ঢাকা, সোমবার, ২০ আগস্ট ২০১৮, ৫ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০১৮, ২০:৩০

প্রিন্ট

গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি

শ্রমিকদের দাবি ১২ হাজার, মালিকরা দিতে চান অর্ধেক

শ্রমিকদের দাবি ১২ হাজার, মালিকরা দিতে চান অর্ধেক
নিজস্ব প্রতিবেদক

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ২০ টাকা দাবি করেছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। তবে মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) প্রস্তাব করেছে শ্রমিকদের দাবির প্রায় অর্ধেক। সোমবার রাজধানীতে ন্যূন্যতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মালিক ও শ্রমিক পক্ষ তাদের প্রস্তাবনা জমা দেয়।

গত জানুয়ারিতে তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নতুন করে নির্ধারণের জন্য একটি মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়। সেই বোর্ডের তৃতীয় বৈঠকে নিজেদের আগের দাবি থেকে সরে আসেন শ্রমিকরা। তারা ন্যূনতম মজুরি হিসেবে ১২ হাজার ২০ টাকা দাবি করেছেন। এর আগে তাদের দাবি ছিল ১৬ থেকে ১৮ হাজার টাকা।

যদিও এর সাথে দ্বিমত করছে কিছু কিছু শ্রমিক সংগঠন। বিপরীতে মজুরি বোর্ডের কাছে মালিকেরা ন্যূনতম মজুরি প্রস্তাব করেন ৬ হাজার ৩৬০ টাকা।

মজুরি বোর্ডে নির্বাচিত শ্রমিক প্রতিনিধি বেগম শামসুন্নাহার ভুঁইয়া বলেন, শ্রমিক ফেডারেশনগুলোর ভিন্ন ভিন্ন মজুরির দাবি ছিল। কারো ছিল ১৬ হাজার টাকা, আবার কারো ১৮ হাজার টাকা। আমি সার্বিক বিষয় চিন্তা করে ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ২০ টাকা প্রস্তাব করেছি।

তিনি আরো বলেন, আমি হিসেব করেছি ২০১০ সালে শ্রমিকদের দাবি কত টাকা ছিল, আর কত টাকা পেয়েছে, আর ২০১৩ সালে দাবি কত টাকা ছিল আর কত টাকা পেয়েছে। এখন আমি ১৬ হাজার টাকা দাবি করলাম, কিন্তু পাওয়ার সময় যদি সেটা এক তৃতীয়াংশ হয়ে যায়, তাহলে সমস্যা হবে। সেজন্য আমি ১২ হাজার টাকা প্রস্তাব করেছি।

বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত নতুন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ৫ হাজার ৩০০ টাকা, যা ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর হয়। এর মধ্যে মূল মজুরি ৩ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া ১২শ’ টাকা এবং চিকিৎসা, যাতায়াত ও খাদ্য ভাতা ১ হাজার ১শ’ টাকা।

এদিকে মজুরি বোর্ড গঠনের আগে থেকেই শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি দাবি করে আসছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধি যে প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন, তার সাথে পোশাক শ্রমিকদের বড় অংশ একমত হবে না। ফলে ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা মনে করি শ্রমিকদের মজুরি এখন ১৬ হাজার টাকাও যথেষ্ঠ না, কারণ বাজারে সব জিনিসের দাম যেভাবে বেড়েছে, আর আইএলও কনভেনশন অনুযায়ী একজন শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি যা হওয়া উচিত কোনটাই শ্রমিকেরা পাচ্ছেন না। ফলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

মজুরি বোর্ডে মালিকদের প্রতিনিধি ও বিজিএমইএ এর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি এবং পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করে আমরা ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার ৩৬০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আমরা বিবেচনা করেছি গত পাঁচ বছরে মূল্যস্ফীতি কতটুকু হয়েছে। এখন তারা বেশি দাবি করেছে, দাবি করলেই তো হবে না, তাকে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে কেন তারা এমনটা চাচ্ছে।

গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা অক্সফাম এক প্রতিবেদনে বলেছে, বিশ্বের সাতটি প্রধান তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরিই সবচেয়ে কম।

অক্সফ্যামের রিপোর্টটিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে একজন সাধারণ মানুষের খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার জন্য নিম্নতম মজুরি প্রয়োজন ২৫২ মার্কিন ডলারের সমান অর্থ। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের একজন শ্রমিক মজুরি পান প্রায় ৬৭ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত