ঢাকা, রবিবার, ২০ মে ২০১৮, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ অাপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৮, ০৭:২২

প্রিন্ট

বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে হার্ভাডে আলোচনা

বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে হার্ভাডে আলোচনা
জার্নাল ডেস্ক

“বাংলাদেশ কীভাবে এর উন্নয়ন অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে পারে এবং কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন ত্বরান্বিত করতে পারে” সে বিষয়টিকে মূল প্রতিপাদ্য ধরে বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ‘বাংলাদেশ রাইজিং-২০১৮’ শীর্ষক কনফারেন্স।

যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অবস্থিত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানীয় সময় শনিবার সকালে শুরু হয়েছে এ শীর্ষক সম্মেলন।

বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় এই একাডেমিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে ফ্লোরিডার ইন্টারন্যাশনাল সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (আইএসডিআই), হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং হার্ভার্ড লক্ষ্মী মিত্তাল সাউথ এশিয়া ইন্সস্টিটিউট। এতে সহযোগিতা করছে বাংলাদেশের সামিট গ্রুপ, জেনারেল ইলেকট্রিক, ম্যাক্স গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ এবং এনার্জি প্যাক বাংলাদেশ।

হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সকাল ৯টায় হার্ভার্ডের লোয়েব হাউস মিলনায়তনে শুরু হয়েছে সম্মেলন।

সম্মেলনের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন টাফটস ফ্লেচার স্কুলের ইন্সটিটিউট ফর বিজনেস ইন দ্য গ্লোবাল কনটেক্সটের উদীয়মান বাজার উদ্যোগ বিষয়ক ফেলো নিকোলাস সুলিভান। উদ্বোধনী অধিবেশনের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের গবেষণা পরিচালক ফ্রাঙ্ক নেফকি।

উদ্বোধনী অধিবেশনের পর শুরু হয় প্যানেল আলোচনা। ছয়টি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন নীতিনির্ধারকসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয়রা। সামষ্টিক অর্থনীতির প্রতিশ্রুতি ও সংস্কার, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর সম্ভাবনা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে গতিশীলতা আনা, বাণিজ্যে নারীর নেতৃত্ব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসার নিয়ে হয় এসব আলোচনা।

এদিন সকালে ইন্টারন্যাশনাল সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইকবাল ইউসুফ উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানান। এরপর স্বাগত বক্তব্যে নিকোলাস সুলিভান সেমিনারের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার একটি ভিডিওচিত্র দেখান।

মূল বক্তব্যে ফ্রাঙ্ক নেফকি বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিকে কেবল ভিয়েতনাম ও চীনের সঙ্গে তুলনা করা যায়।

নেফকি বাংলাদেশের এক্সপোর্ট, উৎপাদন সক্ষমতা বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরের বিকাশের কথা তুলে ধরেন।

এরপর শুরু হয় প্যানেল ভিত্তিক আলোচনা। প্রতিশ্রুত ব্যাস্টিক অর্থনীতি ও এর সংস্কার বিষয়ক প্যানেলের মূল বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান। আরও আলোচক ছিলেন বিডিনিউজ২৪ ডট কমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী ও বাংলাদেশ ইকোনমিক অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জামালউদ্দিন আহমেদ। সঞ্চালক ছিলেন আইএফসির প্রতিনিধি মিরা নারায়ণস্বামী।

ড. মশিউর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গন্তব্য নিশ্চিতভাবে সফলতার দিকেই অগ্রসরমাণ। সরকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করে তার বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ-এর ওপর মূল বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়নের প্রধান সমন্বয়কারী ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে কেন বাংলাদেশই সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান সে বিষয়ে একটি ভিডিও চিত্র দেখান তিনি।

দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের ক্রমবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়, মানব সম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক এ তিনটিতেই অভূতপূর্ব সাফল্য দেখিয়েছে।

কেন সবাই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবেন এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পানি ও বিদ্যুৎ খরচ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। এখানে রয়েছে বিশাল এক শ্রম বাজার। রয়েছে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ, উর্বর ভূমি এবং ৪০ হাজার হেক্টরের ল্যান্ড ব্যাংক। বর্তমান সরকার বিনিয়োগ বান্ধব। দেশে বিনিয়োগের জন্য রয়েছে রাজনৈতিক অনুকূল পরিবেশ ও প্রতিশ্রুতি। বিনিয়োগকারীদের প্রদান করা হচ্ছে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের সুবিধা। সরকার ব্যবস্থাকে গতিশীল করতে প্রতিবছরই বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ২১০০ সালে ডেলটা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আমরা নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার স্বপ্ন অভিযাত্রার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাই বিনিয়োগের জন্য অবধারিতভাবে বাংলাদেশই হচ্ছে সর্বোত্তম স্থান। এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য প্রতিবছর আমাদের ৬৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

জেডআই

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত