ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ অাপডেট : ১ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১১:২৯

প্রিন্ট

জাবিতে সাক্ষাৎকার দিতে এসে শ্রীঘরে ৯ শিক্ষার্থী

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকার দিতে এসে জালিয়াতির অভিযোগে দুই দিনে কারাগারে পাঠানো হয়েছে নয় শিক্ষার্থীকে।

রবিবার প্রথম দিনের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের সময় ভর্তি পরীক্ষার উত্তরপত্রে উল্লেখিত বাংলা ও ইংরেজি বাক্য লেখার সঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার সময়ে লেখা বাক্যের গড়মিল দেখতে পান দায়িত্বরত শিক্ষক। পরে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরে মাহবুব হোসেন, ইমাম হোসেন, অমিত হাসান এবং আশিকুল হাসান রবিন নামে চার শিক্ষার্থী এবং ১৩ নভেম্বর সোমবার দ্বিতীয় দিনে একই অভিযোগে আশরাফুজ্জামান, মাহমুদুর রশীদ সৌরভ, নাইমুর রহমান, নিশাদ আহমেদ নামের চার ভর্তিচ্ছুসহ মোট পাঁচ জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াতির অভিযোগ স্বীকার করলে সন্ধ্যায় তাদের আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এছাড়া সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ না পাওয়া গেলেও অভিযুক্তদের সঙ্গে থাকায় সন্দেহভাজন হিসেবে মো. রেজওয়ান নামক একজনকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে।

প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার আদমদিঘি উপজেলার তহিদুল ইসলামের ছেলে মাহবুব হোসেন সনদ নামে ভর্তি জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যের সঙ্গে সাড়ে তিন লাখ টাকা চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী মাহবুবের পরিবর্তে সনদ পরীক্ষা দিলে মাহবুব ‘ই’ ইউনিটে (বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ) ৩য় স্থান লাভ করে। তার ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর- ৫৩০৯৪২।

ইমাম হোসেন ময়মনসিংহ জেলার সদর থানার হাফেজ আব্দুল মান্নানের ছেলে। ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে রাহাত নামের এক শিক্ষার্থী তার হয়ে প্রক্সি দিলে সে ‘এফ’ ইউনিটে (আইন ও বিচার অনুষদ) ৩য় স্থান লাভ করে। তার ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর- ৬৩৭৩৪৪।

অমিত হাসান ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের হারেছ মিয়ার ছেলে। তার পরীক্ষাও ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে সনেট নামের জালিয়াতি চক্রের এক সদস্যে দিয়ে দেয়। এতে সে ‘এইচ’ (আইআইটি) ইউনিটে ১১তম স্থান লাভ করে। তার ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর- ৮১২৬৮৬।

অন্যদিকে আশিকুল হাসান রবিন কুষ্টিয়া জেলার সদর থানার আবুল কালাম আজাদের ছেলে ‘এফ’ (আইন ও বিচার অনুষদ) ইউনিটে ১৬তম স্থান লাভ করেন। উত্তরপত্রের লেখার সঙ্গে তার হাতের লেখার মিল না পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়।

সোমবার আটককৃতদের প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা প্রক্সির মাধ্যমে উত্তীর্ণ হওয়ার কথা স্বীকার করেন। এদের মধ্যে আশরাফুজ্জামান ৫ লাখ টাকা চুক্তিতে ‘সি’ ইউনিটে (রোল নং-৩৪২৪৭৩) প্রক্সির মাধ্যমে ১৭ তম হয়। আরেক আটককৃত মাহমুদুর রশীদ সৌরভ ৫লাখ টাকার বিনিময় ‘ই-ইউনিটে’ (রোল-৫২৩২৫৩) প্রক্সির মাধ্যমে ১৫২ তম হন। এছাড়া নাইমুর রহমান ২ লাখ টাকা চুক্তিতে ‘ই-ইউনিটে’ (রোল-৫২৬০৯৮) প্রক্সির মাধ্যমে ১২৭ তম হওয়ার কথা স্বীকার করে। অন্যদিকে নিশাদ আহমেদ ‘এফ-ইউনিটে’ রোল নং-৬৩২১৩৬) প্রক্সি সহায়তা নিয়ে ৪৭ তম অবস্থান করেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় তাদের পুলিশে দেয়া হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ভর্তি জালিয়াতির কথা স্বীকার করায় তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. নয়ন জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী তাদের আটক করা হয়েছে। থানায় নিয়ে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

/এসএস/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত