ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮, ৩ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ২৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ০১:১৬

প্রিন্ট

শবে কদরে মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়

শবে কদরে মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়
বুলবুল ফাহিম

শবে কদরে দেশের সবগুলো মসজিদগুলো মুসল্লির ঢল নেমেছে। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা নগরের কেন্দ্রীয় মসজিদসহ প্রায় প্রত্যেকটি মসজিদে মুসল্লিদের ঢল দেখা গেছে। সেই সঙ্গে মসজিদগুলোর ছাদে ও বারান্দায় শামিয়ানা টাঙিয়ে বাড়তি মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য জায়গা করা হয়েছে। বড় বড় মসজিদের আশপাশে বসেছে আতর, টুপি, সুরমা, জায়নামাজ, তসবিহ, ধর্মীয় বই-পুস্তক বিক্রির দোকান।

বাংলাদেশ জার্নালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য:

চট্টগ্রাম:
চট্টগ্রাম নগরের লালদীঘিতে শাহসুফি হজরত আমানত খান শাহের (র.) দরগা মসজিদে ছিল উপচে পড়া ভিড়। নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, আলোচনা, মিলাদ, জেয়ারত, জিকিরে মশগুল মুসল্লিরা।

শাহসুফি হজরত আমানত খান শাহের (র.) দরগার শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ হাবিবউল্লাহ খান মারুফ জানান, চট্টগ্রামের মানুষ শবে কদরের রাতে নফল এবাদত করেন। সেহরির আগ পর্যন্ত মুসল্লিরা ইবাদতে মশগুল থাকেন। সারা রাত পুণ্যসঞ্চয়ে ভালো কাজ করেন তারা। মুরুব্বিদের কবর জেয়ারত করেন। কোরআন তেলাওয়াত করেন।

তিনি বলেন, শবে কদর আল্লাহ বান্দাদের জন্য ফজিলত ও বরকতের জন্য দিয়েছেন। এ রাতে গুনাহ মাফ করে দেন। দোয়া কবুল করেন।

নগরের আন্দরকিল্লা জামে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মো. আবু সাঈদ বলেন, লাইলাতুল কদর হচ্ছে হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ রাত। ভাগ্যনির্ধারণের রাত। তাই সারা দিন রোজা রেখে আগেভাগে মসজিদে চলে এসেছি। মুরুব্বি ও আলেমদের মুখে শুনেছি যেখানে যত বেশি মুসল্লির সমাগম সেখানে দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি।

রাজশাহী:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার রাজশাহীতে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে কদর। বাদ এশা প্রতিটি মসজিদে খতমে তারাবীর নামাজ পড়ানো হয়।

তারাবীর নামাজ শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহাফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে ইবাদত বন্দেগী, জিকির-আসকার, নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজদের কবর জিয়ারত প্রভৃতি নফল ইবাদতের মধ্যে নগরীসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মহিমান্বিত এই রজনী যাপন করছেন। 

রাজশাহীর শাহ মখদুম (রহ.) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও সাহেব বাজার বড় জামে মসজিদসহ মহানগরীর প্রতিটি এলাকার মসজিদে তারাবীর নামাজের পর থেকে বিশিষ্ট ওলামায়েকেরাম শবে কদরের তাৎপর্য নিয়ে বয়ান করছেন।

এদিকে, শবে কদরের পবিত্রতা ও শান্তি-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে রাজশাহী মহানগর পুলিশ সন্ধ্যা থেকে আতশ, পটকাবাজিসহ যাবতীয় বিস্ফোরকদ্রব্য বহন এবং ফোটানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। অন্যদিকে, রাতব্যাপী কবর জিয়ারতে সুবিধার জন্য রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মহানগরীর প্রতিটি গোরস্থানে আলোর বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। হজরত শাহ মখদুম (রহ.) দরগা শরীফে ফজরের বিশাল জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। নামাজ শেষে রয়েছে আখেরি মোনাজাত। মোনাজাতে মুসলিম উম্মার সুখ-সমৃদ্ধি ও দেশের সার্বিক কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হবে।

খুলনা:
ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে খুলনায় পালিত হচ্ছে হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ পবিত্র লাইলাতুল কদর। ইফতারের পর থেকেই মহানগরীর ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা মসজিদে ইবাদতের জন্য ভিড় করতে শুরু করেন।

মসজিদে মসজিদে খতমে তারাবি শেষে দেশ-জাতি ও উম্মাহর মঙ্গল কামনা করে দোয়া করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ রাত উপলক্ষে নগরীর মসজিদগুলোতে ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।

রাতভর মুসুল্লিরা নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির, আসকার ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই রজনী পালন করছেন। পবিত্র এ রাতে অনেকেই কবরস্থানে গিয়ে স্বজনদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেছেন।

বিএএফ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত