ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১০:০৪

প্রিন্ট

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশেই ‘জঙ্গি আস্তানায়’ তিন লাশ

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশেই ‘জঙ্গি আস্তানায়’ তিন লাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ১০০ গজ দূরে রাজধানীর পশ্চিম নাখালপাড়ায় সন্দেহজনক জঙ্গি আস্তানা ‘রুবি ভিলায়’ মিলেছে তিন লাশ। র‍্যাব বলছে, নিহত তিনজনই জঙ্গি। ছয় তলা বাড়িটির পঞ্চম তলায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ সন্দেহে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটা থেকে অভিযান চালাচ্ছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে র‍্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল (বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট) ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে।

শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, সম্ভবত তারা আত্মঘাতী হয়েছে। ভেতরে একটি গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে জঙ্গিরা। নিহতরা সবাই ২০ থেকে ৩০ বছরের যুবক। আরো একটি গ্রেনেড ভেতরে রয়েছে। তাদের রুমে পিস্তলসহ আরো কিছু আর্মস রয়েছে।

ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে এ মাসের চার তারিখে বাসা ভাড়া নিয়েছিলো জঙ্গিরা। বেনজির আহমেদ জানান, জঙ্গিরা জাহিদ নামের একজনের ন্যাশনাল আইডি কার্ড ব্যবহার করে বাসাটি ভাড়া নেয়। তবে ভেতরে আরো একটি ন্যাশনাল আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। দুটি কার্ডেরই ছবি এক, নাম দুটি। মনে হচ্ছে, তারা ভুয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে বাসাটি ভাড়া নিয়েছে।

এছাড়া বাড়ির মালিক ও কেয়ারটেকারসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে বলে র‌্যাব সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, বোম ডিসপোজাল ইউনিট বাড়িটির ভেতরে ঢুকেছে। ওই ভবনের আশেপাশের ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ছয়তলা বাসার পঞ্চম তলায় মেস বাসা ছিল। জঙ্গিরা অবস্থান করছে- গোয়েন্দা সূত্রে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ওই বাড়িটি ঘিরে রাখে র‌্যাব। বাড়িটি ঘিরে ফেলার পর একটানা প্রায় ৪০ মিনিট গোলাগুলি চলে। ওই বাড়ি থেকে র‍্যাবকে লক্ষ্য করে ‘জঙ্গিরা’ গ্রেনেড ছোড়ে। এতে দুই র‌্যাব সদস্য আহত হয়েছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান জানান, বাড়ির মেইনগেইট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুরো ভবনে ৬৫ জন বাসিন্দা রয়েছে। তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ‘জঙ্গি আস্তানা’এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে চলাচল বন্ধ রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেশ কয়েকজনকে আটক করে র‌্যাব হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তবে ভেতরে ঢোকা যাচ্ছে না।

তিনি আরো জানান, এখনও সেইফ নয়। গ্রেনেড ও আইইডি ছড়িয়ে রাখা হয়েছে। সেসব নিরাপদে সরিয়ে নেয়া ও নিষ্ক্রিয় করতে আমাদের স্পেশালিস্ট টিম আসছে। বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ন্যাম ভবনের কাছেই পশ্চিম নাখালপাড়ার ১৩/১ ‘রুবি ভিলার’ অবস্থান। ধূসর ও হলুদ রঙমেশানো ছয়তলা বাড়িটি দেখতে সাদামাটা। স্থানীয় লোকজন বলছে, বাড়িটি ১৯৯০ সালের দিকে তৈরি। সাব্বির নামের এক ব্যক্তি বাড়ির মালিক। চারপাশে বড় বারান্দা রয়েছে। বাড়ির ছাদে মোবাইল অপারেটরের একাধিক টাওয়ার আছে। এই বাসার পাঁচতলাতেই মিলেছে ‘জঙ্গি আস্তানা’।

বাসার পশ্চিমদিকে বায়তুল আতীক জামে মসজিদ কমপ্লেক্স। এটি ছাপড়া মসজিদ নামে পরিচিত। এখান থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে বাড়ির অবস্থান। বাড়ির উত্তরদিকে ন্যাম ভবন। ন্যাম ভবন থেকে দক্ষিণ পাশে তিনটি বাড়ির পরই ‘রুবি ভিলা’।

অভিযানে আতঙ্কিত এই এলাকার বাসিন্দা নূরুজ্জামান মন্টু। ‘রুবি ভিলার’ কয়েকটি বাসা পরেই তিনি থাকেন। তিনি জানলেন, রাতের দিকে গোলাগুলির শব্দ পান। একপর্যায়ে মাইকিং করা হয়।

বাড়ির পাশে ঘুরছেন কামরান হোসেন। গাজীপুর থেকে এসেছেন তিনি। রুবি ভিলার ছয়তলায় তাঁর ছেলে পারভেজ হোসেন থাকেন। ছয়তলায় মেস করে বেশ কয়েকজন ছেলে থাকে। ভোররাত ৪টার দিকে পারভেজ ফোন করেন বাবাকে। তিনি বলেন, ‘গোলাগুলি হচ্ছে। কিছু বোঝা যাচ্ছে না। আমি কী করব?’

পারভেজ হোসেন ঢাকার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র। বাসার ছয়তলায় কয়েকজন যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তাদেরই মধ্যে হয়তো পারভেজ রয়েছেন। নিচে ঘুরছেন উদ্বিগ্ন বাবা।

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত