ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪ অাপডেট : ৩২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৪:৪৪

প্রিন্ট

প্রিলি পরীক্ষার্থীদের জন্য ১৩ পরামর্শ

সৈকত তালুকদার

এক) ভালো প্রস্তুতি নিলেই যে প্রিলি পাস হবে একথা মনে করার কোন কারণ নেই।  প্রস্তুতি ভালো কিন্তু পরীক্ষার হলে ঘাবড়ে যাওয়ায় ভুলভাল দাগানোর কারণে  প্রিলি পাস করেননি এরকম পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাই অন্যদের চেয়ে  খারাপ আপনার প্রস্তুতি একথা ভেবে হারার আগেই হেরে যাবেন না। টেনশন ফ্রি  থাকুন। মনোবল ধরে রাখুন।

দুই)  প্রিলিমিনারী পরীক্ষার মার্ক  মেধাতালিকা প্রনয়নে কোন ভূমিকা রাখেনা। তাই প্রিলি পরীক্ষা নম্বর তোলার  পরীক্ষা না, শুধু পাস করার পরীক্ষা। যার প্রস্তুতি ভালো সে হয়তো ১৪০ পেয়ে  পাস করলো আর আপনি ১১০ পেয়ে পাস করলেন তাতে সমস্যা কী? পাস করলেই তো হলো।  প্রিলি তো পাস করারই পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা ফাটিয়ে দেবেন।

তিন)  অনেকে বলে পরীক্ষার আগের দিন পড়ার দরকার নেই। কিন্তু আমার কথা হলো পড়তে  ভালো লাগলে পরীক্ষা হলে প্রবেশের আগ পর্যন্ত পড়ুন। ভালো না লাগলে অবশ্যই  পড়বেন না। ৩৪ তম বিসিএস পরীক্ষার আগে আমি নানা কারণে কয়েকদিন পড়তে পারিনি।  তাই পরীক্ষার আগেরদিন সারা রাত না ঘুমিয়ে যে বিষয়গুলো রিভাইজ না দিলে  সন্তষ্ট হতে পারছিলাম না সেগুলো রিভাইজ দিয়েছি এবং প্রিলি পাস করেছি। তাই  কারো পরামর্শ হুবহু মেনে চলার দরকার নেই। পরামর্শগুলোকে নিজের মত করে  সাজিয়ে কাজে লাগান।

চার) বাসা থেকে বের হওয়ার সময় কালো বলপয়েন্ট  কলম, অ্যাডমিট ইত্যাদি সাথে নিন। হাতে সময় নিয়ে বের হোন  যাতে জ্যামে পড়লেও সময়মত কেন্দ্রে পৌছাতে পারেন। একটু বেশি পড়ার জন্য বাসা  থেকে দশ মিনিট পরে বের হওয়ার কারণে পরীক্ষার হলে পৌছাতে দেরী হলে আপনাকে  যে টেনশন ভোগ করতে হবে সেটা ঐ দশ মিনিটে যা পড়েছেন তার চেয়েও বেশি কিছুকে  ভুলিয়ে দেবে।

পাঁচ) ওএমআর সীট পাওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন নম্বর,  সেন্টার ইত্যাদি সঠিকভাবে পূরণ করুন। তাড়াহুড়ো করবেন না। হাজিরা খাতায়  স্বাক্ষর করুন।

ছয়) ২০০ বা ১৮০ টা দাগাতেই হবে এই চিন্তা মাথা থেকে  ঝেড়ে ফেলুন। কতটা দাগালেন তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কতটা সঠিক উত্তর  দিলেন। প্রশ্ন একদম কঠিন হলে কাট মার্ক ৯০ আর সহজ হলে কাট মার্ক সর্বোচ্চ  ১২০ হবে বলে আশা করা যায়। তাই দাগানোর সময় এসব বিবেচনায় আনুন।

সাত)  প্রশ্নে সঠিক উত্তর না থাকলে সেটা দাগাবেন না। একাধিক উত্তর থাকলে সবচেয়ে  বেশি গ্রহনযোগ্য উত্তরটি দাগাবেন। প্রিন্টিং মিস্টেক থাকলেও সেটা দাগাবেন।

 আট) পরীক্ষার হলে আশেপাশে কারো দেখার দরকার নেই। একান্তই যদি দেখার দরকার  হয় তাহলে আগে আপনার একটা জানা প্রশ্ন তাকে জিজ্ঞাসা করুন। যদি দেখেন সঠিক  উত্তর দিয়েছে তাহলে আগান। নাহলে নিজে যা পারেন সেটাই দাগান। নিজের বুদ্ধিতে  ফকির হওয়া ভালো।

নয়) প্রশ্নের সাইডে ফাকা জায়গায় শর্ট নোট করুন।  সহজ যোগটাও ক্যালকুলেটরে করুন। কারণ পরীক্ষার হলে টেনশন থাকার ফলে সহজ যোগও  ভুলে হয়ে যায়। যেটা সবাই পারে সেটাতে যেন আপনার মার্ক ছুটে না যায় সেটা  নিশ্চিত করুন। কঠিন প্রশ্ন সবার জন্যই কঠিন।

দশ) পরীক্ষার হলে  প্রশ্ন পাওয়ার পর দেখবেন কিছু প্রশ্ন আছে যেগুলো হয়তো আপনি পারবেন কিন্তু  প্রশ্ন পড়তেই এক মিনিট লাগে অথবা সমাধান করতে সময় লাগবে সেই প্রশ্নগুলো বাদ  দিয়ে পুরো প্রশ্নটা থেকে যে প্রশ্নগুলো একনজরে পড়া যায় এবং উত্তরটা আপনি  নিশ্চিত জানেন সেগুলো ঝটপট দাগিয়ে ফেলুন।

এগারো) প্রথম দফায় না পড়া  প্রশ্নগুলো পড়তে ও সমাধান করতে নেমে পড়ুন। যদি নিশ্চিত উত্তর বের করতে  পারেন তাহলে দাগান। আর যদি না বের করতে পারেন তাহলে সেগুলো না দাগিয়ে গুনে  দেখুন আপনি মোট কতটি সঠিক উত্তর দাগালেন।

বারো) এতক্ষনে বুঝে যাওয়ার কথা প্রশ্নটা আসলে কেমন হয়েছে? তাহলে সে অনুযায়ী কাট মার্ক অনুমান করার চেষ্টা করুন। 

তেরো) যদি দেখেন আপনার সঠিক উত্তর করা প্রশ্ন অনুমিত কাট মার্কের চেয়ে  অনেক বেশি তাহলে আপনার আর দাগানোর দরকার নেই। যদি সমান হয় তাহলে আরও কয়েকটা  দাগানোর চেষ্টা করুন। কারণ আপনার কাছে যেটা সঠিক সেটা পিএসসির কাছে সঠিক  নাও হতে পারে। আর যদি দেখেন কাট মার্কের চেয়ে অনেক নিচে যেটা দিয়ে কখনই পাস  করা সম্ভব না তখন কনফিউশনগুলোও দাগানোর চেষ্টা করুন। ন্যাংটার আবার  বাটপারের ভয় কী!
শুভকামনা নিরন্তর! 

লেখক:  ৩৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ও   সিনিয়র অফিসার, বিকেবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত