ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ৬ মাঘ ১৪২৫ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ২৩:৫৩

প্রিন্ট

রসিক নির্বাচনে প্রার্থী তৃতীয় লিঙ্গের নাদিরা

জার্নাল ডেস্ক

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে তৃতীয় লিঙ্গের একজন প্রার্থী হয়েছেন। মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে ১৮, ২০ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নাদিরা খানম নামের এই প্রার্থী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন আরও সাতজন। আগামী ২১ ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে।

আঠারো বছর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর করেছেন নাদিরা। দিনাজপুরে বাড়ি হলেও এখন থাকেন রংপুর নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বালাপাড়া এলাকায়। রংপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন বলেন, নাদিরা তৃতীয় লিঙ্গের হলেও নারী হিসেবে ভোটার হয়েছেন।

২০০৭ সাল থেকে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন শুরু পর ভোটারের লিঙ্গ পরিচয় ছিল নারী কিংবা পুরুষ। ২০১৩ সালের নভেম্বরে হিজড়াদের লিঙ্গ পরিচয়কে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হয়। এরপর ২০১৪ সালের জুলাইয়ে ভোটার নিবন্ধন বিধিমালায় সংশোধন আনে নির্বাচন কমিশন। সেই থেকে নিবন্ধন ফরমে নারী, পুরুষ ও হিজড়া-তিন লিঙ্গ পরিচয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

দেশের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তৃতীয় লিঙ্গে প্রার্থী হিসেবে নাদিরাই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর আগে যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভা এবং সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভাতে সংরক্ষিত নারী আসনে তৃতীয় লিঙ্গের দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর বাবুখাঁ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গণসংযোগ করছিলেন নাদিরা। তিনি বলেন, সমাজের অবহেলিত, সুবিধাবঞ্চিত ও নির্যাতিতদের সহায়ক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি আমার মতো যারা তৃতীয় লিঙ্গ ওরাও কিছু কাজ করতে পারে এবং সমাজে তাদেরও কিছু কন্ট্রিবিউশন আছে। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।

হিজড়া হওয়ায় বাড়ি ছাড়তে হয় নাদিরাকে
আদমজী জুট মিলসের কর্মকর্তার চার সন্তানের মধ্যে নাদিরা দ্বিতীয়। তারা থাকতেন দিনাজপুরের নিউ টাউনের নিজ বাড়িতে। নাদিরা বলেন, বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ১৯৯১ সালে এসএসসি পাস করেন তিনি। ছোট বোনের বিয়ের কথা পাকাপাকি হওয়ার পর বরপক্ষ বিয়ে ভেঙে দেয়। তাদের ভয় হিজড়ার বোনের সন্তানও হিজড়া হতে পারে।

এরপর বাবার ইচ্ছা ছিল নাদিরাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া। কিন্তু মা রাজি নন। বাবা-মার এই টানাপোড়েনে নাদিরা নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে যান দিনাজুরের পার্বতীপুর মামার বাড়িতে।

মামার এক নিঃসন্তান বন্ধু নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেন নাদিরাকে। দিনাজপুর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ থেকেই বিএ পাস করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে এমএম প্রিলিমিনারিতে ভর্তি হন। পড়াশুনা শেষ করেন ১৯৯৯ সালে।

নাদিরা তৃতীয় লিঙ্গের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ন্যায় অধিকার তৃতীয় লিঙ্গ উন্নয়ন সংস্থা’। বর্তমানে তিনি এই সংগঠনের সভাপতি।

সূত্র: বিডিনিউজটুয়েন্টিফোরডটকম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত