ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ৩৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১০:১৪

প্রিন্ট

বোয়ালমারীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতাধিক পদে শিক্ষক নেই

ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট একশ একটি শিক্ষকের পর শুন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ৩৮টি পদ ও সহকারী শিক্ষকের ৪৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে। এছাড়া মাতৃত্বকালীণ ছুটি ও প্রশিক্ষণে রয়েছেন আরো ১৭ জন শিক্ষক। শিক্ষক না থাকায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১০৭ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মো শিক্ষকের পদ সংখ্যা রয়েছে পাঁচশ ৭৮টি। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি না থাকায় এবং অনেক শিক্ষক বদলী হয়ে যাওয়া ও অবসর নেয়ায় এ শুন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেস প্রকল্প বিদ্যালয় বিহীণ গ্রামে ১৫শ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রকল্পের আওতায় বোয়ালমারী উপজেলায় রয়েছে সাতটি বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়গুলোর মো ৩৫টি পদের মধ্যে শিক্ষক রয়েছে মাত্র ১৬জন। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে নিয়মিত নিয়োগপ্রাপ্ত রয়েছেন মাত্র ছয়জন শিক্ষক আর ১০ জন শিক্ষক অন্য সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ডেপুটেশনে আছেন। 

মোড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, তার স্কুলে পদ চারটি, যার মধ্যে দুইজন শিক্ষক প্রশিক্ষণে রয়েছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি। তিনি আরো জানান, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদর বিগত দুই বছর ধরে শুন্য রয়েছে।

আখালীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইমদাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের স্কুলের সাত পদের মধ্যে আমরা শিক্ষক রয়েছি চারজন। মো. শিক্ষার্থী ২৬৯জন। গত তিন বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য রয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষকের পদ শুন্য থাকায় সকল শ্রেনীর পাঠদান নিরবিচ্ছিন্ন করা যাচ্ছেনা। 

এদিকে অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, কিছু বিদ্যালয়ে যাতায়াত ব্যাবস্থা নাজুক হওয়ায় অনেক শিক্ষক সেসব বিদ্যালয়ে যেতে অনীহা থাকায় তারা বিদ্যালয়ে অনিয়মিতভাবে যাতায়াত করেন। এদর কেউ কেউ শিক্ষাকর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই বিদ্যালয়ে অনিয়মিত যাতায়াত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার দাস বলেন, নিয়োগ ও পদোন্নতি না থাকায় এবং অনেক শিক্ষক অবসরে যাওয়া ও বদলীজনিত কারণে আট বছর ধরে শিক্ষকদের এসব পদ শুন্য হয়েছে। সতিনি মনে করেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে সমস্যা আরো ঘণীভুত হবে। তিনি আরো বলেন, তোষামদি করে কেউ বিদ্যালয়ে অনিয়মিত যাতায়াত করেনা। সকল শিক্ষকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। কোন অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত