ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০১৮, ১৬:২৩

প্রিন্ট

‘এএসপির’ ৯ বিয়ে, অতঃপর আটক

‘এএসপির’ ৯ বিয়ে, অতঃপর আটক
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে ৯ বিয়ের প্রতারক ভুয়া এএসপি শাহীন আলম ওরফে তারেক ওরফে লিটন ওরফে এএসপি সজিবকে (২৯) আটক করেছে র‌্যাব। একেক নামে একেক জেলায় পরিচিত তিনি। আটকের পর তার কাছ থেকে পুলিশের ভুয়া আইডি কার্ড, বিপুল পরিমাণ ভিজিটিং কার্ড, পুলিশ ও র‌্যাবের ইউনিফর্ম পরিহিত ছবি, এএসপি সজিব নাম সংবলিত পরিচয়দানকারী দাওয়াত কার্ড এবং ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হলেও বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে আদমজীনগরস্থ র‌্যাব-১১।

গণমাধ্যমে পাঠানো আদমজীনগর র‌্যাব-১১ এর এএসপি মো. নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি র‌্যাব-১১ এর এএসপি পরিচয়ে এ পর্যন্ত ৯টি বিয়ে করেছেন। প্রতারক সজিব দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় র‌্যাবের এএসপি হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ লোকের কাছ থেকে মামলার তদবির, আসামি ছাড়ানোর জন্য উৎকোচ গ্রহণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছিলেন।

চিটাগাং রোড এলাকায় তিনি এএসপি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে সবার কাছে পরিচিত বলে জানা যায়। আর জনগণের কাছে বিশ্বাস অর্জনের জন্য বিশেষ কৌশলের আশ্রয় নিতেন। তিনি তার মোবাইলে ফটোশপের মাধ্যমে পুলিশ ও র‌্যাবের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার র‌্যাংকব্যাজ পরিহিত ছবির সাথে তার নিজের ছবি এডিটিং করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণাসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করতেন। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে রাষ্ট্রীয় পদক পরিয়ে দিচ্ছেন- এমন একটি ভুয়া ছবিও তার মোবাইলে পাওয়া যায়।

সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করার জন্য রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে তাকে মিটিংরত অবস্থায়, পুলিশের ট্রেনিংরত অবস্থা সংবলিত ভুয়া ছবিও তিনি ব্যবহার করেন।

প্রতারক সজিব শুধু এএসপি পরিচয়ই দিতেন না, প্রতারণা করার জন্য মানুষের শ্রেণি বুঝে কখনো পুলিশের এসআই, কখনো র‌্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার পরিচয় প্রদান করে আসছিলেন।

র‌্যাব-১১ এর আভিযানিক দল তার কাছে বিপুল পরিমাণ বিয়ের দাওয়াত কার্ড জব্দ করে। এগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায় কার্ডগুলো তার নিজের বিয়ের, সেখানেও বর হিসেবে এএসপি সজিবের নাম লেখা। দাওয়াত কার্ডগুলোর উপরে র‌্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম-ঠিকানা লেখা ছিল।

এ সম্পর্কে সজিব জানান, মাত্র ৭ দিন আগে প্রতারণার মাধ্যমে সানারপার এলাকায় তার নবম বিয়ে সম্পন্ন করেছে। নববধূকে এই কার্ডগুলো দেখিয়ে বিশ্বস্ততা অর্জন করাই তার লক্ষ্য ছিল। এছাড়াও ভুয়া এএসপি নারারায়ণগঞ্জ ও তার আশপাশের এলাকা থেকে বিদেশে লোক পাঠানোর কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

গত ১ অক্টোবর ২০১৮ তারিখে সিদ্ধিরগঞ্জ হাউজিং এলাকায় প্রতারণার উদ্দেশ্যে ৩ কোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি ক্রয়ের জন্য এএসপি পরিচয় প্রদান করে ভয়ভীতির প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত