ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮, ১১ বৈশাখ ১৪২৫ অাপডেট : ১০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:০৮

প্রিন্ট

১৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা

দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. সেতাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ তহবিলের প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রশাসনসহ সর্বস্তরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দু’টি তদন্ত কমিটির প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিষয় প্রমাণিত হয়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ওই ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সরকারি হিসেব থেকে ৪ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এছাড়া একই প্রক্রিয়ায় আরো ১০ কোটি টাকা উত্তোলনের পায়তারা করছিলেন। এ খবর ছড়িয়ে গেলে জেলা প্রশাসন ওই টাকার চেক জব্দ করে। 

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দুলাল চন্দ্র সূত্রধর ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যেই মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। এ তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে সেতাফুল ইসলাম যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে সেজন্য মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এবং দুর্নীতি দমন আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে দুর্নীতি দমন কমিশনে চিঠি দিয়েছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। 

সূত্রমতে, গত বছর জেলার মিঠামইন উপজেলায় নতুন সেনানিবাস স্থাপন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ বাবদ প্রায় ৫শ' কোটি টাকা বরাদ্দ আসে। ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পাঁচ কোটি টাকার একটি চেক পরদিন ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মচারীদের বেতন-ভাতা শিরোনামে চলতি হিসাবে জমা হয়। ওই দিনই চেকের মাধ্যমে ২ কোটি টাকা এবং ৭ ডিসেম্বর অপর একটি চেকের মাধ্যমে ২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল। এ ছাড়াও ওই হিসাব থেকে তপন ইন্ডাস্ট্রিজের নামের একটি হিসেবে ৬ লাখ টাকা ব্যালেন্স ট্রান্সফার করেন তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সেতাফুলের সরকারি হিসাব নম্বরে ভূমি অধিগ্রহণের ৫ কোটি টাকা জমা করেন। কিন্তু পরে নিজেই তা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন বলে জানা যায়। জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখায় পাঠানো পাঁচ কোটি টাকার চেকটিতে প্রাপক হিসেবে ভূমি হুকুম দখল কর্মকর্তা, কিশোরগঞ্জকে লেখা হয়। জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিস থেকে সেতাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আরও একটি এলএ চেক উদ্ধার করা হয়। এই চেকের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা আরও ১০ কোটি টাকার তোলার পায়তারা করছিলেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসন ওই চেকটি জব্দ করে। ক্ষতিপূরণের টাকার বিপরীতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নামে আলাদাভাবে চেক ইস্যু হওয়ার কথা থাকলেও তা না করে ওই কর্মকর্তা টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অভিনব কৌশলের আশ্রয় নেন বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও সুস্পষ্ট গড়মিল পাওয়া যায় এলএ শাখার হিসাবের ৮ কোটি ৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার বিপরীতে ৬১টি চেকে। 

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল অফিস অর্ডারের মাধ্যমে তার সরকারি একাউন্টে টাকা নিয়ে নেন।

টাকা আত্মসাতের সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সেতাফুল ইসলাম শুক্রবার রাতে তার মুঠোফোনে বলেন, আমি প্রশাসনিক চক্রান্তের শিকার। এই পরিস্থিতি প্রশাসনিকভাবেই শেষ হতো। আমাকে সে সুযোগ দেয়া হয়নি। তার আগেই আমাকে বদলী করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মন যুগিয়ে চলতে না পারায় আমাকে ফাঁদে ফেলা হয়েছে। আমি এ দেশরই নাগরিক, তাই দেশ ত্যাগ করা আমার কোন কারণ নেই। ব্যাংক থেকে উত্তোলিত সকল টাকাই ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে সেতাফুল ইসলামকে পিরোজপুরে বদলী করা হয়। পরবর্তীতে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদানের 
পরপরই তাকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের পদে পদোন্নতি দিয়ে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বদলী করা হয়। 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত