ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : কিছুক্ষণ আগে English

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৬:৩১

প্রিন্ট

ব্যাংক এমডিদের চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ব্যাংক এমডিদের চিঠি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
অনলাইন ডেস্ক

শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছে আটকে আছে প্রায় সাড়ে ৩২ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এ টাকা আদায় করতে পারছে না রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এমনকি এ ঋণ আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকগুলো। আর এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ অবস্থায় গত বুধবার সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে শীর্ষ খেলাপি গ্রাহকদের কাছ থেকে ঋণ আদায় পরিস্থিতি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের সভায় উত্থাপন করে তদারকি জোরদারের কথা বলা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশ শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের মধ্যে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এ ঋণের বিপরীতে আদায়ের পরিমাণ খেলাপি ঋণের তুলনায় অপ্রতুল। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর গৃহীত ব্যবস্থা কার্যকর প্রতীয়মান হয় না। এজন্য আদায় কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের ঋণের পরিমাণ আরও কমিয়ে আনা আবশ্যক।

ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘২০১৮ সালের জন্য ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণের বিপরীতে আদায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। তা পরিচালনা পর্ষদের সভায় উত্থাপন করে পর্ষদের অভিমতসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। এছাড়া প্রতি তিন মাস পর পর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায়ের অবস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হবে। এটা পর্ষদকেও অবহিত করতে হবে।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে ব্যাংকগুলোকে এখন হার্ডলাইনে যেতে হবে। এখন আর ছাড় দেওয়ার সময় নেই, সোজা মামলায় যেতে হবে। তদন্ত করে এ শীর্ষ ঋণখেলাপিদের মধ্যে থেকে অপরাধীদের বের করে এদের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত। অথবা তাদের যেসব সম্পত্তি মর্টগেজ আছে, তা বিক্রি করার ব্যবস্থা করতে হবে।

জানা গেছে, শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাবে আটকা পড়েেছ ৩২ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। এ সময়ে ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশই ব্যাংকগুলোর শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছে রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, গত জুন শেষে শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছে সোনালী ব্যাংকের আটকা ছিল তিন হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের পাওনা ছিল এক হাজার ১৬৯ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকের পাওনা ছিল দুই হাজার ২১৮ কোটি টাকা ও রূপালী ব্যাংকের দুই হাজার ২৩২ কোটি টাকা। এছাড়া শীর্ষ ২০ খেলাপি গ্রাহকের কাছে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংকের আটকে আছে এক হাজার ২৬০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, সর্বশেষ (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রান্তিকেই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ছয় হাজার ১৫৯ কোটি টাকা। এ সময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ২৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩৩ হাজার ৯৭৩ কোটি টাকা; যা মোট বিতরণকৃত ঋণের পাঁচ দশমিক ৯৭ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দুই হাজার ২৯৮ কোটি টাকা; যা বিতরণকৃত ঋণের সাত দশমিক ৮৯ শতাংশ। এছাড়া বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা; বিতরণকৃত ঋণের ২৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ। সূত্র: শেয়ার বিজ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত