ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮, ৩ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ২৭ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮, ১৮:১৪

প্রিন্ট

ক্লান্ত-শ্রান্ত চোখে মুখে বাড়ি ফেরার আনন্দ

ক্লান্ত-শ্রান্ত চোখে মুখে বাড়ি ফেরার আনন্দ
জামালপুৃর প্রতিনিধি

ট্রেনের অভ্যান্তরে ছাদে নানা ঝক্কি-ঝামেলা মাথায় নিয়ে রেলে চেপে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে জামালপুরের মানুষ। প্রত্যেকটা ট্রেনের প্রতিটি কামরায় তিল পরিমাণ জায়গা নেই। স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে প্রতিটি বগিতে শত শত যাত্রী। মেঝেতে আছেন কেউ কেউ। অনেকেই গরমে শার্টের বোতাম খুলে মাথায় পানি ঢালতে দেখা যায়। ট্রেনের ছাদেও মানুষ আর মানুষ। নারী ও শিশুরাও ট্রেনের ছাদে উঠে বাড়ি যাচ্ছে। মানুষে মোড়ানো ট্রেন ছুটছে ঈদ যাত্রীদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিতে। চাপাচাপিতে কষ্ট ও ভ্যাপসা গরমে ক্লান্ত-শ্রান্ত চোখে মুখে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করার আনন্দের উচ্ছাস।

জামালপুর রেলওয়ে জংশনে কথা হয় জামালপুর কমিউটারের ট্রেনযাত্রী সদর উপজেলার নারীকেলী গ্রামের আফরোজা খাতুন(৩০) এর সাথে। তিনি বলেন, কমলাপুর ষ্টেশনে ট্রেনে উঠতে ও ট্রেনের অভ্যন্তরে খুবই কষ্ট হয়েছে। তবুও গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে পারায় সব কষ্ট দুর হয়ে মনের আনন্দে বাড়ি যাচ্ছি।

তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী মাদারগঞ্জের হাবিবুর রহমান বলেন, গরমে সিদ্ধ হয়ে গেছি। খুব কষ্ট করে আসলাম। তবে ট্রেন যদি আরো বাড়ানো যায় বাড়ি ফেরার ঈদ যাত্রার কষ্ট থেকে আমরা মুক্তি পাবো।

ঢাকায় অটো রিকসা চালায় নজরুল ইসলাম(৪৫)। বাড়ী জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতা পাড়া গ্রামে। সাথি আবুল (৪২) ও ভাগিনা মঞ্জুরুল(৩০) কে নিয়ে জামালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তিনি বলেন, কমলাপুর ষ্টেশনে কমলাপুর-দেওয়ানগঞ্জের বিশেষ ট্রেনে ভাগিনা মঞ্জুরুল বগিতে উঠলেও আমরা দু’জন ছাদে উঠি। জামালপুর ষ্টেশনে পৌঁছে আমরা ছাদ থেকে নামতে পারলেও প্রচন্ড ভিড়ে ভাগিনা নামতে পারেনি। এখন কি আর করার প্লাটফর্মে তার জন্য অপেক্ষা করছি।

ছয় বছরের শিশু মুক্তামনি মুখের ঘাম মুছে বলছে, দাদু বাড়ি ঈদ করতে যাচ্ছি এটাই মজা।

এমনই কষ্টে আনন্দে একাকার বাড়ি ফেরা রেলযাত্রী অনেকেই আনন্দ তিক্তমাখা অভিজ্ঞতার কথা জানালেন।

সিডিউল টাইমে কোন ট্রেনই দেওয়ানগঞ্জে পৌঁছাচ্ছে না। জামালপুর ষ্টেশনে ১১টা ৪০ মিনিটে তিস্তা এক্সপ্রেসের সিডিউল টাইম থাকলেও পৌঁছেছে দুপুর ১টায়। প্রত্যেকটা ট্রেনই বিলম্বে গন্তব্যে পৌঁছছে। সিডিউল বির্পযয় নিয়ে যাত্রীদের মাথা ব্যথা নেই। তাদের মন্তব্য বাড়িতো ফিরতে পারছি। ঈদের আমেজেই বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ।

জামালপুর রেলওয়ে জংশনের ষ্টেশন মাষ্টার মো: রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বড় ধরনের সিডিউল বিপর্যয় নেই। ট্রেনের অভ্যন্তরে ও ছাদে বিপুল পরিমান যাত্রী। প্রত্যেক ষ্টেশনে স্টপেজে যাত্রী নামাতে সময় বেশি নেয়ায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

জেডআই

 

 

 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত