ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ৩ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৬

প্রিন্ট

উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে যৌথপ্রকল্প: শেখ হাসিনা

উন্নয়ন ত্বরান্বিত করবে যৌথপ্রকল্প: শেখ হাসিনা
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত মিলে যে কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে, তা দুই দেশের উন্নয়নকে আরো ত্বরান্বিত করবে।

মঙ্গলবার বিকালে তিনটি নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার গণভবন থেকে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিল্লী থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এবং পাইপলাইন দিয়ে সরবরাহ চালু হয়ে গেলে জ্বালানির দাম অনেক কমে যাবে।

তিনি বলেন, ঢাকা-টঙ্গী ও টঙ্গী-জয়দেবপুর তৃতীয়-চতুর্থ এবং পঞ্চম ডুয়েল-গেজ রেললাইন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হলে এক দিকে যেমন ঢাকার ওপর চাপ কমবে তেমনি যাতায়াতের গতি বাড়বে। এতে ভারত-বাংলাদেশ উভয়েই উপকৃত হবে।

বাংলাদেশ সরকারপ্রধান বলেন, প্রকল্পের আওতায় ৯৬ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ হলে বাংলাদেশের পণ্য যেমন চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ভারতসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় যেতে পারবে তেমনি উত্তরপূর্বে ভারতের রাজ্যগুলোয় সরবরাহ করা যাবে।

কনফারেন্সের শুরুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা তার বক্তৃতায় বলেন, আপনার জন্মদিনে আপনাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। অপরদিকে আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার জন্মদিন। এ উপলক্ষে আগাম শুভেচ্ছা জানান নরেন্দ্র মোদি।

ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প ছাড়া বাকি দুটি হলো- ভারতীয় এলওসির অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে তৃতীয় ও চতুর্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্প।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা-টঙ্গী সেকশনে ৩য় ও ৪র্থ ডুয়েলগেজ লাইন এবং টঙ্গী-জয়দেবপুর সেকশনে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মিত হলে সমন্বতি ও গতিময় ট্রেন সার্ভিস প্রবর্তনের মাধ্যমে শহরতলী এবং অন্যান্য জেলাসমূহের যাত্রী সাধারণের রাজধানী ঢাকায় স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সময় সাশ্রয়ী যাতায়াত সম্ভব হবে। প্রকল্পটিতে ভারতীয় এলওসি’র বরাদ্দ ৯০২ কোটি ৬৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা। অপরদিকে বাংলাদেশ সরকার খরচ করবে ২০৪ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।

এ ছাড়া শিলিগুড়ি নুমালিগড় তেল শোধনাগার থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার ডিজেল সরবরাহর পাইপ লাইনের কাজ শেষ করতে সময় লাগবে দুই বছর। বর্তমানে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ হয়। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পাইপ লাইন দিয়ে সরবরাহ চালু হয়ে গেলে তার দাম অনেক কমে যাবে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের দুই প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যৌথভাবে আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ কাজ, কুলাউড়া-শাহবাজপুর বিভাগের রেলপথের সংস্কার প্রকল্প এবং বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে ভারত থেকে ভেড়ামারায় নবনির্মিত ৫শ মেগাওয়াট এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক কেন্দ্রের দ্বিতীয় বন্টকের উদ্বোধন করেন।

মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনটি নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, ভারতের পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, ঢাকায় ভারতের হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত