ঢাকা, সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ অাপডেট : ৮ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ২১:৫৯

প্রিন্ট

ধুমধাম করে বিয়ে হলো তিন কন্যার

ধুমধাম করে বিয়ে হলো তিন কন্যার
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

ধুমধাম করে কুষ্টিয়া সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের তিন কন্যার বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (১৬ মে) সমাজসেবা অধিদপ্তর কুষ্টিয়া আয়োজনে মহাধুমধামের সঙ্গে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। বর-কনেরা হলেন: ইতি খাতুন, বর-জিল্লুর রহমান, হাওয়া খাতুন, বর- সুজন আলী এবং উরুফা খাতুন, বর-রুহুল আমিন রিন্টু।

এদিন দুপুর দেড়টায় বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল সাড়ে ৫টায়। পুরো আয়োজনের উদ্যোক্তা ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জহির রায়হান। এক এক করে বিয়ের গাড়ী যখন কুষ্টিয়া সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের গেটে এসে পৌঁছালে জেলা প্রশাসন ও কুষ্টিয়া সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দের কর্মকর্তারা বরকে বরণ করেন নিয়ে আসেন বিয়ের অনুষ্ঠানে।

ইতি, হাওয়া ও উরুফা- তারা তিন কন্যা, তবে বোন নয়। প্রত্যেকের বয়স ১৮ বছর পেরিয়েছে। থাকেন কুষ্টিয়া সামাজিক প্রতিবন্ধী মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে।

প্রশাসন সূত্র জানায়, উরুফা খাতুনকে ৫ বছর আগে যশোরের আহসানিয়া মিশন থেকে এই কেন্দ্রে আনা হয়। তিনি নাম বলতে পারেন। তবে মা-বাবার নাম বা বাড়ির ঠিকানা বলতে পারেন না। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওয়াপাড়া এলাকায় মৃত সাজদী গায়েনের ছেলে রুহুল আমিনের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হল। রুহুল ঢাকাতে রিকশা চালান। ৬ বছর আগে এই কেন্দ্রে আরও একজন মেয়ের বিয়ে হয়েছিল নওয়াপাড়ায়। তার সূত্র ধরেই রুহুল আমিনের সঙ্গে বিয়ে হল।

হাওয়া খাতুন নামে মেয়েটি ৫ বছর আগে যশোর আহসানিয়া মিশন থেকে এই কেন্দ্রে আসেন। তিনি বাকপ্রতিতবন্ধী। তবে অল্প একটু লিখতে পারেন। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা জানেন না। কেন্দ্রের এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে মেহেরপুর গাংনী উপজেলার মহাম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা সুজন আলীর সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। সুজন কৃষি কাজ করেন।

ইতি খাতুনকে দেড় বছর আগে কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলায় পাওয়া যায়। সেখানে এক নারী কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন। পরে পুলিশের মাধ্যমে তাকে এই কেন্দ্রে আনা হয়। ইতি খাতুন তেমন কথা বলতে পারেন না। তবে ইশারায় সব জানাতে পারেন। কিন্তু বাড়ির ঠিকানা জানাতে পারেন নি। সেই থেকে এখানেই থাকেন। সম্প্রতি এক নারী যোগাযোগ করেন মেয়েটিকে তার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য। খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের শাহাদত শেখের ছেলে জিল্লুর রহমানের সাথে বিয়ে সম্পন্ন হয়। জিল্লুর এলাকায় ভ্যান চালায়।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জহির রায়হান বলেন, একটা মেয়ের বিয়েতে পরিবারের সদস্যরা যেরকম ভাবে থাকে, ঠিক একইভাবে তিন মেয়ের পাশে থাকবেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বিয়েতে প্রত্যেক বরের সঙ্গে ১৫ জন করে যাত্রী আসেন।

জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত