ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৮:৩০

প্রিন্ট

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি পরিবারের

গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি পরিবারের
নিজস্ব প্রতিবেদক

কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন তাদের ভুক্তভোগী পরিবার। শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ কর, গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রদের মুক্তি দাও’ ব্যানারে তারা মানববন্ধন করেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে সাধারণ ছাত্র অধিকার রক্ষা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানের মা সালেহা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ছেলের মুক্তির দাবি জানান। তিনি তার ছেলেকে ‘নিষ্পাপ’ বলে দাবি করেন। গত ১ জুলাই মিরপুর ভাষানটেক এলাকা থেকে রাশেদ খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনের অধীনে একটি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় আরেকটি সহ মোট দু’টি অভিযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মা’ সম্বোধন করে রাশেদের মা অনুরোধ করেন, ‘মা, দয়া করে আমার ছেলেকে মুক্তি দিন। তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে দিন। সে ‍ কোনো অপরাধ করেনি। আমার ছেলে নিষ্পাপ।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেক নেতা তরিকুল ইসলামের বাবা শফিকুল ইসলাম তার ছেলেকে দোষী কিনা সেটা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। গত ২ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তরিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মানববন্ধনে এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির ছাত্র দীপু বলেন, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলায় চালায় একদল দুর্বৃত্ত। তাদের হামলায় অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, যারা হামলা করেছে তাদের গ্রেপ্তারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। অথচ যাদের ওপর হামলা করা হয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্যকালে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না দুই আন্দোলনে শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। তিনি ব‌লেন, ‘আমরা সবাই জানি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন একটি নিরাপদ আন্দোলন। এটা সরকারবিরোধী কোনও আন্দোলন ছিল না। সরকার পতনের এবং রাজনীতি কোনও আন্দোলন ছিল না। বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ চায়, যখন তারা রাস্তায় হাঁটবে নিরাপদে হাঁটবে। শুধু ঢাকা মহানগরীতে নয়, সারাদেশে রাস্তা নিরাপদ নয়, এই জন্য কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমেছিল।’

এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফর উল্লাহ চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘কোমলমতি ছাত্রদের যেভাবে দড়ি বেঁধে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এটাকে কি আপনি সভ্য সমাজ বলবেন? ১০০ বছর পরে যদি কোনও নতুন সরকার আসে, সেই সরকার যদি আপনাদের ছবিগুলোকে দড়ি বেঁধে নিয়ে যায়, সেটা কি আপনি পছন্দ করবেন? যদি না চান তাহলে জনগণকে কথা বলার অধিকার দেন।’

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন মানবাধিকার কর্মী ফরিদা আক্তার এবং একাডেমিক অ্যাক্টিভিস্ট রেজাউর রহমান লেনিন। তারা অবিলম্বে গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এছাড়া তারা চিত্রশিল্পী শহিদুল ইসলাম ও অভিনেত্রী নওসাবার দ্রুত মুক্তির দাবি জানান।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত