ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫ অাপডেট : ৪ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:৪৫

প্রিন্ট

পাবনায় বাদাম চাষে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাবলম্বী

পাবনায় বাদাম চাষে বিপুল সংখ্যক মানুষ স্বাবলম্বী
রনি ইমরান

পাবনার ৫টি উপজেলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ চিনাবাদাম চাষ করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে চিনাবাদাম চাষের মাধ্যমে তাদের লাভের অংক অনেক বেশি। সুষ্ঠু বাজার মূল্যের সাথে বাম্পারের পুনরাবৃত্তির ঘটানোর পর তারা চাষের ক্ষেত্রে আরো বেশি ঝুঁকছে। ফলস্বরূপ, চিনাবাদাম চাষের আওতা দিন দিন বাড়ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র জানায়, সাধারণত, পাবনার পাঁচ উপজেলায় চিনাবাদাম চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে বাদামের আবাদ বেশি হচ্ছে। চরাঞ্চলের মাটি বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জেলার ৫টি উপজেলাতে মোট ২,২৬৬ টন চিনাবাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যে চিনাবাদাম চাষের অধীনে মোট ১,৪৫৪ হেক্টর জমির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বেড়ায় ১,৬৮০ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমি, সুজানগরে ২৫০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৫৬ হেক্টর, ঈশ্বরদীতে ২২৪ টন উৎপাদনের লক্ষ্যে ১৪০ হেক্টর, সদর উপজেলায় ১৬০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যে ১০০ হেক্টর এবং সাঁথিয়া উপজেলায় ১২ টন উৎপাদনের লক্ষ্যে ৮ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

বাদাম চাষীরা জানান, এখন বাদাম লাগানো প্রায় শেষের দিকে। প্রতি বছর বর্ষার পানিতে চরাঞ্চলে বাদাম ক্ষেত তলিয়ে যায়। সেজন্য একটু আগে ভাগেই লাগানোর কাজ শেষ করা হচ্ছে। যাতে পানি আসার আগেই পরিপক্ষ বাদাম ক্ষেত থেকে তোলা যায়।

সাধারণত, আষাঢ় মাসের মধ্যেই বাদাম তোলা শেষ হয়ে থাকে। কৃষকরা ন্যূনতম উৎপাদন খরচ এবং সহজ চাষ পদ্ধতির জন্য চিনাবাদাম চাষের ক্ষেত্রে আরো আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রতি বছর বাদাম চাষের আওতায় জমি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে বাদাম চাষি ও কৃষি কর্মকর্তারা জানান।

চিনাবাদামের দাম বিপুল চাহিদার সঙ্গে বাজারে উচ্চ মূল্যে কৃষকরা উৎসাহী হয়ে উঠছে। যার ফলে উল্লেখিত ৫টি উপজেলার চিনাবাদাম চাষিরা আরও বেশি জমি চাষের আওতায় আনছেন।

সদর উপজেলার নতুন গোহাইলবাড়ীর বেশ কয়েকজন আদর্শ কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, "আমরা গত কয়েক বছর যাবত চিনাবাদাম চাষ করছি, তাতে আমরা ভালো ফলনের সাথে অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হয়েছি। এ বছর আমরা আরও বেশী জমিতে চিনাবাদাম চাষ করছি।"

চাষাবাদের পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে ওই গ্রামের উচ্চ শিক্ষিত আদর্শ কৃষক এসএম আলাউদ্দিন এ প্রতিবেদককে বলেন, ''বাদাম আবাদে চরাঞ্চলসহ বেশ কিছু এলাকায় চিনাবাদামে কৃষক ভালো সাফল্য পাচ্ছেন এবং বহু মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছেন। বাদাম লাগানোর ৯০ দিনের মধ্যে তা তোলা শুরু হয়। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১৫ মন বাদাম অর্জিত হয়ে থাকে। লাভের অংক ভালো হওয়ায় দিন দিন বাদাম আবাদের পরিধিও বাড়ছে।''

ভাদুর্ডাঙ্গী এলাকার মোহাম্মদ মোহিব্বুল্লাহ, আব্দুল খালেক এবং আড়িয়া গোহাইলবাড়ী গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, "গত বছর সাড়ে চার বিঘা জমিতে আমরা বাদাম চাষ করে বাম্পার ফলন পাই সেই সাথে মূল্যটাও ভালো পেয়েছি। আমরা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হয়েছি। বর্তমানে প্রতি মন বাদাম পাইকারী ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার এবং খুচরা ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে।''

বেড়া উপজেলার কাশিনাথপুর বাজারের পাইকারি বিক্রেতা ইদ্রিস আলী বলেন, ''আমি পাবনার বাদাম কিনে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে তা সরবরাহ করে থাকি। আমার মত অনেকে পাবনার বাদাম অন্যান্য জেলাতে সরবরাহ করে থাকে এবং আমার মত তারাও এ ব্যবসায়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।''

টাংগাইলের পাইকারী বাদাম ব্যবসায়ী মোঃ আবু তাহের বলেন, "আমি পাবনা থেকে বাদাম কিনে টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা শহর ও বড় বড় বাজারে সরবরাহ করে থাকি। এ ব্যবসায়ে আমি আগের চেয়ে অনেকটা স্বাবলম্বী।"

পাবনা কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক বিভূতি ভূষন সরকার বলেন, কৃষি বিভাগের ক্ষেত্রকর্মী ও ফসল বিশেষজ্ঞরা ক্ষেত্রের সেবা প্রদান এবং চাষীদের সাথে মতবিনিময় করে তাদের মাটি চাষের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে সর্বোত্তম হার অর্জনের জন্য শিক্ষাদান করছেন। এতে করে কৃষক আরো উদ্বুদ্ধ হয়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছে। বিস্তৃতি লাভ করছে বাদাম আবাদ।

জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত