ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮, ৩ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ২৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৮, ১৪:৪২

প্রিন্ট

এক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯

এক রাতে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৯
জার্নাল ডেস্ক

সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে রোববার রাত থেকে সোমবার সকালে মধ্যে সাত জেলায় বন্দুকযুদ্ধে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এসব অভিযানে বিভিন্ন পরিমাণে মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের কথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। পুলিশ ও র‌্যাবের দাবি নিহতরা সবাই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল। কারও কারও বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলাও রয়েছে।

এর মধ্যে টাঙ্গাইল, রাজশাহী, ঝিনাইদহ ও নরসিংদীতে র‌্যাবের গুলিতে চারজন এবং চুয়াডাঙ্গা ও গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে দুইজন নিহত হয়েছেন। আর যশোরে তিনজনের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ বলেছে, মাদক কারবারিদের মধ্যে গোলাগুলিতে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

দেশ থেকে মাদক নির্মূলের প্রত্যয় জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার এক অনুষ্ঠানে বলেন, জঙ্গি দমনের মত মাদক ব্যবসায়ী দমনে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। আর এই দায়িত্ব মূলত দেওয়া হয়েছে র‌্যাবকে।

গত ১৪ মে র‌্যাবের এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর তারা মাঠে নেমেছেন। মাদকের বিরদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছেন। র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনের আগে ৩০ এপ্রিল কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, মাদকের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’। আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও গোয়েন্দা পুলিশ, রেল পুলিশ, থানা পুলিশ এবং বিজিবিকেও মাদকবিরোধী অভিযানে দেখা যাচ্ছে।

কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন জেলায় বন্দুকযুদ্ধে মাদক চক্রের সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে এ ধরনের ঘটনায় ছয় জেলায় ছয়জন নিহত হন, যাদের চারজনই মাদক কেনা-বেচায় জড়িত ছিল বলে পুলিশের ভাষ্য।   

 

রোববার রাতে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় বাংলাদেশ জার্নালের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

যশোর: যশোরের দুই জায়গা থেকে গুলিবিদ্ধ তিনটি লাশ উদ্ধারের খবর জানিয়ে পুলিশ বলেছে, মাদক চোরাকারবারিদের ‘নিজেদের মধ্যে’ গোলাগুলিতে তারা নিহত হয়েছেন। 

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম আজমল হুদা বলছেন, রাত সাড়ে ৩টার দিকে শহরতলীর শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গায় গোলাগুলির এসব ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ইয়াবা পাওয়া গেছে জানিয়ে ওসি বলছেন, নিহতরাও মাদকের কারবারে যুক্ত বলে তারা ধারণা করছেন। 

দুই দল মাদক কারবারির মধ্যে গোলাগুলির খবর পেয়ে শেখহাটি ও খোলাডাঙ্গায় পুলিশ পাঠান তারা। এর মধ্যে শেখহাটির নওয়াব আলীর খেঁজুর বাগান এলাকায় দুটি গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ আর ৪০০ ইয়াবা পাওয়া যায়। আর খোলাডাঙ্গায় মাঠের মধ্যে থেকে একজনের গুলিবিদ্ধ লাশ এবং ১০০ ইয়াবা পাওয়া যায়। দুই জায়গায় দুটি পিস্তল ও গুলির খোসা পাওয়ার কথাও বলেছেন কোতোয়ালি থানার ওসি।

যশোর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কল্লোল কুমার সাহা জানান, ভোর ৪টা ৫মিনিটের দিকে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক তরুণ কুমার গুলিবিদ্ধ একজন ও যশোর উপশহর ফাঁড়ির এসআই আব্দুর রহিম দুইজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

তাদের মাথায় গুলি লাগায় বিভৎস অবস্থা হয়েছে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, চেহারা দেখে তাদের শনাক্ত করা কঠিন। তিনজনের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহত তিনজনের মধ্যে দুইজনের পরিচয় মিলেছে। তার মধ্যে একজন শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের ট্যাংরা জামতলার রহমান গাজীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম দুখি ও অন্যজন একই উপজেলার মহিষকুড়া গ্রামের হারুনর রশিদের ছেলে মুত্তাজুল মোড়ল। 

নিহত সিরাজুল ইসলাম দুখির ছেলে রিপন হোসেন দাবি করেন, তার বাবা একজন কৃষক। পরশু দিনগত ভোররাতে দুটি সাদা মাইক্রোবাসে করে ৭-৮ ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাড়িতে গিয়ে তার বাবাকে ধরে নিয়ে যায়। এর পর আমার বাবার আর কোনো সন্ধান পাইনি। সোমবার সকালে লোকমুখে খবর শুনে যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে এসে দেখতে পাই আমার বাবা খালি গায়ে একটি চেক লুঙি পরা মাথার পেছনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

নিহত মুত্তাজুল মোড়লের বড়ভাই সোহরাব হোসেন প্রায় একই ধরনের তথ্য দেন। তিনি জানান, গতপরশু দিনগত ভোররাতে সেহরির সময় দুটি সাদা মাইক্রোবাসে করে কয়েক ব্যক্তি পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার ভাইকে তুলে নিয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান মেলেনি। সোমবার সকালে খবর পেয়ে হাসপাতালে মর্গে এসে দেখি, আমার ভাই মুত্তাজুল মোড়লের লাশ পড়ে আছে। তার মাথার পেছনে গুলি করা হয়েছে।

তবে এই সব তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করছে পুলিশ। যশোর কোতয়ালী থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) আবুল বাশার বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলিতে তিনজন মারা যায়।
তিনি উল্লিখিত দুইজনের পরিচয় নিশ্চিত করেন। এখন পর্যন্ত একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা রয়েছে থানায়। রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘাটাইল থানার দেউলাবাড়ি এলাকায় মহাসড়ক সংলগ্ন ইটভাটার পাশে গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে বলে র‌্যাব-১২ এর অধিনায়ক আব্দুল আহাদের ভাষ্য।

তিনি বলেন, ‘বড় ধরনের মাদকের চালান’ আসার খবরে র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযানে যায়। তখন মাদক ব্যবসায়ীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি করে, আত্মরক্ষার জন্য র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। ১০-১৫ মিনিট গোলাগুলির পর প্রতিপক্ষ পিছু হটলে র‌্যাব সদস্যরা গিয়ে দেখেন একজন গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে।

তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

র‌্যাব-১২ এর সিপিসি ৩ এর কোম্পানি কমান্ডার রবিউল ইসলাম জানান, নিহত আবুল কালাম আজাদ খান (৪২) ঘাটাইল থানার পূর্ব পাকুটিয়ার আ. রহমান খানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন, ১০০ বোতল ফেন্সিডিল, ১৫০০ ইয়াবা এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথাও জানিয়েছে র‌্যাব।

রাজশাহী: রাজশাহীতে মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত লিয়াকত আলী মণ্ডলের বাড়ি পুঠিয়া থানার নামাজগ্রাম এলাকায়। তিনি ওই এলাকার ‘চিহ্নিত মাদক কারবারি’ এবং তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে সাতটি মামলা রয়েছে বলে র‌্যাব-৫ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আশরাফুল ইসলামের ভাষ্য।

তিনি বলছেন, রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বেলপুকুর থানার ক্ষুদ্র জামিরা এলাকায় মাদক চোরা কারবারিদের সঙ্গে র‌্যাবের গোলাগুলির ওই ঘটনা ঘটে। র‌্যাবের একটি টহল দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি করে। তখন র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। এ সময় লিয়াকত মোটরসাইকেল নিয়ে পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়; অন্যরা পালিয়ে যায়।

পরে গুলিবিদ্ধ লিয়াকতকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান মেজর আশরাফুল। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব ৮২৩টি ইয়াবা, দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল এবং একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে বলে জানান তিনি।

ঝিনাইদহ: জেলার কালীগঞ্জ নরেন্দ্রপুর এলাকার র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছব্দুল মন্ডল (৪৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগজিন, ১০০ বোতল ফেনসিডিল, ১৫০ পিস ইয়াবা, একটি হেলমেট ও ও নগদ ১ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে র‌্যাব। 

নিহত ছব্দুল মন্ডল উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। সে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

ঝিনাইদহ র‌্যাব -৬ এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এএসপি গোলাম মোর্শেদ জানান, রোববার রাত আনুমানিক ২টার দিকে নরেন্দ্রপুর নামক স্থানে তাদের একটি টহল টিম চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করছিল। সেসময় ওই স্থান দিয়ে একটি মোটরসাইকেলে ২-৩ জন লোক ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় র‌্যাব তাদের গতিরোধ করে। এসময় তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির শেষে অন্যরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে সব্দুলের লাশ পড়ে থাকে।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান খান বলেন, বন্দুকযুদ্ধে নিহতের লাশ কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

অবশ্য সব্দুল মণ্ডলের ভাতিজা তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তার চাচা শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশের একটি শসাক্ষেতেতে কাজ করছিলেন। এমন সময় সাদাপোশাকে ছয় থেকে সাতজন এসে তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এরপর রাতে মাঠের মধ্যে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা: জেলার জীবননগরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে জনাব আলী (৩২) নামে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববরার দিনগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার উথলী গ্রামের সন্যাসীতলা মাঠের মধ্যে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি সর্টগান, দু’টি কার্তুজ, ৩টি রামদা এবং ১ বস্তা ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। বন্দুকযুদ্ধের সময় জীবননগর থানার ৩ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

নিহত জনাব আলী উথলী গ্রামের আমতলা পাড়ার জামাত আলীর ছেলে।

পুলিশের ভাষ্য, নিয়মিত টহল হিসেবে রোববার রাতে উপজেলার উথলী মোল্যাবাড়ি-সন্যাসীতলা সড়কে টহল দিচ্ছিলো জীবননগর থানা পুলিশ। এসময় পুলিশের গাড়ি সন্যাসীতলা নামক মাঠের কাছে পৌঁছালে ১০/১২ জনের দুর্বৃত্তদল পুলিশকে লক্ষ্য করে ৫/৭ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এক পর্যায়ে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে দুর্বৃত্তদেরকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি চালায়। উভয় পক্ষের মধ্যে অন্তত ১০/১২ রাউণ্ড গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে দুর্বৃত্তদলের সদস্যরা পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন পুলিশ সদস্যরা। পরে গ্রামবাসী এসে বন্দুকযুদ্ধে নিহত মৃত যুবক এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী উথলী গ্রামের জনাব আলীর লাশ বলে সনাক্ত করেন। এসময় জীবননগর থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মিলন হোসেন, কনস্টেবল ওয়ালিদ রহমান এবং কনেস্টবল জুয়েল হোসেন আহত হন।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ রহমান জানান, বন্দুকযুদ্ধে নিহত জনাব আলীর বিরুদ্ধে জীবননগর থানাসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ১১টি মাদক মামলা রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি সর্টগান, দুইটি কার্তুজ, ৩টি রামদা এবং ১ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

নরসিংদী: নরসিংদীর ঘোড়াশালে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইমান আলী (৩৪) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় র‌্যাব-১১ এর দুই সদস্য আহত হয়। সোমবার সকালে পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ময়েজউদ্দিন সেতুর পাশের একটি ফুটবল মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একহাজার ইয়াবা উদ্ধার করে র‌্যাব সদস্যরা। নিহত ইমান আলী নরসিংদী শহরের নাগরিয়াকান্দি এলাকার মিলন মিয়ার ছেলে।

র‌্যাব-১১ এর এএসপি মো. আলেপ উদ্দিন পিপিএম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকের একটি বড় চালান উদ্ধার করতে গেলে কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী র‌্যাব সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করে। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ গোলাগুলিতে র‌্যাব-১১ এর এএসআই নির্মল ও কন্সটেবল বাশার আহত হয়। এতে নরসিংদীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ইমান আলী নিহত হয়। এ ঘটনায় আরও দুই মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যায়। 

গাজীপুর: জেলার টঙ্গীতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন, যার বিরুদ্ধে থানায় মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। নিহত রেজাউল ইসলাম রনি ওরফে বেস্তি রনি (২৭) টঙ্গীর এরশাদ নগরের ৩ নম্বর ব্লকের হাফিজুল ইসলামের ছেলে।

রোববার রাত সোয়া ৩টার দিকে টঙ্গীর নিমতলী মাঠ এলাকায় গোলাগুলিতে রনি নিহত হন বলে টঙ্গী থানার ওসি মো. কামাল হোসেনের ভাষ্য।

তিনি বলেন, মাদক কেনা-বেচার খবর পেয়ে পুলিশ রাতে ওই এলাকায় অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে রনি গুলিবিদ্ধ হয়। অন্যরা পালিয়ে যায়। এ সময় তাদের ধরতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

ঘটনাস্থল থেকে রনিকে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান ওসি।

তিনি বলেন, রনির বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় মাদকের চোরা কারবারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৪টি মামলা রয়েছে। অভিযানে আহত টঙ্গী থানার এএসআই মো. ওমর ফারুক ও এএসআই মো. আনোয়ার হোসেনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি।  

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত