ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১২ মার্চ ২০১৮, ১৭:০০

প্রিন্ট

‘বারি বিটি’ বেগুন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা

‘বারি বিটি’ বেগুন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

অল্প জমিতে অধিক ফলন ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন না হওয়ায় গোপালগঞ্জে বিটি বেগুন চাষ বাড়ছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ‘বারি বিটি’ জাতের এই বেগুন চাষ করে অনেক কৃষকই লাভবান হয়েছেন। আর এ কারণে দিন দিন এ জাতের বেগুন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এ জেলার কৃষকেরা।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গহরডাঙ্গা গ্রামের আদর্শ কৃষক নাসির হোসেন। আগে তার জমিতে আলুসহ অন্যান্য সবজির চাষাবাদ করতেন। কিন্তু কাঙ্খিত ফলন না পেয়ে অনেকটা হতাশ ছিলেন এই কৃষক। হতাশাগ্রস্ত এ কৃষক অবশেষে শরণাপন্ন হন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরামর্শে “বারি বিটি-৩ ও ৪” জাতের বেগুন চাষ করেছেন। তার ৪০ শতাংশ জমির উপর পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১ হাজার ৩শ’ চারা রোপন করেন। কৃষি বিভাগের সহায়তা নিয়ে এখন একজন আদর্শ বেগুর চাষীতে পরিণত হয়েছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, এবছর জেলায় কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের আওতায় ১শ’ ২০ বিঘা জমিতে ১২০ টি প্রদর্শনী প্লট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের আওয়াতায় ২৫ বিঘা জমিতে ৪৪ প্লটে বারি বিটি ৩ ও ৪ জাতের বেগুনের পরীক্ষামূলক চাষাবাদ হয়েছে। এ বছরের শুরু থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক মন বেগুন বাজারে বিক্রি করছেন কৃষকরা। যা বিক্রি করে লাভ ও পাচ্ছেন ভাল।

বেগুন চাষের সময় ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে ৭০-৮০ ভাগ বেগুন মাঠেই নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য প্রতিবছর কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়। ফলে বেগুন চাষের খরচ বেড়ে যায় এবং কৃষকরা এ থেকে লাভবান হতে পারেন না। তাছাড়া প্রচুর পরিমাণ কীটনাশকের ব্যবহার মানবদেহের জন্যও ক্ষতিকর।

পোকার আক্রমণে সহনীয় হিসেবেই বারি বিটি-১,২, ৩ ও ৪ নামে চারটি নতুন জাত উদ্ভাবন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এসব জাতের বেগুনে ডগা ও পোকা আক্রমণ করতে পারে না। ফলে বিষমুক্ত বেগুন উৎপাদন সম্ভব হয়। এসব প্রদর্শনী খামারে অধিক ফলন ও কম খরচে বেশি লাভ দেখে নাসির হোসেনের মত সাধারণ কৃষকরাও বিটি বেগুন চাষে ঝুঁকছেন। তারা আগামীতে তাদের জমিতে এই জাতের বেগুন চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

বারি-র টুঙ্গিপাড়া অফিসের বৈজ্ঞানিক সহকারী মোঃ লুৎফর রহমান তামিম জানান, অন্যান্য জাতের বেগুনে পোকার আক্রমণের কারণে বিষ স্প্রে করা লাগলেও বারি উদ্ভাবিত বারি বেগুন গাছে বিষ স্প্রে করা লাগে না। তাছড়া এর উৎপাদনও সন্তোষ জনক। কৃষকেরা এ জাতের বেগুন চাষ করলে লাভবান হতে পারবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গোপালগঞ্জ বারি’র উর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এইচ এম খায়রুল বাসার জানান, এই সবজি বিষমুক্ত এবং খেতে সুস্বাদু। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ফলন ভালো হয়েছে। তাই কৃষকরা লাভবান হবেন।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সমীর কুমার গোস্বামী বললেন, জেলায় ১৬৪ টি পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী প্লটে ১৪৫ বিঘা জমিতে এই জাতের বেগুনের চাষাবাদ হয়েছে এবছর। আগামীতেও আগ্রহী কৃষকদের জন্য সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন। /আরএস/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত