ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৯

প্রিন্ট

নড়াইলের ২৫ থেকে ৩০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি

নড়াইলের ২৫ থেকে ৩০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি
নড়াইল প্রতিনিধি

সরকার ঘোষিত ২০১৮ সালের মধ্যে সারা দেশে ঘরে ঘরে বিদ্যুতায়িত করার উদ্দোগ সফল হচ্ছেনা। ২০১৮ সালের আর মাত্র বাকী আছে ২ মাস। এখনও জেলার তিনটি উপজেলার কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। অফিস সূত্রে জানাগেছে, সদর উপজেলায় ১৩ ভাগ মানুষ এখনও বিদ্যুতের আওতায় আসেনি, লোহাগড়া উপজেলায় ১৯ ভাগ মানুষ এখনও বিদ্যুতের আওতায় আসেনি এবং কালিয়া উপজেলায় ৩৫ ভাগ মানুষ এখনও বিদ্যুতের আওতায় আসেনি।

কালিয়া উপজেলার কাঞ্চনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকার কয়ছিল এবছরে সারা দেশে কারেন্ট দিবে বছর শেষ হতে গেল আমাগে গ্রামে তো আসল না এখনও।

পটকেলবাড়ি গ্রামের রহিমা বেগম বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা এখনও কেরোসিন তৈল দিয়ে ল্যাম্প জ্বালিয়ে লেখা-পড়া করতে হয়। লোহাগড়া উপজেলার বাড়িভাঙ্গা গ্রামের মনিরুল ইসলাম ও হালনা গ্রামের দাউদ হোসেন বলেন, আমাদের এসব গ্রামের অধিকাংশ এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি।

সদর উপজেলার ননীখির গ্রামের সুজিত বিশ্বাস বলেন, আমরা শহরতলিতে বসবাস করলেও আমাদের গ্রামে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি এটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের বিষয়। অনেক দুরের মানুষেরা বিদ্যুৎ পেলেও আমরা শহরের পাশে থেকে বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে।

নড়াইল পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) দিলিপ কুমার বাইন জানান, সদর উপজেলায় মোট ৮৭ দশমিক ৮৬ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। বাকি ১৩ ভাগ মানুষ এখনও বিদ্যুতের আওতায় আসেনি। এই উপজেলায় মোট গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৪১ হাজার ৬শ ৮০ জন। এখানে ১৬ মেগা ওয়ার্ড বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে শীতের কারনে বর্তমানে চাহিদা কম রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

লোহাগড়া পল্লী বিদ্যুতের এ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. শরিফুল ইসলাম জানান, উপজেলায় মোট ৮১ দশমিক ৬৪ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। বাকি ১৯ ভাগ মানুষ এখনও বিদ্যুতের আওতায় আসেনি। এই উপজেলায় মোট গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৪২ হাজার ৩শ ৬৬ জন। এখানে ১২ মেগা ওয়ার্ড বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে শীতের কারনে বর্তমানে চাহিদা কম রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

কালিয়া পল্লী বিদ্যুতের এ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. রুবেল হোসেন জানান, উপজেলায় মোট ৬৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। বাকি ৩৫ ভাগ মানুষ এখনও বিদ্যুতের আওতায় আসেনি। এই উপজেলায় মোট গ্রাহক রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার। এখানে সাড়ে ৬ মেগা ওয়ার্ড বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন ক. লি. নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহেদ আলী বলেন, আমাদের অধীনে ব্যক্তি ও বানিজ্যিক গ্রাহক রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার। এখানে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে গরমের সময় ৭ মেগা ওয়ার্ড বর্তমানে ৪ মেগা ওয়ার্ড বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। পৌর এলাকায় ৯৮ ভাগ বিদ্যুতায়িত হয়েছে।

নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি দাবি করেন আমার নির্বাচনী এলাকা (কালিয়া উপজেলার ও সদরের একাংশ) ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ এলাকায় বিদ্যুতের সংযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে কিছু কাজ চলছে। তবে এ বছরই সম্ভব না হলেও আগামী বছরের প্রথম দিকেই সম্পন্ন হবে।

নড়াইল-২ (লোহাগড়া উপজেলা ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলেও সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএম

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত