ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ১৪ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০১৮, ১৫:৩১

প্রিন্ট

চালু হচ্ছে কন্ট্রিবিউটারি পেনশন ফান্ড

আগামী বছর থেকে পেনশন পাবেন বেসরকারি চাকরিজীবীরাও

আগামী বছর থেকে পেনশন পাবেন বেসরকারি চাকরিজীবীরাও
অনলাইন ডেস্ক

‘কন্ট্রিবিউটারি পেনশন ফান্ড’ নামে একটি ফান্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন বছর থেকে বেসরকারি চাকরিজীবীরা এই পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। এই ফান্ডে বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীরা তাদের বেতনের একটি অংশ জমা রাখবেন। একই ফান্ডে চাকরিজীবীদের নিয়োগ কর্তৃপক্ষেরও অংশগ্রহন থাকবে। এ জন্য গঠন করা হবে একটি সার্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে এই পেনশন ব্যবস্থার একটি রুপরেখা প্রণয়নের খসড়া প্রায় শেষ করে আনা হয়েছে বলে অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এই ফান্ডের একটি রুপরেখা প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই রুপরেখা প্রণয়ন হলে তা অনুমোদনের জন্য অর্থমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। এরপরই এই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগে নেয়া হবে। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছর থেকে সীমিত পর্যায়ে হলেও বেসরকারিখাতের পেনশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে বেসরকারিখাতে কমর্রত একজন চাকরিজীবী তার বেতনের একটি অংশ পেনশন কন্টিবিউটারি ফান্ডে প্রদান করবেন। ফান্ডে সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবীদের নিয়োগকারি প্রতিষ্ঠানও অবদান রাখবেন।

এই ফান্ডটির পুরোটি নিয়ন্ত্রণে থাকবে সরকারের হাতে। এখানে সরকারি চাকরিজীবীদের ভবিষ্যত পেনশন অর্থও জমা থাকবে। সরকারি-বেসকারি কর্মকতা-কর্মচারিদের জন্য এটি একটি ‘সার্বজনীন ফান্ড’ হবে। সংশ্লিষ্ট চাকুরীজীবীরা এই ফান্ডে একটি ‘কোড’ নাম্বারের বিপরীতে অর্থ জমা রাখবেন। তারা চাকরি পরিবর্তন করলেও কোড নাম্বারের কোনো পরিবর্তন হবে না। অবসর নেয়ার পর রুপরেখা অনুযায়ী এই কোডের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পেনশন পাবেন। এই ফান্ডের টাকা সরকার বিভিন্ন লাভজনকখাতে বিনিয়োগ করে মুনাফা করবে এবং এই মুনাফার অর্থ ফান্ডে অংশ নেয়া চাকরিজীবীরাও পাবেন। তবে কাউকে বাধ্য করা হবে না এই ফান্ডে অংশগ্রহণের জন্য।

২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ৬ এপ্রিল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বেসরকারি খাতে পেনশন পদ্ধতি চালুর বিষয়ে এনজিও প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় প্রথম কথা বলেছিলেন। এর প্রায় দুই মাস পরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যেও এ বিষয়ে তিনি কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আবদুল মুহিত বলেন, নগরায়নের কারণে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে ভবিষ্যতে আর্থিক ও সামাজিকভাবে নিরাপত্তাহীন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এ ঝুঁকি মোকাবিলা করা সরকারের একার পক্ষে দুরূহ। তাই দেশের শ্রমজীবী মানুষসহ প্রবীণদের জন্য একটি সর্বজনীন ও টেকসই পেনশন পদ্ধতি চালু এখন সময়ের দাবি।

এ বছরের ২ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী সচিবালয়ের এক অনুষ্ঠানে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান, এখন থেকে কাউকে আর পেনশনের হিসাব করা ও তার পেনশন নেওয়া- নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে না। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে দেশে সর্বশেষ পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার হয়েছিল । আজ যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা হবে যুগান্তকারী।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় পেনশন পদ্ধতিতে সবাইকে ইনকরপোরেট করা হবে। দেশের প্রত্যেক নাগরিক এই সিস্টেমের বেনিফিট পাবে। এই সিস্টেমের রূপরেখা খুব দ্রুত ঘোষণা করা হবে। পেনশন উঠাতে কাউকে আর ছোটাছুটি করতে হবে না।

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত