ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮, ১ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ৪৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:০৭

প্রিন্ট

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা কী, কেন, কিভাবে?

বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা কী, কেন, কিভাবে?
সৈকত তালুকদার

বিসিএস পরীক্ষা কী?

সাধারণত সার্ভিস দুই প্রকার। এক) সিভিল সার্ভিস, যেমন: প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টমস, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য ইত্যাদি। দুই) মিলিটারী সার্ভিস, যেমনঃ সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ইত্যাদি। বিসিএস এর পূর্ণরূপ হলো Bangladesh Civil Service (BCS). পিএসসি Bangladesh Civil Service (Age Qualification and Examination for Direct Recruitment) Rules-2014 এর ভিত্তিতে যে পরীক্ষার মাধ্যমে বিসিএস ক্যাডার বাছাই করে সেই পরীক্ষাই বিসিএস পরীক্ষা।

ক্যাডার কারা?
ক্যাডার মানে একদল চৌকস কর্মকর্তা। একটা নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ব্যক্তিই ক্যাডার। পিএসসি বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২৭ ধরণের ক্যাডার নিয়োগ দেয়। এদের মধ্যে কিছু জেনারেল ক্যাডার, কিছু টেকনিক্যাল ক্যাডার। প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টমস ইত্যাদি জেনারেল ক্যাডার। শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য, বন ইত্যাদি টেকনিক্যাল ক্যাডার।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কখন ও কিভাবে দেয়?
প্রতিবছর পিএসসি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে বিভিন্ন ক্যাডারের শুন্য পদের তালিকা প্রেরণের অনুরোধ করে। শুন্যপদের তালিকা পাওয়ার পর পিএসসি বিভিন্ন ক্যাডারের শুন্য পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, ফি, পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ, আবেদনের নির্দেশনা ইত্যাদি সম্বলিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd ) ও দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকে প্রায় একমাস আবেদন করার সময় থাকে।

আবেদন করার ন্যুনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?
উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর চার বছরের অনার্স পাস হলেও আপনি বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করতে পারবেন, মাস্টার্স হলে তো কথাই নাই। এমনকি চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেও বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায়। কেউ যদি তিন বছরের অনার্স বা পাস কোর্সে পড়ে থাকে তাহলে তাকে অবশ্যই মাস্টার্স পাস হতে হবে। শিক্ষা জীবনে একের অধিক তৃতীয় শ্রেণী থাকলে আপনি যত বড় ডিগ্রীধারীই হোন না কেন, আপনি বিসিএস পরীক্ষায় আবেদনের অযোগ্য।

প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় কী কী থাকে?
আবেদন যাচাই বাছাইয়ের পর প্রথমেই আপনাকে ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। এই পরীক্ষায় ২০০ টি এমসিকিউ থাকবে। প্রত্যেকটি সঠিক উত্তরের জন্য আপনি ১ মার্ক পাবেন। আর প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য আপনার প্রাপ্ত মার্ক থেকে .৫০ মার্ক কাটা যাবে। যে যে বিষয় থেকে প্রশ্ন থাকবে তা নিম্নরূপ।
# Bengali Language and Literature —- 35 Mark
# English Language and Literature —- 35 Mark
# Bangladesh Affairs —- 30 Mark
# International Affairs —- 20 Mark
# Geography, Environment and Disaster Management —- 10 Mark
# General Science —- 15 Mark
# Computer and Information Technology —- 15 Mark
# Mathematical Reasoning — 15 Mark
# Mental Ability —- 15 Mark
# Ethics, Values and Good governance —- 10 Mark

এই পরীক্ষায় নির্দিষ্ট কোন পাস মার্ক নেই। পিএসসি তাদের ইচ্ছামত একটা নির্দিষ্ট মার্ককে স্টান্ডার্ড ধরে লিখিত পরীক্ষার প্রার্থী বাছাই করে। যে মার্ককে স্টান্ডার্ড ধরে পিএসসি লিখিত পরীক্ষার প্রার্থী বাছাই করে সেটা আমাদের কাছে কাট মার্ক নামে পরিচিত। মনে রাখবেন, প্রিলিমিনারী পরীক্ষায় পাস মানে আপনি শুধু লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের টিকিট পেলেন। এই পরীক্ষার মার্ক মেধাতালিকা প্রনয়ণে কোন ভূমিকা রাখে না।

লিখিত পরীক্ষায় কী কী থাকে?
যারা প্রিলিমিনারী পরীক্ষার উত্তীর্ণ হবেন তারাই লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। আবেদন করার সময় আপনি যদি শুধু জেনারেল ক্যাডারে আবেদন করে থাকেন তাহলে আপনাকে মোট ৯০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ৯০০ নম্বরের মধ্যে সব বিষয় মিলিয়ে ৪৫০ নম্বর পেলেই আপনি ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন। জেনারেল ক্যাডারে যে বিষয়গুলোর উপর পরীক্ষা দিতে হবে তা নিম্নরূপ।
১। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
২। ইংরেজী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৬। সাধারণ বিজ্ঞান= ১০০ নম্বর

উল্লেখ্য, প্রতিটি ২০০ নম্বরের পরীক্ষার সময় ৪ ঘণ্টা এবং প্রতিটি ১০০ নম্বরের পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা। প্রতিটি বিষয়ে পাশ নম্বর ৩০% অর্থাৎ আপনাকে ২০০ নম্বরের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৬০ নম্বর এবং ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ন্যূনতম ৩০ নম্বর পেতে হবে। এখন কথা হলো, কেউ যদি কোন বিষয়ে ৩০% এর কম পান তাহলে তিনি কি ফেল করবেন? না, তিনি ফেল করবেন না। যে বিষয়ে তিনি ৩০% এর কম নম্বর পাবেন সেই বিষয়ের কোন নম্বর উনার মোট নম্বরের সাথে যোগ হবে না। মনে করুন, কোন পরীক্ষার্থী সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ২৯ নম্বর পেলেন, তাহলে উনার এই নম্বর বাকি পাঁচটা বিষয়ের মোট নম্বরের সাথে যোগ হবে না। ফলে সাধারণ বিজ্ঞানের এই ২৯ নম্বর বাদেই যদি পরীক্ষার্থী বাকি পাঁচটা বিষয়ে ন্যুনতম ৪৫০ নম্বর পান তাহলে তিনি ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন।

আবেদন করার সময় আপনি যদি শুধু টেকনিক্যাল ক্যাডারে আবেদন করে থাকেন তাহলেও আপনাকে মোট ৯০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। ৯০০ নম্বরের মধ্যে সব বিষয় মিলিয়ে ৪৫০ নম্বর পেলেই আপনি ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন। টেকনিক্যাল ক্যাডারে যে বিষয়গুলোর উপর পরীক্ষা দিতে হবে তা নিম্নরূপ।

১। বাংলা প্রথম পত্র= ১০০ নম্বর
২। ইংরেজী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৬। অনার্সে পঠিত বিষয়= ২০০ নম্বর

আবেদন করার সময় আপনি যদি জেনারেল ও টেকনিক্যাল উভয় (Both) ক্যাডারে আবেদন করে থাকেন তাহলে আপনাকে মোট ১১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। বোথ ক্যাডারে যে বিষয়গুলোর উপর পরীক্ষা দিতে হবে তা নিম্নরূপ।

১। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
২। ইংরেজী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৬। সাধারণ বিজ্ঞান= ১০০ নম্বর
৭। অনার্সে পঠিত বিষয়= ২০০ নম্বর

এখন কথা হলো, যারা শুধু জেনারেল বা টেকনিক্যাল ক্যাডারের জন্য পরীক্ষা দিবেন, তাঁরা ৯০০ নম্বরের পরীক্ষা দিবেন এবং ৪৫০ নম্বর পেলেই ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন। কিন্তু বোথ ক্যাডারদের তো ১১০০ নম্বরের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে সেক্ষেত্রে তাদের পাস মার্ক কত হবে?

বোথ ক্যাডারের ক্ষেত্রে প্রথমে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ৯০০ নম্বর বিবেচনায় নেয়া হবে। এই ৯০০ নম্বরের মধ্যে প্রার্থী যদি ৪৫০ পান, তাহলে তিনি জেনারেল ক্যাডারের ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন।

১। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
২। ইংরেজী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৬। সাধারণ বিজ্ঞান= ১০০ নম্বর

এরপর উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলোর মধ্যে থেকে বাংলা ২য় পত্র এবং সাধারণ বিজ্ঞানের মোট ২০০ নম্বর বাদ দিন। এর পরিবর্তে অনার্সে পঠিত বিষয়ের ২০০ নম্বর যোগ করুন। এবার নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ৯০০ নম্বরের মধ্যে প্রার্থী যদি ৪৫০ পান, তাহলে তিনি টেকনিক্যাল ক্যাডারের ভাইভার জন্য নির্বাচিত হবেন।

১। বাংলা প্রথম পত্র= ১০০ নম্বর
২। ইংরেজী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৩। বাংলাদেশ বিষয়াবলী প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (১০০+১০০)= ২০০ নম্বর
৪। আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী= ১০০ নম্বর
৫। গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা (৫০+৫০)= ১০০ নম্বর
৭। অনার্সে পঠিত বিষয়= ২০০ নম্বর
এভাবে তিনি একই সাথে জেনারেল ক্যাডার এবং টেকনিক্যাল ক্যাডারে ভাইভার জন্য নির্বাচিত হোন তখন আমরা বলি তিনি বোথ ক্যাডারে পাস করেছেন।

ভাইভায় কত নম্বর থাকে?
বিসিএস পরীক্ষার ভাইভায় ২০০ মার্ক থাকে। ৫০% মার্ক মানে ১০০ মার্ক পেলে আপনি পাস। ভাইভা বোর্ড সাধারণত একজন পিএসসি সদস্য, একজন যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও একজন একাডেমিক এক্সপার্ট মোট তিন জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়ে থাকে। প্রতিদিন এরকম প্রায় ১৪ টা বোর্ড হয়ে থাকে।

লেখক: ৩৬ তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ও সিনিয়র অফিসার, বিকেবি

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত