ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০১৮, ১৬:২১

প্রিন্ট

পাবনায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিনের ঘুষ ১০ লক্ষাধিক টাকা!

পাবনায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিনের ঘুষ ১০ লক্ষাধিক টাকা!
গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় দুদকের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোছা. ইশরাত জাহান।
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন ঘুষ লেনদেন হয় ১০ লক্ষাধিক টাকা। এ টাকার সিংহভাগই যায় জেলা রেজিস্ট্রার, সাব-রেজিস্ট্রার, অফিসের বড় বাবু ও দলিল লেখক সমিতির পকেটে। সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে দুদকের অনুসন্ধানে এ সব তথ্য বেড়িয়ে এসেছে। বিষয়টি জেলার সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একটি দলিল সম্পাদনে পৌরসভার ভেতরে সরকারি ভাবে গড়ে ১৪ শতাংশ এবং পৌর এলাকার বাইরে গড়ে ১১ শতাংশ ফি দিতে হয়। এর বাইরে দলিল লেখক সমিতিকে এককালীন ৫ থেকে ১০ হাজার, সাব রেজিস্ট্রারকে দলিলের ৫ শতাংশ, অফিস বড় বাবু এবং দালাল চক্রকে আরও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া প্রতিটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস কমপাউন্ডে চাঁদাবাজ চক্রতো রয়েছেই।

দুদক উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রতিদিন ১০ লক্ষাধিক টাকার ঘুষ লেনদেন হয়। আমরা এ বিষয় নিয়ে কাজ করছি। কয়েকজন দুর্নীতিবাজ সাব রেজিস্ট্রারকে ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে সর্তক করা হয়েছে। তারপরেও তারা কর্ণপাত করছেন না। আমরা খুব শিগগির তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। এ ছাড়া মানুষজনকে জিম্মি করে দলিল লেখক সমিতির নামে যে টাকা আদায় করা হয় সে বিষয়েও আমরা খতিয়ে দেখছি।

উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগে গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় পাবনার আটঘরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মোছা. ইশরাত জাহান (২৮) ও মোহরার আশরাফুল আলমকে (৪০) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে দুদক।

দুদক সমন্বিত কার্যালয় পাবনার উপ-পরিচালক আবু বকর সিদ্দিক জানান, জমির খাজনা-খারিজ করে দেয়ার নামে দীর্ঘদিন ধরে সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত টাকা নিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছিলেন আটঘরিয়া উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহান ও মোহরার আশরাফুল আলম। সম্প্রতি চারজন মানুষের ৪টি দলিল নিষ্পত্তি করে দেয়ার শর্তে দলিল লেখকের মাধ্যমে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করেন তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ জুলাই বিকেলে অভিযান চালিয়ে আটঘরিয়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে ঘুষের ১৪ হাজার টাকাসহ সাব-রেজিস্ট্রার ইশরাত জাহান ও মোহরার আশরাফুল আলমকে ৪৮ হাজার টাকাসহ আটক করেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাবনার কর্মকর্তারা। এ সময় দুদক কর্মকর্তারা তাদের কাছে থাকা ঘুষের টাকার সিরিয়াল নম্বার মিলিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান।

তবে পাবনা সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইব্রাহিম হোসেন বলেন, দুদক যেভাবে ইশরাত জাহানকে গ্রেপ্তার করেছে, তা ছিল সাজানো। ফলে ওই ঘটনায় সারাদেশের সাব রেজিস্ট্রাররা ক্ষুব্ধ।

পাবনা জেলা রেজিস্ট্রার মনিন্দ্র নাথ বর্মন বলেন, জেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে যেসব দুর্নীতির কথা বলা হচ্ছে তা বাংলাদেশের সবখানে ঘটে। তাই আমাদের কি করার আছে?

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত