ঢাকা, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮, ৮ বৈশাখ ১৪২৫ অাপডেট : ১৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০১৮, ১৪:৪৩

প্রিন্ট

লাইফ সাপোর্টে পাইলট আবিদের স্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলার উড়োজাহাজের পাইলট ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের স্ত্রী আফসানা খানম হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে আছেন। উত্তরার বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়লে রোববার তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের  ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরো সায়েন্সস অ্যান্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সোমবার সকালে তিনি ফের স্ট্রোক করলে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। আগারগাঁওয়ের নিউরো সাইন্স হাসপাতালে সোয়া ১০টার দিকে আফসানা খানমের  অস্ত্রোপচার শুরু হয়। অস্ত্রোপচার শেষে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি কোমায় আছেন বলে ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানের পারিবারিক বন্ধু ও ইউএস-বাংলার সাবেক সহকর্মী ক্যাপ্টেন ওয়াহেদু উন নবী জানিয়েছেন।

হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের অধীনে ভর্তি আছেন তিনি। এই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা.সিরাজি শাফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোববার ভর্তি হবার পর আফসানা খানমের মাথায় একটি অস্ত্রোপচার করানো হয়েছে। তিনি এখন লাইফ সাপোর্টে আছেন। তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে আমরা পরিবারকে ব্রিফ করেছি।’

ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানার পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন বলেন, ‘আমরা শুনেছি ওনার অবস্থা ভাল না। হাসপাতাল থেকে  স্বজনদের ডাকা হয়েছে। রোববার তার ব্রেইন স্ট্রোক হয়। চিকিৎসকের পরামর্শেই তাকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তাকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তিনি বাঁচবেন কিনা জানিনা।’

এর আগে রোববার হাসপাতাল সূত্র জানায়, আফসানা খানমের ব্রেইন স্ট্রোক হয়। তিনি অধ্যাপক ডা.বদরুল আলমের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন। এখানে ভর্তির পরপরই মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে তার মাথায় একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। তিনি আইসিইউতে ভর্তি আছেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে ৭১ আরোহী নিয়ে গত ১২ মার্চ দুপুরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে নামার সময় ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস-২১১ রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

এতে বিমানের ৫১ আরোহী নিহত হন। উড়োজাহাজে চার ক্রুসহ ৩৬ বাংলাদেশি ছিলেন। এদের ২৬ জনই নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ২৮ লাশ সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে ১০ জন নেপালি ও একজন চীনের নাগরিক।

ওই দুর্ঘটনায় বিমানের পাইলট আবিদ সুলতান নিহত হন। জানা গেছে, পরপর চারটি ল্যান্ডিংয়ের পরেও তাকে নেপালে ওই ফ্লাইট নিয়ে যেতে হয়েছিল। এ নিয়ে মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও ক্যাপ্টেন আবিদ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ছাড়ার জন্য তোড়জোড় করেছিলেন।

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত