ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ১৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০১৮, ১৭:৪১

প্রিন্ট

রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ফেসবুক বন্ধ করা হতে পারে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ফেসবুক বন্ধ করা হতে পারে: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রকে বিপন্ন করার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে ইন্টারনেট ও ফেসবুক বন্ধ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সোমবার রাজধানীর র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তার উত্তর ছিল এমন। সেখানে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন তিনি।

সরকারের কাছে সবার আগে রাষ্ট্র ও জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্র কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে প্রযুক্তির দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। বৃহত্তর স্বার্থের জন্য ক্ষুদ্রতম স্বার্থ ত্যাগের মানসিকতা রাখতে হবে।’

মোস্তাফা জব্বারের কথায়, ‘আজ যদি আমি দেখি— ফেসবুক আমার রাষ্ট্রকে বিপন্ন করে ফেলেছে, সেক্ষেত্রে আমার রাষ্ট্র বাঁচাবো নাকি ফেসবুক বাঁচাবো? আমাকে অবশ্যই রাষ্ট্র বাঁচাতে হবে ও সেজন্য যা করার তা আমাকে করতেই হবে।’

ভবিষ্যতে অন্য কোনও ইস্যু বা জাতীয় নির্বাচনে ইন্টারনেটের গতি কমানো হবে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

গুজবগুলো ফিল্টারিংয়ের বিষয়ে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘ফেসবুকে আমাদের ফিল্টারিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। আমরা কেবল ফেসবুককে অনুরোধ করতে পারি। ফেসবুক তার স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কাজগুলো করে। এতোদিন আমাদের ফেসবুকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না, এখন ফেসবুকের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ট যোগাযোগ আছে। ফেসবুক আমাদের সব কথা শোনে না, কিন্তু কিছু কথা শোনে।’

‘তবে এই ব্যবস্থাটিকে আমরা মনে করি পর্যাপ্ত না। সে কারণে টেলিকম বিভাগের মাধ্যমে ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি শেষ করতে পারলে সম্পূর্ণভাবে কনটেন্ট ফিল্টারিং বা যাচাই-বাছাই করতে সক্ষম হবো। প্রকল্পটি টেবিলে ছিল, এখন এটি মাঠে আছে।’

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মধ্যে শনিবার (৪ আগস্ট) ফেসবুকে গুজব ছড়ানো হয়। যা জনমনে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এরপর ওইদিন সন্ধ্যা থেকে ২৪ ঘণ্টা থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিয়েছিল সরকার।

এদিকে আগামী ৮ থেকে ১০ আগস্ট র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের টেলিকম সংস্থার ১৮তম পলিসি এবং রেগুলেটরি ফোরাম। ওই তিন দিন থাকছে এ অঞ্চলের জন্য উচ্চপর্যায়ের টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত নীতিমালা, রেগুলেটরি ইস্যু নিয়ে আলোচনা। এছাড়া ২০১৮-২০২০ সাল পর্যন্ত এ অঞ্চলের জন্য টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি সংক্রান্ত কৌশলপত্র প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হবে। ডিজিটাল অর্থনীতিতে উদীয়মান প্রযুক্তির প্রবণতাসহ পলিসি, রেগুলেটরি চ্যালেঞ্জ ও উদ্ভাবন বিষয়ে আলোকপাত করা হবে অনুষ্ঠানে।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) বিভিন্ন দেশের রেগুলেটর প্রধান, সংস্থা প্রধান, অপারেটর, টেলিকম ও আইসিটি এক্সপার্টসহ প্রায় ১৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেবেন এতে।

আইটিইউ ও এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের টেলিকম সংস্থার (এপিটি) উদ্যোগে এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ ও বিটিআরসির যৌথ আয়োজনে হচ্ছে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের পাঁচ দিনের এই দুটি সম্মেলন। সোমবারের অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন বিটিআরসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যামসুন্দর শিকদারসহ অনেকে।

ডিপি/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত