ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ৫০ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ১৫:৫০

প্রিন্ট

ফারাক্কার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চল

ফারাক্কার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলের মানুষ ফারাক্কার বিরুপ প্রভাবে বছরের পর বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে এই অঞ্চল অনেকটা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। আবার বর্ষায় ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে হঠাৎ ফুঁসে উঠে পদ্মা। ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাড়িঘরসহ ফসল সবকিছু।

আর অব্যাহত ভাঙ্গনে বসতভিটা, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আস্তে আস্তে পাল্টে যাচ্ছে এ জেলার মানচিত্র। এই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও নদী তীরবর্তী মানুষদের রক্ষার্থে নদী খননের কথা বলছেন পরিবেশবিদরা। আর ভারতের একতরফা পদ্মা নদীর পানি প্রত্যাহারের দাবীটি আন্তর্জাতিক ফোরামে তোলার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।  

জানা গেছে, ভারত থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাংখা পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে পদ্মা। ১৯৭৫ সালে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষ হয় এবং সেই বছরে ২১ এপ্রিল থেকে ফারাক্কা বাঁধ চালু হয়। এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে এই নদীর গতিপথ। একসময় সীমান্ত দিয়ে প্রবাহিত এই নদী ক্রমেই ভাঙ্গতে থাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলাতুলি, চরবাগডাঙ্গা, নারায়নপুর, পাঁকা, উজিরপুর ও দেবীনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। আর ভাঙ্গন কবলিত এসব এলাকা পরিণত হয় ধুধু বালুচরে। নিয়ন্ত্রিত পানি প্রবাহের কারণে একাধিক চ্যানেলে বিভক্ত হয়ে পড়ে পদ্মা। যা এই অঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের বড় কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্যা নেচারের সমন্বয়কারী রবিউল হাসান ডলার বলেন, ফারাক্কার বাঁধ এবং উজান থেকে প্রতিবছর পলি আসায় পদ্মা এখন মৃত। একসময় শুশু ও ঘড়িয়ালসহ বিভিন্ন জাতের মাছ ছিল। পদ্মার ৪/৫ টি চ্যানেল প্রবাহিত হওয়ায় এখন মূল নদী চেনা দায় হয়ে পড়েছে। পদ্মা শুকিয়ে যাবার কারণে জীববৈচিত্রের উপর যেমন হুমকি, তেমনি পদ্মা নদী তীরবর্তী মানুষ মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়েছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিবেশ ও স্থানীয় লোকজনের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। তাই নদী খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবী জানান তিনি।

বাখের আলীর পদ্মা এলাকার নাসিরুল ইসলাম জানান, বর্ষাকালে ফারাক্কা বাঁধ খুলে দেয়ার কারণে জেলার বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি ও বসতভিটা পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এ কারণে এই এলাকার ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ দিন দিন তারা গৃহহীন ও বাস্তুহারা হয়ে পড়ছে।

ভারতের সাথে বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিকভাবে সম্পর্কের উন্নতি হলেও, অজ্ঞাত কারণে পানির নায্য হিস্যার তেমন কোন অগ্রগতি না হওয়ায়, একতরফা নদীর পানি প্রত্যাহারের দাবীটি আন্তর্জাতিক ফোরামে তোলার পরার্মশ দেন লংমার্চে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকরা এ্যাড. সাইফুল ইসলাম রেজা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আতিকুর রহমান জানান, পানির স্তর নীচে নেমে যাওয়ায় পদ্মা ৪/৫ টি চ্যানেলে বিভক্তের কারণে বর্ষাকালে পানির প্রবাহ চ্যানেলগুলোতে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। আর ভাগ হওয়ার কারণে দু’পার ভাঙ্গনের কবলে পড়ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জকে রক্ষা করতে হলে পদ্মা নদীতে রক্ষা করতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভাঙ্গন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষা করা যাবে।  

তিনি আরও জানান, বিশ্বে বিভিন্ন নদীর মধ্যে পদ্মা পলিবাহিত হিসেবে ৩য় অবস্থানে এবং এ কারণে ফারাক্কা ব্যারেজের ১৫ কিমি ভাটিতে অর্থাৎ বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীতে ২৫/৩০ মিটার পলির স্তর জমেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফারাক্কার অভিমূখে লংমার্চের নেতৃত্ব দেন এবং শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক কানসাট রাজবাড়ী মাঠে গিয়ে এ লংমার্চ শেষ হয়।

জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত