ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ১৫:৫৭

প্রিন্ট

বাংলাদেশে ব্যবহৃত পানির ৯২ শতাংশই দূষিত

বাংলাদেশে ব্যবহৃত পানির ৯২ শতাংশই দূষিত
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ব্যবহার করা প্রায় ৯২ শতাংশ পানিই দূষিত বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বহুমুখী সহায়তা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। বৃহস্পতিবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর এক হোটেলে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের গবেষণাপত্রে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, এদেশে পান করার ৪১ শতাংশ পানিতে ই-কোলি ব্যাকটেরিয়া আছে। আর ১৩ শতাংশ পানি আর্সেনিকযুক্ত। শহরগুলোতে ৫২ শতাংশ পানি পাইপলাইনে সরবরাহ করা হলেও তা সঠিক মাত্রায় শোধন করা হয় না।

বিশ্বব্যাংকের গবেষণা বলছে, বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট চলছে। নলকূপ বা উপরিভাগ পানির সব কয়টি উৎসই এখন ঝুঁকিতে।

বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ জর্জ জোসেফ বলেন, ‘এখনই বিশুদ্ধ পানির উৎসের প্রতি সচেতন না হলে ভষ্যিতে ভয়াবহ পরিণতির শিকার হতে হবে।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গৃহস্থালিতে স্যানিটেশনের ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে এখনো সেই সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

‘বাংলাদেশের মাত্র ৫২ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানায় টয়লেট রয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে মাত্র অর্ধেকের মতো স্কুলে। আর ১০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে টয়লেট আছে একটি, যা জাতীয় গড়ের অর্ধেক।’

স্কুলের ভালো স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় মাসিক ঋতুস্রাবের সময়ে ২৫ শতাংশ ছাত্রী অনুপস্থিত থাকে বলে জানান এই বিশ্ব ব্যাংক কর্মকর্তা।

এ সময় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ‘সারাদেশে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশের সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় অনেক লবণাক্ত পানির কারণে নানা রকম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সেরিন জুমা বলেন, ‘বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসাবে তৈরি করা হয়েছে এই প্রতিবেদন। পানির দূষণ ও নিম্নমান এবং স্যানিটেশনের বাজে অবস্থা অনেক অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’

তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি হিসাব দিয়েছিল, বৈশ্বিকভাবে পানি ও স্যানিটেশনে নিশ্চিতে যদি ১ ডলার খরচ করা হয়, তাহলে সেক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় ওটার বিপরীতে লাভ আসবে ৫ ডলার।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রোকসানা কাদের, বিশ্ব ব্যাংকের প্র্যাকটিস ম্যানেজার তাকুয়া কামাতা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনা উন্নত করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আরও গতিশীল হবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক।

এর আগে গতমাসে বাংলাদেশের নগর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা: দেশের পরিবেশগত বিশ্লেষণ ২০১৮’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলেছিল- বাংলাদেশে নগর এলাকায় পরিবেশের অবনতি ও দূষণের ফলে প্রতি বছর প্রায় সাড়ে ছয় শ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে। যা দেশের জিডিপির (২০১৫) প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। পরিবেশ ও দূষণের দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এখানে দূষণ বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছে গেছে (২০১৫)। নগর এলাকায় প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এই পরিবেশগত কারণে। সারা বিশ্বে গড়ে ১৬ শতাংশ মানুষের মৃত্যু পরিবেশগত বিভিন্ন দূষণের কারণে হলেও বাংলাদেশে এ মাত্রা ২৮ শতাংশ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত