ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারি ২০১৮, ৬ মাঘ ১৪২৫ অাপডেট : ১ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৫:৪৭

প্রিন্ট

মিরসরাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চল অতিথি পাখিদের অভয়ারণ্য

নাছির উদ্দিন, মিরসরাই থেকে

বৈরী আবহাওয়া কেটে শীতের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। তার সাথে উত্তর মেরু থেকে উড়ে আসতে শুরু করেছে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি। অন্যান্য বছরের মত এবারও হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি উড়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে মিরসরাই উপজেলার উপকূলীয় কেওড়া বন এলাকায়।

দলবদ্ধ কিছু পাখি এখন ঠাঁই নিয়েছে এখানকার জনকোলাহলমুক্ত পরিবেশের জলাশয়ে। ভিনদেশী এসব পাখির ঝাঁক দেখা যাচ্ছে মুহুরী প্রকল্প  ইছাখালী মঘাদিয়ার বিভিন্ন জলাশয় এবং মহামায়া লেক এলাকায়। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চল এখন কলকাকলিতে ভরে উঠেছে। সেখানে কিচিরমিচির শব্দ শুনে অনেকেই ঘাড় ঘুরিয়ে দেখছে মুক্ত পাখির বিচরণ। কৌতুহলী অনেকেই কাছ থেকে দেখতে গেলেই ঝাঁক বেঁধে উড়াল দিচ্ছে সমুদ্রের গায়ে আর আকাশের পানে। পাখির দল কিছুক্ষণের জন্য আকাশে উড়ে তীক্ষ্ম দৃষ্টি রাখে নিচের দিকে। গত কয়েক বছর মিরসরাই উপজেলার এই সাহেরখালী, মঘাদিয়া, মুহুরী প্রকল্প, বগাচতর উপকূলে সমূদ্রের কোল ঘেষে সুন্দরী বাইন কেওড়া গাছের ফাঁকে ফাঁকে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির সারি সত্যিই এখানকার প্রকৃতিতে আনে ভিন্ন রকম সমৃদ্ধতা।

এ সুযোগে এক শ্রেণির পাখি শিকারীদের উৎপাতে এখন সত্যিই সচেতন মহল বিচলিত। অনেকে আবার প্রতিবাদের মুখরিত হবার চেষ্টা করলেও শিকারিদলের প্রভাবশালি হাঁক ডাকে চুপষে যায় প্রতিবাদের ভাষা। 

উপকূলীয় বনাঞ্চলে সম্প্রতি রীতিমত বন্দুক নিয়েই অনেক শিকারীকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। আবার কিছু দুষ্টচক্র শিকারী চাল খাটিয়ে নানা ফাঁদে অতিথি পাখি, বক, পানকৌড়ি, ডাহুক, মাছরাঙ্গাসহ, নানান জাতের পাখি ধরে বাজারেও বিক্রি করছে দেদারছে। কেউ প্রতিবাদ করলে প্রয়োজনে আড়াল করে বাড়ি বাড়ি গিয়েও বিক্রি করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মলিয়াইশ, মঘাদিয়া, ওচমানপুর, ইছাখালী এলাকায় এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। 

মিরসরাইয়ের উপকূলীয় ভারপ্রাপ্ত বন রেঞ্জ কর্মকর্তা এরফানুল হক জানান, ‘ইতিমধ্যে বিভিন্ন সময় আমরা পাখি ধরা কিংবা শিকারিদের বিষয়ে অভিযান করেছি। এখনো আমরা সজাগ রয়েছি। যে কেউ আমাদের এমন অপরাধের তথ্য প্রদান করলে আমরা তাৎক্ষনিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কারণ, পাখি নিধন ও বিক্রি বন্য আইনে দন্ডনীয় অপরাধ।’ 

ভৌগলিক কারণে আমাদের দেশে প্রায়ই ঝড় জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়তে হয়। আর এ প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে বিশেষ করে উপকুল এলাকায় গাছ-পালা আর পাখ পাখালীর অভয়ারণ্যের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি। 

প্রাকৃতিক বেচিত্রে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আর বৈচিত্রময় মিরসরাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চলের অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদ নানান অতিথি পাখিদের আগমন। অথচ সামান্য ভোগের কারণে প্রকৃতির এ অমূল্য সম্পদকে নিধন করছে কতিপয় হায়েনা। পাখপাখালি, প্রাণীকুল ও গাছপালা জীববৈচিত্রের বিরাট অংশ জেনেও আইন প্রয়োগে কঠোরতা নেই বলেই হারাচ্ছে জীববৈচিত্র এবং ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ। 

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত