ঢাকা, রবিবার, ২০ মে ২০১৮, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ অাপডেট : ৩ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৮, ১২:২৩

প্রিন্ট

কোটা সংস্কার আন্দোলন নেতাদের হত্যার হুমকি

কোটা সংস্কার আন্দোলন নেতাদের হত্যার হুমকি
ঢাবি প্রতিনিধি

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ-এর যুগ্ম-আহ্‌বায়ক নূরুল হক নূরু এবং যুগ্ম-আহ্‌বায়ক রাশেদ খানকে গুলি করে মারার হুম‌কি দি‌য়ে‌ছে ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা।

মঙ্গলবার (১৫মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহাম্মদ মহসীন হলের ১১৯ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে তাদের এ হুমকি দেয়া হয় বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে ঢাবির মহসীন হলে নূরুল হক নূরুর ১১৯ নম্বর কক্ষে যায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বাপ্পী বুলবুল, মহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, চারুকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম লিমন এর নেতৃত্বে ১৫/২০ জন। সে সময় নুরুল হক নূরের রুমে অবস্থান করছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেক যুগ্ম আহ্‌বায়ক রাশেদ খান।

এই সময় নূর ও রাশেদকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী হুমকি দিতে থাকেন। নূর ও রাশেদকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলতে থাকেন, তোরা সরকারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন করছিস। তোদের একটাকেও ছাড়া হবেনা। প্রজ্ঞাপনটা জারি হলে তোদের 'কুত্তার মতো পেটানো হবে'। কুকুরের মতো গুলি করে রাস্তায় মারা হবে। তোরা কেউ বাচঁবিনা। বেশি বাড়াবাড়ি করিসনা। শেষবারের মতো মা-বাবার দোয়া নিয়ে নিস।

এই সময় মহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী ও চারুকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম লিমন তাদের উপর হামলা করার জন্য উদ্যত হয়। তবে অন্যরা তাতে বাধা দিয়ে তাদের নিবৃত্ত করে। 

সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলে ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পীকে নূরুল হক নূরের প্রতি আগ্রাসী হতে দেখা যায়। তাকে বলতে শোনা যায়, 'কেবল আমার হাতটা বাধারে নুর, না হলে তোকে ৩০ সেকেন্ডে...।'

এ সময় মেহেদী হাসান সানী নূরকে 'নেড়ি কুত্তার মতো পিটিয়ে' তারপর বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে যাবেন বলে হুমকি দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নূরুল হক নূরু বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী প্রথমে আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, তোদের মতো পোলাপানকে খেয়ে দিতে দুই সেকেন্ডও লাগেনা। তোগোরে গুলি কইরা মারি নাই শুধু কিছু সিনিয়রের নিষেধ ছিল। তা না হলে তোদের মতো কুলাঙ্গারদের রাখতাম না এই দেশে। প্রজ্ঞাপনটা জারি হোক। দেখি কোন বাপ তোদের বাঁচায়। এ কথা বলার ১০ মিনিট পরে রুমে পিস্তল নিয়ে এসে বলে, তোরা মা-বাবা থেকে দোয়া নিয়ে নে। তোদের গুলি করে মারবো। তারা বারবার আমাকে আর রাশেদকে মারতে আসে। আন্দোলনের আহ্‌বায়ক হাসান আল মামুন, আশিকসহ কয়েকজন আমাদেরকে বাঁচিয়েছে। আমরা এখন জীবননাশের হুমকির মুখে আছি। ত‌বে হুম‌কি দিয়ে শিক্ষার্থী‌দের যৌ‌ক্তিক দা‌বি থে‌কে তাদের সরানো যাবে না বলেও জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইমতিয়াজ বাপ্পী বলেন, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং য‌দি ব‌লি তারাই আমা‌দের হুম‌কি দি‌য়ে‌ছে?

এ বিষ‌য়ে জানতে মুহসীন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, কেন্দ্রীয় সভাপ‌তি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জা‌কির হোসাইনকে একা‌ধিকবার ফোন করা হলেও তারা রি‌সিভ ক‌রেন‌নি।

জান‌তে চাইলে বিশ্ববিদ্যাল‌য়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড এ কে এম গোলাম রব্বা‌নী ব‌লেন, আমরা ঘটনা‌টি শু‌নে‌ছি। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসএস

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত