ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:১০

প্রিন্ট

নিহত ৩ জনই জেএমবি

গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হামলার পরিকল্পনা ছিল নিহত জঙ্গিদের: র‌্যাব

অনলাইন ডেস্ক

নাখালপাড়ায় সন্দেহভাজন জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে যারা নিহত হয়েছেন, তারা ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কোনো স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে জানিয়েছে অভিযান পরিচালনাকারী বাহিনী র‌্যাব। বাহিনীটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, এই তথ্য পেয়ে গোয়েন্দা অনুসন্ধান চালিয়েই আস্তানাটি খুঁজে পেয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে এই অভিযান শুরু করে র‌্যাব। আর দুপুরের পর গণমাধ্যম কর্মীদের বিস্তারিত জানান বাহিনীটির গণমাধ্যম শাখার প্রধান।

মুফতি মাহমুদ খান জানান, নিহত তিনজনের বয়স ২৫ থেকে ২৭ এর মধ্যে। তাদের নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পেরেছি তারা জেএমবি সদস্য। তাদের নেতৃত্বে কারা, কী বা তাদের নাম-ঠিকানা, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে জাহিদ পরিচয় দিয়ে এই বাড়িটি ভাড়া নেয়া হয়েছিল।

নিজেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেক চাকুরে পরিচয় দেয়া জাহিদ তার কথিত দুই ভাইকে নিয়ে ভাড়া করা বাসায় উঠেছিল। এ সময় দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র দেয় তারা। তবে তাতে ছবি একজনেরই ছিল। আর নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ছিল ভিন্ন। দুটি পরিচয়পত্রই বানানো হয়েছে।

মুফতি মাহমুদ জানান, রাতে বাড়িটির লোহার গ্রিল ভেঙে ঢুকেন তারা। আর এখানকার বাসিন্দাদের শুরুতে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে দোতলায় রাখা হয়। এরপর পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় যান তারা।

এই ভবনের এই দুটি তলায় তিনটি ফ্ল্যাটে মেস বানিয়ে বসবাস করতেন ২১ জন। আর তাদেরকে তত্ত্বাবধান করতেন রুবেল নামে একজন।

পঞ্চম তলায় সন্দেহভাজন কক্ষের দরজায় নক করলেই সেখানে গ্রেডেন ও গুলি ছোড়া হয় বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা। এতে আহত হয় দুই জন। এ সময় পাল্টা গুলিতে নিহত হন তিন জন।

পরে কক্ষটি থেকে দুইটি পিস্তল, তিনটি আইইডি, তিনটি আত্মঘাতি বেল্ট ও বিপুল বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব কমান্ডার জানান, তাদের অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে জঙ্গিরা গ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে গ্রেনেড ও আইইডি রেখে দিয়েছিল যেন গোটা বাড়িটিই উড়ে যায়। বাড়িতে ঢোকার পরই গন্ধ পেয়ে গ্যাসের লাইন কেটে দেন তারা।

কোথায় এবং কখন হামলার পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা-এমন প্রশ্নে র‌্যাব কমান্ডার বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত কোনো তথ্যই পাইনি। আর যারা নিহত হয়েছেন তাদের নাম পরিচয় সম্পর্কেও তেমন কিছু জানতে পারিনি। তাদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানাতে পারব।’

‘যে তিন জন এখানে নিহত হয়েছে তাদের বিষয়ে যে তথ্য আমাদের কাছে ছিল তারা সবাই জেএমবির সদস্য। তাদের পরিকল্পনা ছিল... ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল। সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর নাশকতার পরিকল্পনা আছে। বিধ্বংসী কোনো একটি কার্যক্রমের জন্য তারা এখানে জড়ো হয়েছিল।’

এখানে যারা নিহত হয়েছে, তাদের নেতা তারা-এমন প্রশ্নে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘এই মুহূর্তে বলা সম্ভবপর হচ্ছে না নেতা কারা। যে ডকুমেন্ট আছে, বাকিগুলো তদন্ত করেই বের হয়ে আসবে এর আগে যারা গ্রেপ্তার হয়েছিল অথবা নিহত হয়েছিল তাদের সঙ্গে কোনো কানেকশন আছে, অথবা এদের সাথে আর কারা কারা জড়িত আছে।’

শুক্রবার সকালে র‍্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ভবনে তিনজনের লাশ রয়েছে। এর মধ্যে জাহিদ ও সজীব নামের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে। তবে দুটির ছবি একই ব্যক্তির। পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুজনই একই ব্যক্তি। এটা নকল হতে পারে। এই পরিচয়পত্র দেখিয়ে তারা বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল। পরিচয় এখানো জানা যায়নি।’

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘জানুয়ারির ৪ তারিখ তারা বাড়িটি ভাড়া নিয়ে উঠেছিল। ব্যাপার হলো, বাড়ির মালিক এটা জানেনই না। মেস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন রুবেল। সে-ই মূলত মেস মেম্বারদের ঢোকাত, বের করত। দায় ছিল রুবেলের। বাড়িওয়ালা খোঁজ নিয়ে দেখেনি, রুবেল কাকে ঢোকাচ্ছে, কাকে বের করছে। জিজ্ঞাসাবাদে এতটুকু পাওয়া গেছে।’

বাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে কাকে বাড়ি ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, সেটি সঠিকভাবে যাচাই করার জন্য বাড়িওয়ালাদের প্রতি অনুরোধ করেন বেনজীর।

ভবনটিতে র‍্যাবের বম্ব ডিসপোজল ইউনিট, ডগ স্কোয়াড, ফরেনসিক ইউনিট ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালাচ্ছেন। বাড়ির বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে সকালে র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, এখানে কয়েকজন সংঘবদ্ধ ও সক্রিয় কয়েকজন জঙ্গি অবস্থান করছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রাত ২টা থেকে আসলে আমাদের এই অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের শুরুতে, যেহেতু এই ভবনটি নিচতলায় খুব সুরক্ষিত অবস্থায় ছিল, তাই আমাদের ফটক খোলার জন্য বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘কিন্তু সেটি কেউ না খোলায় ফটকটি ভাঙা হয়েছে। পরে আমরা নিশ্চিত হই যে, ভবনের পাঁচতলার একটি কক্ষে জঙ্গিরা আছেন। এরপরই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় দুই র‍্যাব সদস্য আহত হয়েছেন, একজনের স্প্লিন্টার লেগেছে, আরেকজন সামান্য আহত হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুফতি মাহমুদ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত