ঢাকা, সোমবার, ২১ মে ২০১৮, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ অাপডেট : ৯ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০১৮, ১৬:৪১

প্রিন্ট

উচ্চতর সনদের স্বীকৃতি মিলছে না প্রাথমিক শিক্ষকদের

উচ্চতর সনদের স্বীকৃতি মিলছে না প্রাথমিক শিক্ষকদের
অনলাইন ডেস্ক

স্বীকৃতি মিলছে না প্রাথমিক শিক্ষকদের উচ্চতর সনদের। স্নাতক (সম্মান) পাস করার পরও তাদের সনদ নেয়া হচ্ছে না। ভুক্তভোগী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী শিক্ষক এমনটি জানিয়েছেন।

তাদের মধ্যে একজন হলেন রাজধানীর খিলগাঁও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কাজী ফাহিমা আক্তার। তিনি জানান, ১৯৮৫ সালে ডিগ্রি পাস করে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০১১ সালে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার অনুমতির জন্য জেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন।

কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে সনদ গৃহীত হবে না- এই যুক্তিতে তার আবেদন মঞ্জুর করা হয়নি। তবে তিনি ২০১৩ সালে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৩ দশমিক ৮৫ পান। এরপর যোগাযোগ করলেও তার সনদ নেয়া হচ্ছে না। তাই সার্ভিস বুকে এখনও ডিগ্রি পাস হিসেবে রয়ে গেছেন এই শিক্ষক।

আরো খবর: শিক্ষিত বেকারের কষ্টের জীবন, রিমনের ব্যতিক্রমী সচেতনতা

শারমিন। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাই একাদশ শ্রেণির সনদপত্র দিয়েই তার শিক্ষকতা শুরু। তিন বছর পর স্নাতক পাস করলেও চাকরিবিধি অনুসারে নিয়মিত কোর্সের শিক্ষার্থী হওয়ার সুযোগ না থাকায় তার স্নাতকের সনদ জমা দিতে পারছেন না। ফলে কাগজ-কলমে এখনও এইচএসসি পাস রয়ে গেছেন তিনি। 

এই শিক্ষক বলেন, চাকরিরত অবস্থায় তো পরীক্ষা দেয়ার অনুমতি রয়েছে। তাহলে যারা চাকরিতে যোগদানের আগে স্নাতকের একাধিক বর্ষের পড়া শেষ করেন, তাদের অনুমতি কেন দেয়া হবে না। 

আরো খবর: হলের ফ্লোরে ফ্লোরে পাহারা বসিয়ে বের করে দেয়া হয় ছাত্রীদের

প্রাথমিক শিক্ষা অধিকার সুরক্ষা ফোরামের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ের ৮০ ভাগ শিক্ষক এ সমস্যায় আছেন। একটি অন্যায্য নীতিমালা করে এসব শিক্ষককে বঞ্চিত করা হচ্ছে। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক ইন্দ্র ভূষণ ভৌমিক জানান, যেসব শিক্ষক অনুমতি না নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের সনদের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, যেকোনো সরকারি চাকরিজীবীর নিয়মিত শিক্ষা কোর্সে অংশ নিতে আগে অনুমতি লাগবে। প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য। অনুমতি চাইলে দেয়া হয় না- এ রকম কোনো নজির আমার জানা নেই। 

জেডএইচ/

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত