ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ৩৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:২৩

প্রিন্ট

ফুলকপি চাষে বগুড়ার মকবুল হাসে

বগুড়া প্রতিনিধি

তার বয়সে ছাপ রয়েছে। কাজের বয়সে কোন ছাপ নেই। ষাট বছর পেরিয়েও নিজের পরিবারের জন্য হাড়ভাঙ্গা শ্রম দিয়ে পেয়েছেন আর্থিক সফলতা। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ষাটোর্ধ মকবুল হোসেন ফুলকপি চাষ করে পেয়েছেন এই সফলতা। 

জানা যায়, শীতের সবজির মধ্যে ফুলকপি অন্যতম। তাই এর চাহিদা যেমন বেশি, তেমনি এ সবজি চাষে মুনাফাও বেশি। তবে তা হতে হবে আগামজাতের ফুলকপি। চলতি বছর এ কৌশল অবলম্বন করেই শাজাহানপুরে চাষ হয়েছে ৬০ হেক্টর ফুলকপি, ৬০ হেক্টর বাঁধা কপি এবং ৫০ হেক্টর টমেটো। ফুলকপির বাম্পার ফলন হওয়ায় অধিক লাভবান হয়েছেন এ উপজেলার সবজি চাষিরা। এরমধ্যে শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের জোঁকা গ্রামের হতদরিদ্র চাষি মকবুল হোসেন। তার সাড়ে ১১ শতক জমিতে মধ্য আগাম জাতের হোয়াইট মাউণ্টেন (সাদাজাতের) ফুলকপির চাষ করেছেন। মাত্র ২ মাস আগে তিনি শাহ্ নগর এলাকা থেকে ফুলকপির চারা কিনে জমিতে লাগিয়েছিলেন। 

গত ২ সপ্তাহে তিনি ১০ মণ ফুলকপি বিক্রি করে ৭ হাজার টাকা পেয়েছেন। আগামী ২ সপ্তাহে ওই জমি থেকে তিনি আরও ১০ মন ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন। বর্তমানে প্রতি মণ ফুলকপি ৬ শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই হিসেবে তিনি সাড়ে ১১ শতক জমি থেকে ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকার ফুলকপি বিক্রি করতে পারবেন। অপরদিকে চারা ক্রয়, জমি চাষ, জৈব সার প্রয়োগ, পানিসেচ, নিরানী এবং ফেরোম্যান ট্র্যাপ তৈরি বাবদ প্রায় ৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই মাসে ফুলকপি থেকে তার নীট আয় হচ্ছে ১২ হাজার টাকা।

ফুলকপি চাষি মকবুল হোসেন জানান, তার নিজস্ব জমি মাত্র ১৯ শতক। এর মধ্যে ১১ শতক জমিতে ফুল কপি চাষ করে তিনি প্রায় ৮ হাজার টাকা আয় করেছেন। এরমধ্যে তার ফুলকপি চাষে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকা। এই সামান্য জমিতে সারা বছর তিনি সবজি চাষ করেন। ১২ মাসের একটি সপ্তাহও তার জমি পতিত থাকেনা। উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করে ২ ছেলে, ১ মেয়ে, নাতী-নাতনীসহ তার ৮ সদস্যের সংসার চলে। নিজের জমির কাজ না থাকলে অবসরে তিনি অন্যের জমিতে দিন মজুর হিসেবে কাজ করেন। তিনি জানান, এ বছর তিনি সাদাজাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। এইকপি দ্রুতবাড়ে, ওজন বেশি হয় এবং এর ফুলগুলো দেখতেও সুন্দর বলে বাজারে এই ফুলকপির চাহিদা রয়েছে। 

একই গ্রামের আরেক দরিদ্র মৃত হবিবর রহমান মন্ডলের পুত্র মোফা মন্ডল। তিনি মূলত কৃষি শ্রমিক। এর ফাঁকে অন্যের জমি পত্তন নিয়ে সারা বছর বিভিন্ন রকমের সবজি চাষ করেন। এভাবেই তার ৪ সদস্যের সংসার চলে। এ বছর তিনি পত্তন নেয়া ১৮ শতক জমিতে আগামজাতের ফুলকপি চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন। তার প্রত্যাশা সবজি চাষে লাভবান হওয়ার ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে তাকে আর দিনমজুরী করতে হবে না। 

তিনি বলেন, বাজারে অনেক জাতের সবজি বীজ ও চারা পাওয়া যায়। কিন্তু সব জাতের ফসলে ভাল ফলন পাওয়া যায় না। চলতি বছর আগাম জাতের ফুলকপি হোয়াইট মার্বেল, মধ্যআগাম জাতের ফুলকপি হোয়াইট মাউণ্টেন, শীতের মাঝখানে হোয়াইট এক্সেল জাতের কপি চাষে ভাল ফলন পাওয়া গেছে।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহেল মো. শামছুদ্দীন ফিরোজ জানিয়েছেন, শাজাহানপুরের সবজি চাষিরা জৈব সার এবং ফেরোম্যান ট্র্যাপের ব্যবহারে ভাল ফলন পাচ্ছেন। অপরদিকে ভোক্তারা পাচ্ছেন বিষ মুক্ত নিরাপদ সবজি। যা স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ দুটোর জন্যই মঙ্গল জনক।  

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত