ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ১৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২২ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:৪৯

প্রিন্ট

অর্থাভাবই সিরাজুলের উচ্চশিক্ষার একমাত্র বাধা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

ঢাবি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েও ভর্তি হতে পারছে না সিরাজুল ইসলাম।  আর এক্ষেত্রে অর্থের অভাব বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

সিরাজুল লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস (রইচবাগ) গ্রামের চায়ের দোকানদার মৃত দবিয়ার রহমানের ছেলে।  তার মা রোজিনা বেগম অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। ৭ ভাই-বোনের সবার ছোট সিরাজুল। 

এ বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধে অংশ নিয়ে ৩১তম মেধাক্রম অর্জন করেছেন সিরাজুল। ভর্তির সুযোগ হয়েছে ইংরেজি বিষয়ে। শুধু জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে অংশ নিয়ে ‘ঘ’ইউনিটে ৭২২তম মেধাক্রম অর্জন করেছেন তিনি। ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পাছে না সিরাজুল ইসলাম। 

জানা গেছে, জন্ম থেকে অভাবের সাথে নিত্য লড়াই করা সিরাজুল ইসলাম লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবসা শিক্ষা শাখায় জিপিএ-৪.৭৫ পায়। এরপর বগুড়ার হাজী মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন কমার্স কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পায়। বগুড়ায় থাকাকালীন বিভিন্ন জাতীয় দিবসগুলোতে হকারি করত সিরাজুল। শুধু তাই নয়, অনেক সময় বাড়িতে এসে টাকার জন্য অন্যের বাড়িতে শ্রমিকের কাজ করত। ৩ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে সবার ছোট সিরাজুল। বড় ভাই রিয়াজুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক। মেঝো ভাই রেজাউল করিম বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। রেজাউল ফেরি ও হকারি করে তার লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছেন।  

রোজিনা বেগম জানান, ২০১২ সালের দিকে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে খেয়ে না খেয়ে ২ ভাইয়ের লেখাপড়া চালিয়ে আসছেন।  

তিনি বলেন, ‘বাবা কোনটে পাইম টাকা, টাকা পাবার তো কোনো পথ নাই, গাছ বেচেতো যা ছিল সউগ দিছোং, এ্যালা ভর্তির টাকা কোনটে পাইম, এবার মোর ছাওয়াটার কি হইবে?’

সিরাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পেট পুড়ে কখনও খাবার জোটেনি তার ভাগ্যে। অন্যরা তিন বেলা খাবার খায় আর আমি শুধু এক বেলা খেয়ে জীবন-যাপন করছি। এতকিছুর পরেও জীবনের প্রতিটি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় অভাব নামের শব্দটি। যেন কোনোভাবেই এ শব্দটি পিছু ছাড়ছে না। উচ্চ শিক্ষাগ্রহণ করে তিনি শিক্ষা ক্যাডার হতে চান। পাশে দাঁড়াতে চান গরীব অসহায় অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের। 

তবে শেষ পর্যন্ত কি অদম্য মেধাবী সিরাজুল অর্থের কাছে হেরে যাবেন? একটু সহযোগিতা পেলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারবেন সিরাজুল ইসলাম।

এআর/জেডএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত