ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৬:২১

প্রিন্ট

বড় ধরণের জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ

বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ার শিবগঞ্জের মোকামতলা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের সামরিক প্রধান ও শুরা সদস্য বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাস্টারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

বুধবার মধ্যরাতে তাদের গ্রেপ্তারের সময় একটি ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ১৫ রাউন্ড গুলি, ৪টি বার্মিজ চাকু ও একটি চাপাতি উদ্ধার করে। 

বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে প্রেরণ করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন।এর আগে গ্রেপ্তারকৃতরা বগুড়ার শেরপুর উপজেলার জোয়ানপুরে আস্তানা গড়ে তোলে এবং সেখান থেকে বোমা সরবরাহ ও হামলার পরিকল্পনা করতো বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত)  মো. আসাদুজ্জামান বিপিএম তার সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চল সামরিক শাখার প্রধান বাবুল মাস্টার ও দেলোয়ার ওরফে মিজান মিস্ত্রী পুলিশের কাছে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত। নব্য জেএমবির এই সদস্যরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশেরে অন্য স্থানে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনার করছিলো। তবে পুলিশ সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে। 

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার রাত ১টার দিকে বগুড়া জেলা পুলিশ ও পুলিশ হেডকোর্য়টারের ইন্টেলিজেন্স শাখা যৌথভাবে এই অভিযান চালায়। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, দিনাজপুরের বিরামপুরের মৃত শফিকুল ইসলামের পুত্র জেএমবির উত্তরাঞ্চল সামরিক শাখার প্রধান ও সুরা সদস্য বাবুল আক্তার ওরফে বাবুল মাস্টার (৪৫)। নওগাঁ জেলার মান্দা থানার হাজী পাড়ার মৃত লোকমান আলীর ছেলে সুরা সদস্য দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিজান মিস্ত্রী (৩৯)। জেএমবি সদস্য সাতক্ষিরা জেলা সদরের তালোইগাছা এলাকার মৃত আব্দুল করিমের পুত্র আলমগীর হোসেন ওরফে আরিফ (২৮), গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার আড়াল এলাকার আহম্মেদ আলীর পুত্র আফজাল হোসেন ওরফে লিমন (৩২)।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেফতারকৃত বাবুল ২০০৩ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত উত্তরের জেলায় দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ২০১৭ সালে উত্তরবঙ্গ সামরিক প্রধানের দায়িত্ব পান। ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার খাদেম আলী হত্যা মামলার অন্যতম চার্জশিটভুক্ত আসামি। ২০১৬ সালের ২৫ মে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মহিমাগঞ্জ বাজারের জুতা ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিক হত্যাকাণ্ডে মোটরসাইকেল সরবরাহ করেছিল। 

গ্রেফতারকৃত দেলোয়ার হোসেন ২০০৫ সালে থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জেএমবিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। ২০১৩ সালে নতুন জঙ্গি সংগঠন জুনুদ আত তাওহীদ আল খিলাফাহ এ যোগদান করে। ২০১৪ সালে নব্য জেএমবিতে যোগ দিয়ে উত্তরের কয়েকটি জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতো। ২০১৫ সালে বগুড়ার শেরপুরের গাড়িদহের জোয়ানপুর কুঠিরভিটা গ্রামে উত্তরের নব্য জেএমবির আস্তানা গড়ে তোলে। এই আস্তানা থেকে উত্তরের বিভিন্ন জেলায় জেএমবির অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বোমা সরবরাহ, হামলার পরিকল্পনা, শিয়া মসজিদে হামলার পরিকল্পনা ও ২টি আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছিল এই আস্তানা থেকে। 
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। 

এইচএ/জেডএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত