ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:১৭

প্রিন্ট

বিয়ে জালিয়াতি

বিয়ে জালিয়াতি
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় এক বছর প্রেম; অতঃপর স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বিয়ে। প্রায় ১১ বছর ধরে সংসার। এর মধ্যে বিদেশে গিয়ে দুইজন একসঙ্গে চাকরিও করে। এরপর সেই কথিত স্বামী জানাল তাদের বিয়েই হয়নি। সবকিছুই ছিল প্রতারণা ও জালিয়াতি।

সম্প্রতি এক মামলার তদন্ত করে এ তথ্য উদ্ঘাটন করেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০০৬ সালে টাঙ্গাইলে বেড়াতে গিয়ে ঢাকার গেন্ডারিয়ার মোসা. কাজলের সঙ্গে পরিচয় হয় ময়মনসিংহের ভালুকার জাকিরের। এ থেকে প্রেম। ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি জাকির ঢাকার আদালতে কাজলকে নিয়ে যায় বিয়ে করার জন্য। আদালত চত্বরে অপরিচিত এক ব্যক্তিকে কাজলের কাছে নিয়ে বলে তিনি কাজী। এই স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিলে বিয়ে হবে। কাজল সরল বিশ্বাসে পঞ্চাশ টাকার এক পাতার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেয়ার পর জাকির তাকে বলে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে আইনজীবীর সিল, সই হলফনামা সবই ছিল জাল।

এরপর জাকির কাজলকে নিয়ে তাদের ঢাকার বাসায় গিয়ে বলে কোর্টে তাদের বিয়ে হয়েছে। বিবাহের হলফনামার ফটোকপি কাজলের হাতে দেয়। কাজলের অভিভাবকরা জাকিরকে জামাই হিসেবে মেনেও নেয়। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে দাম্পত্য জীবন শুরু করে। ২০০৯ সালে জাকির দুবাই যায়। ২০১২ সালে জাকির কাজলকে দুবাই যেতে বলে এবং সব ব্যবস্থাও করে দেয়। ২০১৭ সালে ২৯ ডিসেম্বর কাজলকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয় জাকির। ২০১৮ সালে জানুয়ারিতে জাকির দুবাই থেকে দেশে ফেরার পর কাজলের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। এর মধ্যে জাকির তাকে (কাজল) না জানিয়ে বিয়ে করে। ফেব্রুয়ারি মাসে কাজল জাকিরের বিয়ের কথা জানতে পেরে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতেই জাকির ধমক দিয়ে বলে আমি তোমাকে বিয়ে করিনি। বিয়ের হলফনামা সঠিক না।

এ ঘটনার পর কাজল আদালতে মামলা করলে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পড়ে পিবিআইয়ের ওপর। পিবিআইয়ের তদন্তে প্রমাণিত হয় হলফনামায় আইনজীবীর সিল-স্বাক্ষর সবই জাল। স্বামী- স্ত্রী হিসেবে বসবাস ছিল প্রতারণা।

মামলার তদন্তকারী পিবিআইয়ের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, মামলাটি তদন্ত করে প্রতারণার প্রমাণ পেয়ে আসামি জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত