ঢাকা, রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮, ১০ আষাঢ় ১৪২৫ অাপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০১৮, ১৪:৪৪

প্রিন্ট

রত্নগর্ভা মায়ের এক মেয়ে উপসচিব আরেক মেয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব

রত্নগর্ভা মায়ের এক মেয়ে উপসচিব আরেক মেয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নানশ্রী পশ্চিম আলমদী পাড়ার প্রয়াত মতিউর রহমান ছিলেন করিমগঞ্জ পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক। তার স্ত্রী সামসুন্নাহার শিরিন কাজ করতেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে। এই দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েই বিসিএস কর্মকর্তা। বড় মেয়ে মাহবুবা বিলকিস সম্প্রতি উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। ছোট মেয়ে আফছানা বিলকিস সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত রয়েছেন। সবার ছোট একমাত্র ছেলেও ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে স্নাতকোত্তর করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সন্তানদের নিয়ে গর্বিত রত্নগর্ভা মা সামসুন্নাহার শিরিন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে সামসুন্নাহার শিরিনের স্বামী করিমগঞ্জ পাইলট বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক মতিউর রহমান মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবনসংগ্রামের মধ্যে থেকেও দুই মেয়েকে গড়েছেন অন্যদের চেয়ে আলাদা করে, তৈরি করেছেন সফল মানুষ হিসেবে। একমাত্র ছেলেকেও মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করে চলেছেন নিরলসভাবে। এভাবেই জীবনসংগ্রামে সার্থক একজন মায়ের আদর্শ হয়ে ওঠেছেন সামসুন্নাহার শিরিন।

সামসুন্নাহার শিরিনের বড় মেয়ে মাহবুবা বিলকিস সম্প্রতি উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। ২৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ মাহবুবা বিলকিস ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন।

দ্বিতীয় সন্তান আফছানা বিলকিস পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে উন্নয়ন-৫ শাখায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূ-তত্ত্ব বিদ্যায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেছেন।

সামসুন্নাহার শিরিন জানান, তার শ্বশুর মাওলানা মরহুম ছালিম উদ্দিন ছিলেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে তাঁর শ্বশুর অবদান রেখেছেন। এরপরও স্বামীর অবর্তমানে সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে তাঁকে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে। সন্তানদের চাওয়া-পাওয়া, সাধ-আহ্লাদ মেটাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়েছে। এরপরও তিনি হাল ছেড়ে দেননি। সন্তানদের ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা করার জন্য প্রাণান্ত চেষ্টা করে গেছেন। সেই প্রচেষ্টার ফলও তিনি পেয়েছেন। তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়েই বিসিএসের মাধ্যমে চাকুরিক্ষেত্রে এখন নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখছে। একমাত্র ছেলেরও লেখাপড়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সেও বোনদের মতো একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

সামসুন্নাহার শিরিন বলেন, আমার দুই মেয়ের কৃতিত্বে আমি গর্বিত। তারা নিজেদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে আদর্শ হয়ে ওঠলেই আমার পরিশ্রম ও সংগ্রাম সার্থকতা পাবে।

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত