ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ জুলাই ২০১৮, ২ শ্রাবণ ১৪২৫ অাপডেট : ১৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:৩৩

প্রিন্ট

বৈশাখ ঘিরে অস্থির মাছের বাজার

বৈশাখ ঘিরে অস্থির মাছের বাজার
নিজস্ব প্রতিবেদক

পহেলা বৈশাখ ঘিরে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। অধিকাংশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকার ওপরে। তবে ভিন্ন চিত্র ইলিশের দামে। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বৈশাখে সবচেয়ে বেশি চাহিদার মাছটি। 

শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। মাছের দাম অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ। এ কারণেই মাছের দাম বেড়েছে। এছাড়া আড়তেও মাছ কম এসেছে। সব মিলিয়ে মাছের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। 

পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে সব ধরনের মাছের দাম বাড়লেও ইলিশ মাছে তার খুব একটা প্রভাব পড়েনি। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের খুব একটা চাহিদা নেই। যে কারণে ইলিশ মাছের দাম বাড়েনি।

বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ীরা ১ কেজি থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ১৪০০-১৬০০ টাকায়। ৬০০-৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ৬০০-৮০০ টাকায়। আর ২৫০-৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি করছেন ৮০০-৯০০ টাকা হালি হিসেবে। কোনো কোনো বাজারের ব্যবসায়ীরা ছোট ইলিশ ৭০০-৭৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। 

রামপুরা বাজারে ইলিশ বিক্রেতা কালাম বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম এবার বাড়েনি। গত সপ্তাহে ইলিশ যে দামে বিক্রি করেছি আজও একই দামে বিক্রি করছি। ৩০০-৪০০ গ্রাম ওজনের ইলশের কেজি ৭৫০ টাকা। আর যেগুলোর ওজন ৫০০-৭০০ গ্রাম তা ১২০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। 

আরেক বিক্রেতা বলেন, আগে বৈশাখ উপলক্ষে ইলশের দাম বহু গুনে বেড়ে যেত। কিন্তু এবার বৈশাখ কেন্দ্রীক ইলিশের দাম বাড়েনি। এক মাস আগে যে দামে বিক্রি করেছি, এখনও সেই দামেই বিক্রি করছি। ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৫০০-১৬০০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৬০০ টাকা হালি বিক্রি করছি। আর ২০০-২৫০ গ্রামের ইলিশ ৮০০ টাকা হালিতে বিক্রি হচ্ছে।

ইলিশের দাম না বাড়লেও অন্য মাছের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, গত সপ্তাহে ২৫০-২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া রুই মাছের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০০-৪২০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পাবদা মাছের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০০-৬৫০ টাকা।

শিং মাছ ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে; যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাচকি মাছের দাম বেড়ে হয়েছে ৩০০ টাকা।

নলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৪০-১৬০ টাকা কেজি। ৪০০ টাকার চিংড়ির দাম বেড়ে হয়েছে ৬০০ টাকা। ১৪০ টাকার তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।

মাছের এমন দাম বাড়ার কারণ হিসেবে রামপুরা বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, কাল পহেলা বৈশাখ এ জন্য মাছের দাম একটু বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। ঢাকা শহরে শুক্রবার মাছ সব থেকে বেশি বিক্রি হয়। ছুটির দিন থাকায় বেশির ভাগ মানুষ শুক্রবার মাছ কেনেন। যে কারণে আমরাও মাছ বেশি আনি। কিন্তু আজ মাছ কম আসায় দাম বেড়ে গেছে। আমাদের ধারণা দুই-এক দিনের মধ্যে মাছের দাম কমে যাবে।

খিলগাঁও তালতলা বাজারে মাছ কিনতে আসা মো. ইমাম হোসেন বলেন, গত সপ্তাহে যে রুই মাছ ২৫০ টাকা কেজিতে কিনেছি, আজ তা ৫০০ টাকা কেজি চাচ্ছে। শুধু রুই মাছ না সব মাছের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। শিং মাছ চাচ্ছে ৭০০ টাকা কেজি। এই দামে কি মাছ কিনে খাওয়া সম্ভব?

আরেক ক্রেতা বলেন, আমরা বড় আজব দেশে বাস করি। কখন যে কিসের দাম বেড়ে যায় বলা মুশকিল। আগে দেখাতাম পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইলিশের দাম বাড়তো, এখন দেখি ইলিশ না অন্য মাছের দাম বাড়ছে। আর মানুষ বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে কিনছে।

এসআইএস/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত