ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০১৮, ১৯:০৭

প্রিন্ট

নেপালে লাশের সারিতে রাজশাহীর দুই দম্পতি

প্রথমবার বিমান যাত্রাতেই লাশ হলেন বিলকিস

প্রথমবার বিমান যাত্রাতেই লাশ হলেন বিলকিস
রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী নগরীর শিরোইল এলাকার অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষিকা বিলকিস আরার দুই ছেলে কানাডায় থাকেন। ছেলেরা মাঝে মধ্যেই তাকে সেখানে বেড়াতে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বিলকিস আরা বড্ড ভয় করতেন বিমানে উঠতে। এ কারণে ছেলেদের আবদার পুরন হয়নি। তবে, এই ভয় কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন স্বামী অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হাসান ইমাম। কাছাকাছি দেশ নেপালে গিয়ে সেই ভয়টা কাটলে হয়তো পরের দফায় ছেলেদের কাছে যেতেন কানাডায়। কিন্তু সেই আশা আর পুরন হলোনা।

যে শংকায় এতকাল বিমানে উঠেননি বিলকিস আরা, ঠিক তেমনটাই ঘটে গেলো তার প্রথম বিমান যাত্রায় ! প্রথমবারের মত বিমানে উঠেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে লাশ হয়ে গেলেন বিলকিস আরা।

নেপালে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বিলকিস আরা ও তার স্বামী হাসান ইমাম দুজনই। এছাড়া, রাজশাহীর আরো এক দম্পতিও মারা গেছেন নেপালের দুর্ঘটনায়।

এদিকে, নিহত এই চারজনই আবার ছিলেন পরস্পর পরিচিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে একই বিভাগে পড়াশোনা করেছেন তারা। একসাথে নেপাল ভ্রমনে গেছিলেন তারা।

ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব হাসান ইমাম দুই বন্ধু। আর নজরুলের স্ত্রী মহিলা কলেজের শিক্ষিকা আক্তারা বেগম ও হাসান ইমামের স্ত্রী অবসর প্রাপ্ত কলেজ শিক্ষিকা বিলকিস আরাও। স্ত্রীদের সঙ্গে নিয়ে দুই বন্ধু বেড়াতে গিয়েছিলেন নেপালে। সোমবার বিকেলে নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় চারজনেই নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নজরুলের বাড়ি নগরের উপশহর ও হাসান ইমামের বাড়ি শিরোইল এলাকায়। গত বুধবার তারা রাজশাহী থেকে ঢাকায় যান।

দুই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ডেভলোপম্যান্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে তিনি অবসরে চলে যান। তার স্ত্রী আক্তারা বেগম রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষিকা। প্রায় ছয় মাস আগে তিনি অবসরে যান।

আর হাসান ইমাম সর্বশেষ ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ছিলেন। এর আগে তিনি শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ছিলেন। তিন বছর আগে তিনি অবসরে যান। আর হাসান ইমামের স্ত্রী বিলকিস আরা নাটোরের গোপালপুর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। তারা চারজনই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে লেখাপড়া করেছেন।

নিহত বিলকিস আরার ভাই ফারুক মোহাম্মদ আব্দুল মুমিন জানান, ‘আমাদের নয় ভাই-বোনদের মধ্যে পঞ্চম বিলকিস আরা। দুই ছেলে। তারা কানাডায় থাকে। তিনি জানান, বিলকিস আরা বিমানে উঠতে ভয় পেতেন। শুধু বিমানেই নয় দুরের যাত্রা করতেই ভয় ছিলো তার। এ কারণে তিনি কোনদিনই উড়োজাহাজে ওঠেননি। এমনকি তার দুই ছেলে মাকে একাধিকবার কানাডায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছে। কিন্তু বিমানে উঠার ভয়ে তিনি ছেলেদের কাছে যাননি।

এই প্রথম তিনি বিমানে উঠে নেপাল বেড়াতে যাচ্ছিলেন, আর প্রথম যাত্রাতেই নিহত হলেন বিলকিস আরা। ফারুক মোহাম্মদ আব্দুল মুমিন জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা যেমন জরুরী সেই সাথে নেপালের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষে কোন অবহেলা আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার।

এদিকে, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রুয়েটে কম্পিউটার এন্ড ইঞ্জিনিয়ানিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ইমরানা কবির হাসি। শিক্ষক ইমরানা কবির হাসি নেপালের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন থাকলেও মারাগেছেন তার স্বামী রকিবুল হাসান।

এনএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত