ঢাকা, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ অাপডেট : ২ ঘন্টা আগে English

প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১১:৪২

প্রিন্ট

‘একাগ্রতা, ধৈর্য ও শ্রমে বিসিএস পরীক্ষায় সফলতা আসবেই’

‘একাগ্রতা, ধৈর্য ও শ্রমে বিসিএস পরীক্ষায় সফলতা আসবেই’
জার্নাল ডেস্ক

জামালপুরের জোরখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০২ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩.৭৫ জিপিএ নিয়ে এসএসসি পাস করেন তৌহিদ এলাহী। ফলাফল আশানুরুপ না হওয়ায় কিছুটা আশাহত হয়েছিলেন। তবে এটাকেই জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন তৌহিদ। ২০০৪ সালে ৪.৭০ জিপিএ নিয়ে এইচএসসি পাস করেন।তীব্র প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে ভর্তি হন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে হলের সিনিয়র ভাই ও বন্ধুদের দেখে উৎসাহিত হন বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে। ছোট থেকেই অংক ও ইংরেজির ভিতটা মজবুত থাকায় খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি বিসিএস পরীক্ষার ধাপ পেরোতে। ৩০তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে। বর্তমানে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তিনি। জ্ঞানপিপাসু এই তরুণ বলেছেন জীবনে উঠে আসার গল্প।

তৌহিদ এলাহী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা করতে খুব ভাল লাগত। যা পেতাম চোখের সামনে সেটাই পড়ে ফেলতাম।এভাবে পড়তে পড়তে কত রাত যে ভোর হয়ে গেছে তার ইয়ত্তা নেই।’

তিনি বলেন, ‘বিসিএসে সফল হতে বিশেষ কোন প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়নি। ছোট থেকেই পেপার -পত্রিকা, গল্প -উপন্যাস, কবিতা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার অভ্যাস ছিল। পরীক্ষার আগে বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা করেছি বিস্তর। ইংরেজি আর গণিতের চর্চাটা ছিল সবসময় তাই সেগুলো নিয়ে ভাবতে হয়নি।’

বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে জীবনের মোড়টাই ঘুরে যায় এই কর্মকর্তার। সহকারি কমিশনার হিসেবে যোগ দেন লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে। পরবর্তীতে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে অংশ নেন পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং সেন্টারে। সেখানকার নিয়মতান্ত্রিক জীবন এখনও হাতছানি দেয় তাকে। ভোর ৫ টায় সাদা পোশাকে প্যারেড, সারাদিন ক্লাস করে বিকেলে সহকর্মীদের সঙ্গে খেলা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় শেখাটাকে জীবনে পাথেয় বলে উল্লেখ করেন এই তরুণ।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কাজ করতে যেয়ে প্রতিনিয়ত সম্মুখীণ হয়েছেন নতুন নতুন অভিজ্ঞতার। চ্যালেজ্ঞের শুরুটা মূলত সেখান থেকেই। সুযোগ অাসে প্রশাসনিক অন্যান্য কাজকর্মসহ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার। ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন প্রতিটি অভিযানে।

তবে মা ইলিশ ধরা সহ জাটকা নিধন বন্ধে পরিচালিত অভিযানটিই তার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় বলে জানিয়েছেন তিনি। সারারাত নির্ঘুম কাটিয়ে নদীর মাঝে মোহনার বড় বড় ঢেউয়ের মধ্যে তাড়া করা হালকা ট্রলার নিয়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা ছিল দুঃসাহসিক।

কাদামাটি, খানাখন্দ, ডোবা-খাল, সাপ-পোকার মধ্যে নদীর তীরে তীরে স্বল্প কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ মাইলের পর মাইল হেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের জীবনে অন্যতম রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তৌহিদ এলাহী বলেন, ‘প্রথম প্রথম খুব ভয় লাগত। জেলেরা মানতে চাইতনা। অনেককে জেল জরিমানা করতে হত। উপকূলীয় এলাকায় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্ম কর্তাদের ও জেলা প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তাদের এসময় রাতের পর রাত নির্ঘুম কাটাতে দেখেছি।’

২০১৫ সালে ঢাকা জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দেন। কর্মস্থল রাজধানী ঢাকা হওয়াতে এখানে কাজের সুযোগ অনেক বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বন্ধুমহলে জনপ্রিয় হাসিখুশি এই তরুণ কাজ করতে খুব ভালবাসেন।

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সঠিক নিয়মে সিলেবাস ধরে পড়াশোনা করলে আর সেই সঙ্গে ভাগ্য সহায় হলে সফলতা আসবেই। তবে একেবারে প্রস্তুতি না নিয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে দ্বিতীয়-তৃতীয় বর্ষ থেকে একটু একটু করে প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিসিএসে সফল হতে অবশ্যই ভাষার ওপর দক্ষতা থাকা জরুরি বলে মনে করেন তিনি। যার শব্দভাণ্ডার যত সমৃদ্ধ সে তত বেশি এগিয়ে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একাগ্রতা, ধৈর্য ও শ্রম দিলে বিসিএসে সফলতা আসবেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালেই অনেক পত্রিকার ফিচার রাইটার ছিলেন। লেখালেখির এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই জনপ্রশাসন কর্মকর্তা।

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত