ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:২০

প্রিন্ট

মরিয়মের ওপর এ কেমন নির্মম নির্যাতন

মরিয়মের ওপর এ কেমন নির্মম নির্যাতন
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিদিন বেতের লাঠি, কাঠের বেলুন, গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, নখে সুই ঢুকিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হয় গৃহকর্মী মরিয়মের ওপর। শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই। অসহায় অবস্থায় মরিয়ম আর্তনাদ করেছে, ‘ওদের হাত থেকে আমাকে বাঁচান’।

নিজেকে বাঁচানোর জন্য এভাবেই আর্তনাদ করেছে গৃহপরিচারিকা লামিয়া আক্তার মরিয়ম (১০)। বর্তমানে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সে। এমন ঘটনায় গৃহকর্ত্রী কাশীপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মী শারমিন আক্তার আখিকে আটক করা হয়েছে। তবে আখির স্বামী আইসিবিএল ব্যাংকের কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী পালিয়ে গেছেন। মরিয়মকে নির্যাতনের বিষয়টি স্বীকার করে পুলিশকে জবানবন্দি দিয়েছেন গৃহকর্ত্রী আখি।

মরিয়ম বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর নোয়াপাড়া গ্রামের রিকশাচালক ইকবাল সরদারের মেয়ে। মরিয়মের মা নেই।

মরিয়ম বলেন , গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী দুইজনই কারণে-অকারণে একসঙ্গে আমাকে শারীরিক নির্যাতন করতেন, বাসায় আটকে রাখতেন, বেতের লাঠি, কাঠের বেলুন দিয়ে আমাকে মারতেন এবং মাঝে মধ্যে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দিতেন। সবশেষ সোমবার না বলে চিনি খাওয়ার অপরাধে প্রথমে বেত ও বেলুন দিয়ে মারধর করে, পরে নখে সুই ঢুকিয়ে আমার মাথার চুল কেটে দেয় তারস্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিন রাতে মরিয়মের কান্নার বিষয়টি ডিবি পুলিশকে জানিয়ে একটি অভিযোগ দেয় প্রতিবেশীরা। সোমবার রাতে বরিশাল নগরীর কাশীপুর আনসার ক্যাম্পের পেছনে মদিনা সড়কের আকাশ মঞ্জিলে অভিযান চালিয়ে মরিয়মকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মরিয়ম জানায়, ৬ মাস আগে বাসার কাজের জন্য তাকে গ্রাম থেকে আনা হয়। আনার পর প্রথম প্রথম ভালো ব্যবহার করতেন আখি-আশরাফুল দম্পতি। কয়েকদিন পর কারণে-অকারণে আখি ও তার স্বামী মরিয়মের ওপর নির্যাতন চালাতে শুরু করেন। বেশিরভাগ সময় বেতের লাঠি ও কাঠের বেলুন দিয়ে মারধর করতেন তারা। বাইরে যাতে শব্দ না যায় এ জন্য দরজা বন্ধ করে মারতেন।

হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শরীরের ব্যথা-যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে মরিয়ম। তার শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে বেত ও বেলুনের আঘাত নেই। চোখের ওপর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, দুই চোখের ওপর-নিচ কালো হয়ে ফুলে গেছে, মাথায় চুল নেই, পুরো শরীর ফুলে উঠেছে তার।

মহানগর ডিবি পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, একটি উড়ো চিঠির মাধ্যমে আমাদের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ আসে। এরপর ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে গৃহকর্ত্রী আখিকে আটক করি এবং গৃহকর্মী মরিয়মকে উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। অভিযানের টের পেয়ে গৃহকর্তা আশরাফুল পালিয়ে যায়।

এসি নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, এ ঘটনায় বরিশাল বিমানবন্দর থানায় ডিবি পুলিশের এসআই ইউনুস আলী বাদী হয়ে আখি ও আশরাফুলকে আসামি করে মামলা করেছেন। ওই মামলায় আখিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি আখির স্বামী আশরাফুলকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রেখেছে ডিবি পুলিশ।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত