ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০১৮, ০১:১৫

প্রিন্ট

যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ব্যারিস্টার মঈনুল

যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ব্যারিস্টার মঈনুল
ফাইল ছবি
জার্নাল ডেস্ক

ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আ স ম আব্দুর রবের বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড সিদ্দিক জানিয়েছেন, আনুমানিক রাত সাড়ে ৮টার পর ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন এই বাসায় (আ স ম আব্দুর রবের বাসায়) আসেন তার ব্যক্তিগত একটি প্রাইভেটকারে করে। তার আগে থেকেই পুলিশ বাড়ির বাইরে অবস্থান করছিল। তিনি আসার আগেও সিভিল পোশাকের পুলিশ আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন মইনুল সাহেব আসছেন কিনা। যখন তিনি বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন তার কিছুক্ষণ পরে তারা একে অন্যকে খবর দেন। অল্প সময়ের মধ্যে বাড়ির সামনে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশের সংখ্যা বেড়ে যায়।’

সিদ্দিক বলেন, ‘রাত পৌনে ৯ টার দিকে পুলিশ ভেতরে ঢোকেন। তখন আমাদের স্যারের (আ স ম আব্দুর রব) সঙ্গে মঈনুল স্যার ওপরে বসে কথা বলছিলেন। পুলিশ তখন নিচের দরজা ভেঙে উপরে উঠে যায়। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিটের মতো তারা ছিলেন। পরে মঈনুল স্যারকে সঙ্গে নিয়ে নিচে এসে একটি সিলভার রঙের হাইয়েচ গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।’

তিনি বলেন, ‘বাড়ির সামনে রোডের দুই মাথার এক পাশে তিনটি এবং অপর পাশে চারটি সিলভার রঙের হাইয়েচ গাড়ি দাঁড়ানো ছিল। আর উত্তরা পশ্চিম থানার দুটি গাড়ি ছিল। এছাড়া পুলিশের ৬ থেকে ৭টি মোটরসাইকেল ছিল।’

প্রসঙ্গত, রাজধানীর উত্তরায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসা থেকে ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। সোমবার রাত ১০টার দিকে রংপুরে দায়ের করা মানহানির একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্মকমিশনার মাহবুব আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ব্যারিস্টার মঈনুল ইসলাম রংপুরের একটি মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তাকে সেই পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে এখন ডিবি অফিসে নেয়া হয়েছে।

টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলায় ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা, ভোলা, জামালপুর, রংপুর ও কুড়িগ্রামে একটি করে এবং কুমিল্লায় দুটি মামলা করা হয়। এসব মামলার মধ্যে ঢাকা, জামালপুর ও কুড়িগ্রামের একটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন ব্যারিস্টার মঈনুল।

গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শো ‘একাত্তর জার্নাল’-এ ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনকে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন করেন, ‘আপনার কাছে আমার একটি প্রশ্ন আছে। সেটি হচ্ছে যে বলা হচ্ছে যে আপনি এই ঐক্য প্রক্রিয়ায় বা যুক্তফ্রন্ট বলছে, ঐক্যফ্রন্ট, এই ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন, আপনি বলেছেন আপনি একজন নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু অনেকেই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে আপনি জামায়াতের প্রতিভূ হয়ে ওখানে উপস্থিত থাকেন। এটি একটি প্রশ্ন। আপনি কি আসলেই জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে ওখানে উপস্থিত থাকেন কি না। এক নম্বর প্রশ্ন। আর দুই নম্বর প্রশ্ন হচ্ছে…।’

এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে রেগে গিয়ে ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নাই। আপনি এই প্রশ্ন করেছেন, আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর। অন্য প্রশ্ন করেন। শিক্ষিতা ভদ্র মহিলা হিসেবে অন্য প্রশ্ন করেন।’

এরপর সঞ্চালক মিথিলা ফারজানা বলেন, ‘ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, আমি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সকলেই আমার সম্মানিত অতিথি। তাদেরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ কেউই করতে পারেন না। উনি প্রশ্ন করেছেন যেটি।’

এ সময় ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন বলেন, ‘আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে। আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হচ্ছে যে আমি জামায়াতের লোক। আপনি সেটা বন্ধ করেন না কেন?’

মাসুদা ভাট্টিকে প্রকাশ্যে সরাসরি অনুষ্ঠানে চরিত্রহীন বলায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে এ মন্তব্যের জন্য ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে মাসুদা ভাট্টির কাছে ফোন করেন এবং লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।

এদিকে, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেনের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দৈনিক আমাদের অর্থনীতির নির্বাহী সম্পাদক মাসুদা ভাট্টিকে সোমবার লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত