ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:৪১

প্রিন্ট

অগ্নিকাণ্ডের আগাম সতর্কতা

অগ্নিকাণ্ডের আগাম সতর্কতা
নিজস্ব প্রতিবেদক

জয়পুরহাটের আরামনগরে ৭ নভেম্বর বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে একই পরিবারের আটজনের মৃত্যু হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণ করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। এরপরই আগুন বিষয়ক নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের অসচেতনতার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

গত সপ্তাহে আশুলিয়াতে অবৈধ গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে এক পরিবারের পাঁচজন আহত হয়; যাদের মধ্যে তিনজন পরে মারা যায়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, বিগত ছয় বছরে সারাদেশে ৮৮০০০ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ২৯০০০ কোটি টাকারও বেশি। প্রাণহানি হয়েছে ১৪০০ জন, আহত হয়েছে অন্তত ৫০০০ মানুষ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মতে, কিছু বিষয়ে সতর্কতা ও সচেতনতা অবলম্বন করলে আগুন সংক্রান্ত দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান বলেন, আমাদের এটা বোঝা জরুরি যে বৈদ্যুতিক লাইন থেকে আগুন লাগতে পারে। কাজেই নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে সংযোগের মেয়াদ আছে কি না, তারও খোঁজ রাখা প্রয়োজন।

ঘরের বৈদ্যুতিক সংযোগ, সংযোগে ব্যবহার হওয়া যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করলে এ ধরণের দুর্ঘটনার হার কমানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাসার বৈদ্যুতিক সংযোগসহ এলাকার বৈদ্যুতিক সংযোগের পরিদর্শন নিয়মতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে কি না, সেবিষয়েও নাগরিকদের খোঁজ রাখা প্রয়োজন।

রান্নার জন্য ব্যবহৃত বহনযোগ্য গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার ঘটেছে। গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়মাবলী সঠিকভাবে মেনে চললে এই ধরণের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। আলী আহমেদ খান বলেন, প্রতিবার ব্যবহারের শেষে সিলিন্ডারের চাবি বন্ধ করা, সিলিন্ডার চালু করার আগে ঘরের দরজা-জানালা খুলে বায়ু চলাচলের সুযোগ করে দেয়ার মত কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

তিনি বলেন, আগে গ্রামের বাসাবাড়িতে পাটখড়ি, কাঠ, তুলা জাতীয় জিনিস থাকতো। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ বাড়িতেই সিনথেটিক জাতীয় দ্রব্য, পারটেক্সের আসবাব থাকে যেগুলো দাহ্য পদার্থ। এসব দাহ্য পদার্থে আগুন লাগলে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও ধোঁয়া তৈরি করে এবং ধোঁয়ার প্রভাবেই অনেকসময় মানুষের মৃত্যু হয়; তাই রান্নাঘর থেকে এধরণের জিনিসপত্র দূরে রাখা প্রয়োজন।এছাড়াও প্রত্যেক বাড়িতে অন্তত একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বর্তমানে অনেক বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও দেশের অধিকাংশ বাড়িতেই এটি দেখা যায় না। আগুনের সতর্কতা হিসেবে সবসময় বাসায় বালি, পানি, দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি ফায়ার বিটার রাখার উপদেশ দেন আলী আহমেদ খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর আগুন নেভানো ও আগুন সংক্রান্ত সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণ পরিচালনা করে থাকে। সেসব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেও আগুন বিষয়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারবে।

আগুন লেগে গেলে অনেকসময় দেখা যায় আশেপাশের মানুষ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যায়। তখন তারা অগ্নিদূর্গতদের সামান্য সহায়তাও করতে পারে না। এরকম ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ দমকল বাহিনীকে খবর দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মনে করেন, এরকম অবস্থায় যেন কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে সেজন্য সবাইকে নিয়মিত অগ্নিনির্বাপক মহড়ায় অংশ নেয়া উচিত।

বাংলাদেশ জার্নাল/জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত