ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

নতুনরূপে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২২:০৪

প্রিন্ট
নতুনরূপে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের উদ্বোধন বৃহস্পতিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে সাজানো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বৃহস্পতিবার। আশা করা হচ্ছে, এদিন সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল বুধবার বিকেলে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

সংস্কারের পর হোটেলটির ৪১টি কক্ষ কমেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ শেষে শিগগিরই হোটেলটি বাণিজ্যিকভাবে উন্মুক্ত করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু করেছিল দেশের প্রথম পাঁচ তারকা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। স্থপতি উইলিয়াম বি ট্যাবলারের চমৎকার নকশায় গড়া এ হোটেলটি আজও চমৎকার স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন। এটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল নামেই চলে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত। এরপর স্টারউড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হওয়ায় ১৯৮৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ঢাকা শেরাটন হোটেল নামে এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শেরাটনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ‘রূপসী বাংলা হোটেল’ নামে এটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি হোটেলটির মালিক কোম্পানি বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলস গ্রুপ (এশিয়া প্যাসিফিক) প্রাইভেট লিমিটেডের (আইএইজি) সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে বন্ধের পর ২০১৫ সালের মার্চে সংস্কারকাজ শুরু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রূপসী বাংলা হোটেলে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ২৭২টি কক্ষ ছিল। সংস্কারের পর কক্ষের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩১ টিতে। আয়তনের দিক থেকে কক্ষের আকার দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ৪০ বর্গমিটার। বিশ্বমানের অতিথিসেবা নিশ্চিত করতে পরিবর্তন করা হয়েছে সুইমিং পুল ও ডাইনিং হলের অবস্থান। এর আগে হোটেলটির বলরুম ছিল একদিকে, উইন্টার গার্ডেন নামে সবচেয়ে বড় হলরুমের অবস্থান ছিল অন্যদিকে। এখন বলরুম দু'টিকে এক করে দেয়া হয়েছে। হোটেলটির মূল ফটকও স্থানান্তর করা হয়েছে। ভেতরের সুইমিং পুলটিও অবস্থান পরিবর্তন করে সাজানো হয়েছে নতুন করে। গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় নিয়ে বাড়ানো হয়েছে সুযোগ-সুবিধা। সংস্কারকাজে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬২০ কোটি টাকা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে জীবন বাজি রেখে ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যার ছবি ধারণ করেছিলেন হোটেলে অবস্থানরত বিবিসির বিখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি ও সাইমন ড্রিং, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) পাকিস্তান ব্যুরোর প্রধান আর্নল্ড জেইটলিন, ক্লেয়ার হলিংওর্থ, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর প্রতিবেদক ডেভিড গ্রিনওয়ে। এসব ছবির মাধ্যমে বিশ্ব জানতে পেরেছিল বাংলাদেশ কী নৃশংসতার শিকার হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক, বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের (বিএসএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাব্বের হোসেন প্রমুখ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত