ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৫:০২

প্রিন্ট

পাঠদান বন্ধ: স্কুলে সভাপতির ধানের গুদাম

পাঠদান বন্ধ: স্কুলে সভাপতির ধানের গুদাম
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের বাদুরগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন দখল করে সভাপতি তার ধানের গুদাম বানিয়ে সেখানে ধান ও চাল মাড়াই করছেন। ধান ও চাল মাড়াই মেশিনের শব্দে প্রায় এক মাস ধরে ক্লাস বন্ধসহ শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর ২০১৭ সালে বিদ্যালয়টির ৩ তলা নতুন ভবন তৈরি করা হয়। নতুন ভবন হওয়া পর বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাবেক ইউপি সদস্য মো. ইছাহাক হাওলাদার জোরপূর্বক বিদ্যালয় ভবনের নীচ তলার পুরো অংশ দখল করে সেখানে তার খেতের আউশ ধান রাখার গুদাম ঘড় বানিয়েছেন।

বিদ্যালয় ভবন দখল করে শুধু গুদাম ঘড় বানিয়েই ক্ষান্ত হননি সভাপতি ইছাহাক হাওলাদার। এখানেই আবার ২টি মেশিন বসিয়ে ধান এবং চাল মাড়াই করছেন। নিজের ধান এবং চাল মাড়াইসহ বাণিজ্যিকভাবে এ কাজটি করছেন তিনি। নিজের ২টি মেশিনের মাধ্যমে এলাকার বোরো ও আউশ মৌসুমের ধান এবং চাল মাড়াইর ব্যবসা করছেন বিদ্যালয় ভবন দখল করে।

বিদ্যালয়ের ক্লাসের সময় ২টি মেশিনের প্রচণ্ড শব্দের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারেন না। তখন নিরুপায় হয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ছেড়ে বাড়ি চলে যান। শিক্ষকরা তখন অসহায়ের মত দাঁড়িয়ে থাকেন। সভাপতির এরকম আচরণের কারণে আউশ মৌসুমের ধান ও চাল মাড়াইর শব্দের কারণে ক্লাস চলে নামে মাত্র। শব্দের কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না থাকায় শিক্ষকরা ক্লাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। বিদ্যালয়ের এরকম অবস্থা চলছে প্রায় ১ মাস ধরে।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়া আকতার বলেন, ‌‘স্কুলের সময় মেশিন চালায়। এসময় প্রচণ্ড শব্দে আমরা ক্লাসে স্যারেগো কোন পড়া বুঝতে পারি না। এতে আমাগো লেখা পড়ায় অনেক সমস্যা হয়’।

তৃতীয় শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী মো. ইমন জানান, ‘স্কুলের সময় মেশিনের শব্দে মোগো মাথা ব্যথা করে। হের পর আর ক্লাসে থাহি না বাড়ি চইল্যা যাই’।

বাদুরগাছা গ্রামের অভিভাবক মো. বশার সিকদার জানান, ‘স্কুলের ঘড় দখল কইর‌্যা সভাপতি ইছাহাক হাওলাদার হ্যার ধান রাহার গুদাম বানাইছে। হের পর আবার হেইহ্যানে বইয়া ধান ও চাউল বানায় (মাড়াই করে)। এতে মোগো পোলাপানের ল্যাহা পড়ায় অনেক ক্ষতি অয়। মোরা এইয়া মানা করলেও হে হোনে(শোনে) না’।

গ্রামের আরো অনেক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সভাপতি ইছাহাক হাওলাদার এর আগেও প্রভাব খাটিয়ে দোতলার একটি কক্ষ দখল করে তার নিজের বাংলো বানিয়ে ব্যবহার করতেন। তার কারণে নতুন ভবনের নান্দনিক দৃশ্য এখন মেশিনের ধোয়া আর ময়লায় ভরে স্কুল ভবন এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে উঠছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি মো. মিজানুর রহমান জানান, বিদ্যালয় ভবন দখল করে এভাবে ধান রাখলে ছাত্র ছাত্রীদের লেখা পরার পরিবেশ নষ্ট হয়। দ্রুত ধান সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।

অভিযুক্ত সভাপতি ইছাহাক হাওলাদার বিদ্যালয় ভবন দখল করে ধানের গুদাম এবং ধান ও চাল মাড়াইর কথা স্বীকার করে বলেন, ‘নীচতলা খালি থাকায় ধান রেখে তা মাড়াই করে শুকিয়ে চাল করে বাড়ি নেই এতে দোষের কিছু নেই’।

মেশিন বসিয়ে ধান ও চাল মাড়াই’র ব্যবসা করার বিষয়ে বলেন, বৃষ্টির সময় জায়গা না থাকায় ওখানে মেশিন রেখেছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুনা লায়লা জানান, সভাপতিকে বিদ্যালয় ভবন দখল করে ধান ও মেশিন রাখার বিষয়ে নিষেধ করা সত্ত্বেও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জোরপূর্বক তিনি এ কাজটি করেছেন।

তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মনিরুজ্জামান রিপন বলেন, বিদ্যালয় ভবন দখল করে যদি কেউ ধান বা মেশিন রাখে তা অবশ্যই বেআইনি। সরেজমিনে তদন্ত করে দ্রুত ধান এবং মেশিন সরানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা রহমান জানান, বিষয়টি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত