ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ অাপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:১৩

প্রিন্ট

আগাম লাউ চাষ পুষিয়ে দিচ্ছে বর্ষার ক্ষতি

মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুর জেলায় এ বছর সবজি চাষের অনেকটাই ক্ষতি করেছে অতিবৃষ্টি। লোকসান গুণতে হয়েছে অধিকাংশ সবজি চাষিকে। তবে, সেই লোকসানের অনেকটাই পুষিয়ে দিচ্ছে আগাম লাউ চাষ।

মেহেরপুর জেলায় চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি চাষে চাষিদের লোকসান গুণতে হলেও লাউ চাষিদের মুখ এখন হাসি ফুটেছে। এবার প্রতি বিঘা লাউ চাষ করতে কৃষকের খরচ হয়েছে ১০/১২ হাজার টাকা। বাজার দর ও চাহিদা ভালো থাকায় এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত লাউ বিক্রি করে কৃষক ঘরে তুলছেন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। ফলে, লাউ বিক্রি করে প্রতি বিঘা জমি থেকে কৃষক ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা লাভবান হচ্ছেন। 

সদর উপজেলার ঝাউবাড়িয়া গ্রামের লাউ চাষি নাসির উদ্দিন বলেন, মাত্র ১১ কাঠা জমিতে লাউ লাগিয়েছিলাম। এ পর্যন্ত ৮ হাজার টাকা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত জমিতে যে লাউ আছে, তা বিক্রি করে এখনও ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা হবে।

সোমবার মেহেরপুরের বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ও সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে যতœ-আত্তি করছে যেসব চাষি লাউ আবাদ করেছে। বাজারজাতের জন্য কোন কোন লাউ চাষি জমি থেকে লাউ সংগ্রহ করছে। 

বুড়িপোতা ইউনিয়নের শালীকা গ্রামের মাঠে লাউ চাষি কুদ্দুস আলীকে দেখা গেল, জমিতে ‘সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী’ গানের সুরে সুরে জমি থেকে লাউ সংগ্রহ করতে। 
তিনি বলেন, গতবছর ১ বিঘা জমির লাউ বিক্রি করে ৫০ হাজার টাকা পেয়েছি। এ বছরও ৫০ হাজার টাকা হবে বলে আশা করছি। এ বছর চারিদিকে বন্যায় সব ডুবে গেছে। লাউ এ বছর আমাদের ভরসা। তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে লাউয়ের চাহিদা থাকায় প্রতিটি লাউ ২০ থেকে ২২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

মেহেরপুর সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, জেলায় এ বছর প্রায় দুশ’ হেক্টর জমিতে লাউয়ের আবাদ হয়েছে। লাউ আবাদে কৃষক লাভবান হওয়ায় তাদের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, লাউ চাষে কৃষকের লোকসান হয়না। কারণ, লতায় ফলন না হলেও লাউলতার ডগা কেটে বিক্রি করেই উৎপাদন খরচ তোলা যায়। এ জন্য কৃষকরা লাউ আবাদে আগ্রহী হয়।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত