ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ২১:২০

প্রিন্ট

মোবাইলে প্রেম, বিয়ে করতে গিয়ে যৌনপল্লিতে বিক্রি!

মোবাইলে প্রেম, বিয়ে করতে গিয়ে যৌনপল্লিতে বিক্রি!
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত মেয়েটি। যশোরের শার্শা উপজেলার সনাতনকাটি গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। বিয়ের কথা বলে গত সেপ্টেম্বর মাসে যশোর যায় মেয়েটি। এরপর তাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বৃহত্তম যৌনপল্লি সোনাগাছিতে বিক্রি করে দেয় কথিত প্রেমিক ও তার বন্ধুরা।

সেই মেয়েটিকে যৌনপল্লি থেকে ফিরিয়ে এনে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন সাতক্ষীরার সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফ এনামুল হক। মেয়েটি রোববার সাতক্ষীরার বিচারিক হাকিম সালমা খাতুনের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে জানায় তার পাচার হওয়ার গল্প, ফিরে আসার গল্প।

কিশোরী জানায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সপ্তম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রী ছিল সে। তার সঙ্গে মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে যশোরের শার্শা উপজেলার সনাতনকাঠি গ্রামের যুবক সাগরের। প্রায় আট মাসের সম্পর্কের জেরে সাগর গত ৮ সেপ্টেম্বর বিয়ের নাম করে তাকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়।

পরে যশোরের সাতমাইল এলাকা থেকে সাগর, আসিফ ও আহাদসহ পাঁচ বন্ধু মিলে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এরপর সুজন নামের একজনের বাড়িতে তাকে এক সপ্তাহ রাখা হয়। সাগর জানায়, সোনাই নদীর ওপারে ভারতের কালিন্দিতে তার ফুফু থাকে। সেখানেই তাদের বিয়ে হবে। পরে সুজনের মাধ্যমে সোনাই নদী সাঁতরে কিশোরীকে পার করে দেয় ভারতে। এরপর তাকে কলকাতার সোনাগাছির যৌনপল্লিতে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয় তারা। এরপর থেকেই শুরু হয় অভিশপ্ত জীবন। সেখান থেকে লুকিয়ে এক খদ্দেরের মোবাইল থেকে সাতক্ষীরায় বাবা-মায়ের মোবাইলে কল দিয়ে উদ্ধারের আকুতি জানায় কিশোরী।

সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফ এনামুল হক জানান, মেয়ের ফোন পেয়েই প্রথমে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বাবা-মা। পরে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একটি মামলা হয়।

এই মামলার ভিত্তিতে এসআই শরিফ মেয়েটিকে উদ্ধার করতে শার্শার সনাতনকাটির এক ইউপি সদস্যের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা সাগরের ফোন নম্বর ট্র্যাক করে তার মায়ের নম্বর খুঁজে পান। সাগরের মা রেবেকা খাতুন অবস্থা বুঝতে পেরে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। এরপর এসআই শরিফ ভারতে তাঁর দুই আত্মীয়র মাধ্যমে যোগাযোগ করেন মেয়েটির সঙ্গে। তাকে যৌনপল্লি থেকে পালিয়ে কাছের পেট্রল পাম্পের কাছে দাঁড়াতে বলা হয়। সাহসের পরিচয় দিয়ে কিশোরী নির্দিষ্ট জায়গায় অপেক্ষা করতে থাকে।

ওই সময় ওই দুই আত্মীয় গিয়ে তাকে দ্রুত সেখান থেকে নিয়ে আসে। পরে তাকে যশোরের পুটখালী সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ওইদিন সন্ধ্যায় মেয়েটির বাবা-মা তাকে শনাক্ত করেন।

মেয়েটিকে উদ্ধার করে নিজের ভালোলাগার কথা জানান এসআই শরিফ এনামুল হক। তিনি বলেন, সোনাগাছির পাশে একটি পেট্রল পাম্পের সামনে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে খানিকটা ফিল্মি স্টাইলে তুলে এনে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছি আমরা। ভালো লাগছে যে, একটি মেয়েকে তার অভিশপ্ত জীবন থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। কারণ মেয়েটি তো আমারও হতে পারতো।

আজ জবানবন্দি দিতে গিয়ে কিশোরী বলে, সোনাগাছিতে আমি ঢাকার মিরপুর ও সিলেটের অনেক মেয়েকে দেখেছি। তারাই আমাকে জানিয়েছে দুই লাখ টাকায় পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়ার কথা। আমি সাগর ও তার সহযোগী পাচারকারীদের সর্বোচ্চ সাজা চাই।

জবানবন্দি শেষে সন্ধ্যায় মেয়েটিকে তার বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান এসআই শরিফ।

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত