ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ আগস্ট ২০১৮, ২ ভাদ্র ১৪২৫ অাপডেট : ৬ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ২১ মে ২০১৮, ১৫:৫২

প্রিন্ট

এসএসসির পুনর্নিরীক্ষার ফল ৩১ মে

এসএসসির পুনর্নিরীক্ষার ফল ৩১ মে
অনলাইন ডেস্ক

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পুনর্নিরীক্ষার ফল আগামী ৩১ মে দেশের সকল বোর্ডের নিজেস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। ফল পুনর্নিরীক্ষার পর যাদের ফলে পরিবর্তন এসেছে শুধুমাত্র তাদের ফল প্রকাশ করা হবে। বাকিদের ফল অপরিবর্তিত থাকবে। 

গত ৬ মে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গত নয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম পাস করেছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এবার ১০টি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে ২০ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৪ জন অংশগ্রহণ করে পাস করেছে ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ১০৪ জন। শতকরা পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭। জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। 

চার লাখ ১৪ হাজার ৫১৬টি ফল চ্যালেঞ্জ আবেদন করেছেন লাখো শিক্ষার্থী। আবেদনের শীর্ষে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড। বিষয়ভিত্তিক আবেদনের শীর্ষে গণিত ও ইংরেজি। এ দুটি বিষয়ে বেশি ফেল করায় এবার পাসের হার বিগত বছরের তুলনায় দুই দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে। শিক্ষাবোর্ড সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার পাসের হার কমেছে। তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ায় আবেদনের সংখ্যাও বেড়েছে। আগে পরীক্ষার্থীর বিষয় ভিত্তিক নম্বর দেখতে পারতেন না। হাইকোর্টের নির্দেশে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এবার গণিত ও ইংরেজিতে পাসের হার কম হওয়ায় এ দুটি বিষয়ে আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীর ৭৯, ৬৯ ইত্যাদি নম্বর পেয়েছে। তাদের আবেদনের সংখ্যাও প্রচুর। এসব কারণে আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে।’  

সোমবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এক কর্মকর্তার কক্ষে কথা হয় রাজধানীর হলিক্রস থেকে এবার এসএসসি পাস করা এক ছাত্রীর অভিভাবক তামান্না ইসলামের সঙ্গে। আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে গণিত ছাড়া সব বিষয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। গণিতে এমসিকিউ ৩০ নম্বরের মধ্যে ৩০ পেলেও সৃজনশীল অংশে ৭০ নম্বরের মধ্যে ৪৮ নম্বর পেয়েছে। দুই নম্বরের কারণে সব বিষয়ে জিপিএ-৫ না পাওয়ায় পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করিয়েছি।’ 

তার মতো আরও অনেক অভিভাবকের শিক্ষার্থীরা এবার বিষয়ভিত্তিক ৭৯ পেয়েছে। বিগত দিনে এক নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে জিপিএ-৫ করে দিতো পরীক্ষকরা। কিন্তু গত বছর থেকে সমতার ভিত্তিতে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করায় এই সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলন করার প্রস্তুতি নিয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।   

বিভিন্ন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকরা জানিয়েছেন, পুনঃনিরীক্ষণে সাধারণত চারটি বিষয় দেখা হয়। এগুলো হলো, উত্তরপত্রে সব প্রশ্নের সঠিকভাবে নম্বর দেওয়া হয়েছে কী না, প্রাপ্ত নম্বর গণনা ঠিক হয়েছে কি না, প্রাপ্ত নম্বর ও এমআর শিটে উঠানো হয়েছে কি না এবং প্রাপ্ত নম্বর অনুযায়ী ওএমআর শিটে বৃত্ত ভরাট সঠিকভাবে করা হয়েছে আছে কি না। এসব বিষয় পরীক্ষা করেই পুনঃনিরীক্ষার ফল দেওয়া হয়। তার মানে কোনো শিক্ষার্থীর খাতা পুনরায় মূল্যায়ন হয় না। এরপরও এত শিক্ষার্থীর ফল পরিবর্তনের আবেদন রীতিমতো তুঘলগিকাণ্ড আখ্যায়িত করে শিক্ষাবিদরা বলেন, বোর্ডের প্রশ্ন পদ্ধতি ও খাতা দেখার নানা ত্রুটির কারণে দিন দিন ফল চ্যালেঞ্জ করার সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে এবার নতুন পদ্ধতিতে খাতা মূল্যায়ন এবং নম্বর দেখার সুযোগ পাওয়ায় এ সংখ্যা বেড়েছে। 

সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বোর্ডের ৬৩ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী এক লাখ ৪১ হাজার ৪০০ বিষয়ে ফল চ্যালেঞ্জ করে আবেদন করেছে। আবেদনের শীর্ষে রয়েছে গণিত ও ইংরেজি। রাজশাহী বোর্ডে ২১ হাজার ১৭৬ শিক্ষার্থী ৪০ হাজার ৯৬৮টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে সাত হাজার ২৬২ জন, ইংরেজি ১ম পত্রে তিন হাজার ২৪১ ও দ্বিতীয় পত্রে দুই হাজার ৮৬৪জন। দিনাজপুর বোর্ডে ১৭ হাজার ৮০৮ জন শিক্ষার্থী ৩৪ হাজার ৮৫৩টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এ বোর্ডেও আবেদনের শীর্ষে গণিত। এ বিষয়ে আবেদনের সংখ্যা ছয় হাজার ২০৬টি। ইংরেজি ১ম পত্রে তিন হাজার ১৯৫ ও দ্বিতীয় পত্রে দুই হাজার ৯০৪ জন আবেদন করেছেন।

কুমিল্লা বোর্ডে ১৬ হাজার ৮৩৭ জন ৩৬ হাজার ৭৮৪টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে চার হাজার  ৯১১ জন। ইংরেজি ১ম পত্রে চার হাজার ৫৫২ জন ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার সাত জন। বরিশাল বোর্ডে ১৬ হাজার ৮৩৭ শিক্ষার্থী ২২ হাজার ১৫২ বিষয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে গণিতে চার হাজার ৯১১ জন। ইংরেজি ১ম পত্রে চার হাজার ৫৫২ ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার সাত জন আবেদন করেছে। চট্টগ্রাম বোর্ডে ২৩ হাজার ৩৮০ জন শিক্ষার্থী ৫৩ হাজার ৫৩০টি বিষয়ে আবেদন করেছে। এ বোর্ডে গণিতে সাত হাজার ৫৫ জন। ইংরেজি ১ম পত্রে পাঁচ হাজার ৭৮২ ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার ৬৫৪ জন আবেদন করেছেন। সিলেট বোর্ডে ১০ হাজার ৬৭৮ শিক্ষার্থী ২০ হাজার ৪৫৭টি আবেদন করেছেন। এর মধ্যে গণিতে পাঁচ হাজার ৯৫ জন। ইংরেজিতে তিন হাজার ৫০৩ জন আবেদন করেছেন। যশোর বোর্ডে ১৯ হাজার ৪১১ শিক্ষার্থী ৩৮ হাজার ৫৩টি বিষয়ে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে গণিতে পাঁচ হাজার ৫৭৯টি। ইংরেজি ১ম পত্রে চার হাজার দুটি ও দ্বিতীয় পত্রে তিন হাজার ৬৮০টি। মাদ্রাসা বোর্ডে ২১ হাজার ৭৫৬ শিক্ষার্থী ৩৫ হাজার ৮৮৯টি বিষয়ে আবেদন করেছেন। এ বোর্ডেও ফল চ্যালেঞ্জের শীর্ষে গণিত। আবেদনের সংখ্যা ১১ হাজার ৭৯৩টি। ইংরেজিতে ১৮৪৭টি। গত বছর ফল চ্যালেঞ্জ করে দুই লাখ ৬৬ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল।  

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা তারা আরও ভালো ফলাফল করতেন। এ চিন্তাভাবনা থেকেই তারা আবেদন করেন। এ বছর পাসের হার কমেছে। গণিত ও ইংরজি বিষয়ে ফলাফল খারাপ হওয়ায় বিষয় ভিত্তিক আবেদনের সংখ্যা বেড়েছে। তবে গতবছরের তুলনায় আবেদকারীর সংখ্যা কমেছে।’

রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পরীক্ষার্থী হয়তো মনে করেছে আমাদের বোর্ড সব সময়ে ভালো ফলাফল করে। তারপরেও আমরা ফেল করেছি কেন- এ চিন্তাভাবনা থেকে হয়তো আবেদন করেছে। তারা মনে করে আবেদন করলেই ফল পরিবর্তন হয়। আসলে বিষয়টি তা নয়; শুধু উত্তরপত্র মূল্যায়নে যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল হয়েছে কিনা এসব দেখা হয়।’ 

বাংলাদেশ জার্নাল/এসকে

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত