ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০ ফাল্গুন ১৪২৫ অাপডেট : ২ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:০৭

প্রিন্ট

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির লোভ দেখিয়ে ‘প্রেম’

ভুক্তভোগী মোফসেনা ত্বাকিয়া
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের অপেক্ষমান তালিকা থেকে উপাচার্য কোটায় (মুক্তিযোদ্ধা) জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি করানোর লোভ দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ আনা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর এ লিখিত অভিযোগ করেছেন মোফসেনা ত্বাকিয়া নামে এক ছাত্রী।

অভিযোগকারী ওই ছাত্রী ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে (কলা ও মানবিক অনুষদ) মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অপেক্ষমান ছিলেন। ভর্তি না হয়েও পরবর্তীতে ওই ছাত্রী জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ৪৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক বছর ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগপত্রে ত্বাকিয়া বলেন, ‘আমাকে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে অপেক্ষমান তালিকা থেকে উপাচার্য কোটায় (মুক্তিযোদ্ধা) ভর্তি করিয়ে দেওয়ার জন্য ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা লাগবে বলে জানায় মো. আল-আমিন হোসেন। এজন্য সে বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম ২০ হাজার টাকা নেয়। পরবর্তীতে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক তৈরি হয়। এ সময়ে তার সঙ্গে আমাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের কিছু ছবি ও ভিডিও থাকায়, সে আমাকে ভর্তি জালিয়াতির ব্যাপারে কারও কাছে অভিযোগ না করার জন্য বলে। যদি আমি বলি তবে সে ওই ছবি ও ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দেবে বলে হুমকি দেয়।’

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকালে আল-আমিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে একাধিকার ডাকা হলেও তিনি বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সন্ধ্যায় প্রক্টর অফিসে এনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে জালিয়াতি প্রক্রিয়ায় ভর্তি চেষ্টার অভিযোগের প্রমাণ মিলে। অভিযুক্ত মো. আল-আমিন (শাহেদ) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ ৪২ ব্যাচের ছাত্র এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

জিজ্ঞাসাবাদে আল-আমিন মোফসানা ত্বাকিয়ার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করলেও অর্থ লেনদেন ও ছবি-ভিডিও থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। ত্বাকিয়ার সঙ্গে আল-আমিনের প্রথম পরিচয় হয় ফেসবুকে একটি ভুয়া আইডির মাধ্যমে।

আল-আমিন দাবি করেন, ত্বাকিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক মাত্র এক সপ্তাহ স্থায়ী ছিল। কিন্তু আলামিনের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার আইডি থেকে জানা যায় তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ছিল।

এ ব্যাপারে ত্বাকিয়ার মায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় একসঙ্গে ১৫ হাজার এবং পরে ৫ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে আল-আমিনকে পাঠিয়েছেন তিনি।

ত্বাকিয়া জানান, মোট ২০ হাজার টাকা আল-আমিন তার ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীতে উপাচার্য কোটায় (মুক্তিযোদ্ধার সন্তান/নাতি-নাতনি) সর্বমোট ২০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হয়।

গতবছর ২৯ মার্চ কেন্দ্রীয় ভর্তি পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলী স্বাক্ষরিত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ ভর্তিকাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু বিশেষ কোটায় ভর্তি ২০ জনের তালিকার মধ্যে মোফসেনা ত্বাকিয়ার নাম পাওয়া যায়নি।

জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার মন্ডল বলেন, ‘প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ত্বাকিয়া ক্লাস ও অনুশীলনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছিল। কিন্তু ক্লাসে তার কোন সঠিক রোল নাম্বর ছিল না। সর্বশেষ প্রথম বর্ষের ফরম পূরণ করতে গেলে কোন প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় তার জালিয়াতির বিষয়ে আমাদের সন্দেহ হয় এবং প্রক্টর অফিসকে অবহিত করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা বলেন, ‘বিভাগীয় সভাপতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করে জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছি। ত্বাকিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেনি। সুতরাং সে আমাদের ছাত্রী নয়। এজন্য তাকে শাস্তি না দিয়ে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর আল-আমিনকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল টিম ও ডিসিপ্লিনারি বোর্ডের মাধ্যমে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ জানুয়ারির মধ্যে সে কারণ দর্শানোসহ লিখিত বক্তব্য না দিলে বিশ্ববদ্যিালয় ছাত্র/ছাত্রী শৃঙ্খলা বিধিমালার ৪ ও ৫ ধারা মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

/এসকে/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত