ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ অাপডেট : ৫ মিনিট আগে English

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ১৯:২৮

প্রিন্ট

‘তাজউদ্দীন আহমেদকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়’

‘তাজউদ্দীন আহমেদকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়’
ঢাবি প্রতিনিধি

যিনি ইতিহাসের সঙ্গে যান তাকে কখনও বর্জন করা যায় না। তাজউদ্দীন আহমদ ইতিহাসের গতিপথকে সচেতনভাবে অনুসরণ করে ইতিহাসের সঙ্গে গেছেন। তাই আমরা তাকে বর্জনের চেষ্টা করতে পারি কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতার ইতিহাস লেখা যাবে না। বঙ্গবন্ধু জাতির জনক কিন্তু তার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। বর্তমান তাকে উপেক্ষা করতে পারে কিন্তু ভবিষ্যতের পক্ষে তাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘তাজউদ্দীন আহমদ: এক তরুণের রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতায় অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন এসব কথা বলেন।

তাজউদ্দীন আহমদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও তাজউদ্দীন আহমদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ডের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। বিশেষ অতিথি হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে ও সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

‘তাজউদ্দীন আহমদ: এক তরুণের রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তাজউদ্দীন আহমদের বড় মেয়ে শারমিন আহমদ। এসময় বিএসএস সম্মান শ্রেণীতে সর্বোচ্চ ফল করায় শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের আফতাব নামে এক শিক্ষার্থীকে শান্তি স্বর্ণপদক ও নওশীন আকন্দ নামে এক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়। এছাড়াও এক তাজউদ্দীন আহমেদ স্মৃতি রচনা প্রতিযোগিতায় পাঁচ বিজয়ীকে পুরস্কার দেয়া হয়।

স্মারক বক্তৃতায় অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন বলেন, বাংলাদেশ আন্দোলন বিবেচনা করলে প্রথমেই আসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা। তারপর তার ছায়াসঙ্গী তাজউদ্দীন আহমদের কথা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় পঞ্চাশ বছর পর দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় তাদের সম্পর্কে আমাদের জানার পরিধি অনেক কম। তাজউদ্দীন আহমদের মতো সহিষ্ণু ও আবেগ নিয়ন্ত্রিত এমন নেতা নেই। বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীন ছিলেন একে অপরের পরিপূরক। একারণেই অল্প সময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম।

অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে গেলে স্বাভাবিকভাবেই তাজউদ্দীন আহমদের নাম সামনে আসে। কেননা তার জন্মই হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করার জন্য। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আর যে ব্যক্তিটি তার প্রজ্ঞা, মেধা ও বুদ্ধি দিয়ে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিলেন তিনি হলেন তাজউদ্দীন আহমদ। তিনি আজীবন তার আদর্শে অটল ছিলেন। নীতির সঙ্গে কখনো আপোষ করেনি।

সিমিন হোসেন রিমি বলেন, পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা অসুন্দরকে সুন্দর করে তোলেন। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন এমনই একজন মানুষ। তিনি তার মেধা দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ জার্নাল/এনএইচ

  • সর্বশেষ
  • পঠিত
  • অালোচিত