের এপিটাফ’। অবশ্য শাকিলের মৃত্যুর পরে ২০ ডিসেম্বর এর মোড়ক উন্মোচিত হয়। এছাড়া শাকিলের একমাত্র ‘ফেরা না ফেরার গল্প’ শিরোনামে একটি ছোটগল্পের সংকলন ২০১৭ সালে প্রকাশ করে  প্রকাশনী সংস্থা অন্যপ্রকাশ।

বর্ণময় ও ব্যস্ততম রাজনৈতিক জীবনে মাহবুবুল হক শাকিল ভারত, জাপান, লন্ডন, আমেরিকা, ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, কানাডা, সুইজারল্যান্ডসহ এশিয়া, আমেরিকা ও ইউরোপের অধিকাংশ দেশ সরকারি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সফর করেছেন।

২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর আকস্মিক মৃত্যুর পরে মাহবুবুল হক শাকিলকে তার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহ শহরের ভাটিকাশর মসজিদের পাশের কবরস্থানে ৭ ডিসেম্বর সমাহিত করা হয়।

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত